জসীম উদদীন বাংলা সাহিত্যের একজন অন্যতম প্রধান কবি। জন্ম ফরিদপুরে। জন্ম তারিখ জানা যায় না। তবে ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি তাঁর জন্মদিন বলে ধরা হয়।
তিনি মূলত কবিতা লিখেছেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭)। অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ 'নকসীকাঁথার মাঠ' (১৯২৯), 'বালুচর' (১৯৩০), 'সোজন বাদিয়ার ঘাট' (১৯৩৪)। তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
জসীম উদদীনের কবিতাকে সাহিত্য সমালোচকেরা দুইভাগে ভাগ করেন- এক. খণ্ডকাব্য, দুই. কাহিনীকাব্য। 'রাখালী' খণ্ডকাব্যের উদাহরণ, আর 'নকসীকাঁথার মাঠ' কাহিনীকাব্যের অন্তর্গত।
পদ্য ছাড়া গদ্য রচনাতেও জসীম উদদীন ছিলেন সিদ্ধহস্ত। তিনি একটি উপন্যাস 'বোবা কাহিনী' (১৯৬৪), নাটক 'বেদের মেয়ে' (১৯৫১), 'মধুমালা (১৯৫১), 'পল্লীবধূ' (১৯৫৬), 'গ্রামের মায়া' (১৯৫৯), ভ্রমণকাহিনী 'চলে মুসাফির' (১৯৫১), 'হলদে পরীর দেশ' (১৯৬৭), 'যে দেশে মানুষ বড়' (১৯৬৮), স্মৃতিকথা 'যাঁদের দেখেছি' (১৯৫২), 'ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়' (১৯৬১), 'জীবনকথা' (১৯৬৪)। তাঁর সংগৃহিত গানের সংকলন হল 'রঙিলা নায়ের মাঝি' (১৯৩৫)।
জসীম উদদীনের বই বিদেশী ভাষায় অনূদিত হয়েছে। 'নকসীকাঁথার মাঠে'র অনুবাদ করেছেন ই এম মিলফোর্ড। নাম The Field of Embroidered Quilt (১৯৩৯)। বারবারা পেইন্টার ও ইয়ান লাভলক 'সোজন বাদিয়ার ঘাটে'র অনুবাদ করেন Gipsy Wharf (১৯৬৯) নামে।
২.
হুমায়ুন কবির মনে করতেন, জসীম উদদীনের প্রধান কৃতিত্ব দেশের গণ-মানসের অন্তর্নিহিত শক্তিকে কাব্যে রূপান্তর করা। তবে এই শক্তি পশ্চাত্মুখী বলে জসীম উদদীন সাহিত্যের নতুন নতুন রাজ্যজয় করতে পারেননি।
সলিমুল্লাহ খান মনে করেন, জসীম উদদীনের কবিতা আকারের দিক থেকে রক্ষণশীল হলেও বাসনার দিক থেকে প্রগতিশীল।
হাসান হাফিজুর রহমান মনে করতেন, জসীম উদদীন লোকসাহিত্যের রূপটি আধুনিক সাহিত্যে পুনঃস্থাপন করেছেন।
দুসান জবাভিতেল বলেছিলেন, জসীম উদদীন পল্লীকবিতা লেখেননি, পল্লী সম্পর্কে কবিতা লিখেছেন।
৩.
জসীম উদদীনকে নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে মত আছে। আমাদের এই আয়োজনের উদ্দেশ্য জসীম উদদীন পাঠ করা এবং তাঁর সম্বন্ধে প্রচলিত বিচার-বিবেচনাকে পুর্নবিশ্লেষণ ও পুর্নবিবেচনা করা।

