শিল্প

S
suhag002

বর্তমানে বাংলাদেশে এই শিল্পের বেশ প্রচলন হয়েছে। নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়েও বাজারে বিক্রি হচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে এর কদর বেড়েছে। এই ধরনের লোকশিল্প রপ্তানি করে আমাদের দেশে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে। সূচিশিল্প সাধারণত গ্রামের মেয়েরাই বেশি করে থাকে। এই শিল্প আমাদের সৌন্দর্যবোধের মান উন্নয়ন করে এবং প্রয়োজনও মেটাতে সাহায্য করে। সুই সুতার কাজ করা রুমাল, টেবিলের কাপড়, শাড়ি, কামিজ, ওড়না, প্যান্ট, ছোট শিশুদের ফ্রক, পর্দা ইত্যাদি দেখতে খুবই সুন্দর। আমরা নিজেরাও এ ধরনের জামা-কাপড় পরতে খুব পছন্দ করি। তাই এই শিল্প শিখে নিজ নিজ প্রয়োজন মিটিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারব। সেলাই ফোঁড়ের কাজের প্রধান বিষয় হলো নানা ধরনের ফোঁড় ও নানা রঙের সুতার যথাযথ ব্যবহার।

 

সরু ও মোটা নানা ধরনের সুই। সাদা ও রঙিন সুতা বা উল। কাপড়ে দাগ দেওয়ার জন্য পেনসিল। প্রয়োজনমতো কাপড় অথবা চট। একটি ছোট কাঁচি। একটি ফ্রেম (সুঁই-সুতায় সেলাই করার জন্য)। একটি বাক্স বা কোঁটা। কাপড়ে মাপ দেওয়ার জন্য স্কেল বা মাপ দেওয়ার ফিতা। উপকরণ কিরণ রাখার জন্য হলো।রানিং ফোঁড় বা রান সেলাই বিভিন্ন ফোঁড়ের মধ্যে রানিং ফোঁড় বা রান সেলাই সবচেয়ে সহজ। যে কাপড়ের ওপরে সেলাই করব সেটিকে বাঁ হাত দিয়ে একটু উঁচু করে ধরে ডান হাতে সুঁই নিয়ে সেলাই করব। কাপড় বাঁ হাতের ওপরে রেখে বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে অবশিষ্ট চারটি আঙ্গুলের উপর কাপড়খানাকে চেপে ধরি, ডান হাতে সুই ধরে, একবারে ৩ থেকে ৪টি ফোঁড় করা যাবে। তবে প্রতিবারই ৩-৪টি ফোঁড় দেবার পর, সুতা টেনে সেলাইটি শক্ত করে নেব। রানিং ফোঁড় শেখার জন্য সাদা কাপড় হলে রঙিন সুতা, রঙিন কাপড় হলে সাদা সুতা ব্যবহার করব। কারণ এতে সেলাই সোজা ও সমান হচ্ছে কিনা তা সহজেই বুঝতে পারব। এই ফোঁড় দিয়ে যেমন রেখা সেলাই করা যায়, তেমনি ভরাট সেলাইও করা যায়। নকশিকাঁথায় রানিং ফোঁড় বহুলভাবে ব্যবহার করা হয়।

Comments