ভ্রমণ করা ইসলামের দৃষ্টিতে

S
suhag002
আসসালামু আলাইকুম আপনারা সবাই কেমন আছেন আশা করি ভাল আছেন আমিও আপনাদের দোয়ায় খুব ভালো আছি আমি আপনাদের সামনে আজ ভ্রমণ নিয়ে কিছু কথা বলবো
আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম ভ্রমণ পছন্দ করতেন আর আমরা তার উম্মত আমরা তো অবশ্যই ভ্রমণ অনেক পছন্দ করি ভ্রমণের সম্পর্কে আপনাদের কুরআনে উল্লেখ করা আছে ভ্রমণ কার ভালো আমরা সারাদিন কাজকর্ম করি আর আমার কাজকর্ম করার পরে কিছুদিন পরে যদি একটু ভ্রমণ হয়ে যায় তাহলে অবশ্যই ভালো লাগে বন্ধুদের সাথে একসাথে মিলে ভ্রমণ করার মজাই আলাদা সাধারণত আমাদের দেশে ভ্রমণটা হয়ে থাকে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে এই সময়টা খুব ভালো থাকে কোন মেঘ বৃষ্টি ঝড় বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায় না তাই ভ্রমণের সবচেয়ে ভালো একটি সময় জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি মাসে এ সময় দেখা যায় অনেক অনেক দূর থেকে ভ্রমণে মানুষ চলে যায় আমারও খুব ভালো লাগে

 

 আমি আমার জীবনে অনেক জায়গায় ভ্রমণ করেছি আমার বন্ধুদের সাথে নিয়ে ভ্রমন করেছি অবশ্যই ভ্রমণের সময় বন্ধুরা কাছে না থাকলে ভ্রমণটাই যেন বৃথা বেশ কিছুদিন আগে আমি ভ্রমণে গিয়েছিলাম বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক আমরা দশ পনের জন বন্ধু মিলে গিয়েছিলাম আমাদের এখান থেকে রাত্রে একটার দিকে গাড়ি ছেড়েছিল যেতে যেতে আমাদের সকাল হয়ে গেছিল তারপর বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক যে সেখান থেকে টিকিট কাটলাম টিকেট কাটার পরে আটটা নয়টার দিকে খাবার খেয়ে আমরা তারপর ঢুকে পড়লাম বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ভিতর জায়গাটা খুবই সুন্দর ছিল পশুপাখি জীবজন্তু দেখা যেত আমার মনে নেই হোটেলের ভিতরে ঢুকে খাবার খেলে ভাগ দেখা যায় আমি আমরা সবাই মিলে সেই হোটেলের ভিতরে ঢুকলাম ঢোকার পর কিছু খাবার অর্ডার দিলাম খাবার খেতে খেতেই দেখা যাচ্ছে সামনে এক ভাগ ঘোরাঘুরি করছে আমরা দেখে খুব ভাল লেগেছিল তারপর আরেকটি পাশেই চারিপাশে আরেকটি হোটেল ছিল সেটা সিংহর নামে একটি হোটেল সেখানেও ঢুকে ঢুকলে খাবার খেলে দেখা যায় সিংহ সিংহ কে দেখা যায় এরপর বাহিরে বের হয়ে আসলাম কিছুক্ষণ পরেই এই বড় অজগর সাপ দেখতে পেলাম তারপর আবার পাশে একটা পুকুর ছিল সেই পুকুরে কচ্ছপ কাছিম দেখা যেত আমি আসলে আগে কখনো এসব প্রাণীদের দেখি নাই বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক যাওয়ার পরে এসব আমি দেখতে পেলাম আমার দেখে খুব ভাল লেগেছিল তারপর সারাদিন ঘোরাঘুরি করে একটু ক্লান্ত হয়ে পড়লাম বিকেল দিকে একটি জায়গায় বসে হালকা শরবত খেলাম আমরা সবাই মিলে তারপর আরো একটু ঘোরাঘুরি করে চলে আসলাম আমাদের গাড়ি যেখানে সেখানে চলে আসলাম আমরা সবাই তারপর কিছু কিনাকাটা করলাম সে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের গেটের সামনে কিছু দোকান ছিল সেখান থেকে আমরা কিছু কিনাকাটা করলাম কেনাকাটা করার পরে সন্ধ্যা হয়ে আসছিল তখন আমাদের গাড়িটা ছাড়ার সময় হয়েছিল আমাদের যে বড় ভাই ছিল তারা আমাদেরকে সবাইকে বলল তোমরা সবাই গাড়ীতে চলে যাও কিছুক্ষণের মধ্যেই গাড়ি ছেড়ে দিব তারপর আমরা গাড়িতে গিয়ে বসলাম তারপর একঘন্টা পরে আমাদের গাড়ি ছেড়ে দিল আমি গাড়ির জানালা দিয়ে তাকিয়ে রয়েছি আমার জায়গাটা কে খুব মনে পড়ছে আমার ইচ্ছে হচ্ছে যদি আমি এই জায়গায় থাকতে পারতাম তাহলে কত না ভালো হতো প্রতিদিন নানান ধরনের পশুপাখি জীবজন্তু দেখতে পারতাম আমার আসলেই জীবজন্তু পশুপাখি দেখতে খুবই ভালো লাগে আর একটা কথাই মনে পড়ে আল্লাহর কত সৃষ্টি সবকিছু সৃষ্টি মানুষের জন্য করা হয়েছে কোন না কোন ভাবেই আমাদের উপকৃত হয়

 

এক্ষেত্রে অবশ্যই নিজেকে সতর্ক রাখতে হবে কারণ আমরা একটা কথা বললে চলবে না যে একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না ভ্রমণ করতে গিয়ে যদি কোন রকমের দুর্ঘটনা হয় তাহলে আমাদের সারা জীবন আফসোস করতে হবে তাই আমাদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাত্রাপথে বায়ুর ভ্রমণের সময় ঘুরাঘুরি করার সময় সতর্ক ভাবে চলাফেরা করতে হবে যেন কোনো সমস্যা না হয় এই আনন্দের মুহূর্তে যদি কোন একটা বিপদ ঘটে যায় তাহলে আমাদের আনন্দটাই মাটি হয়ে যাবে যেমন যাত্রাপথে ঘোড়াগুলির প্রতি যদি কোন দূর্ঘটনা হয় সেটা খুব দুঃখজনক ব্যাপার আর ভ্রমণের ক্ষেত্রে যদি কোন সময় একটি দুর্ঘটনা হয় তাহলে সারাজীবন দেখা যাবে আপনার ভ্রমণ করতে যেতে পারবেন না হয়তো ফ্যামিলির দিকে চাপ থাকবেই বা নিজের মনে মনে একটা সন্দেহ বা দুশ্চিন্তা থেকে যাবে এর আগেরবার আমি নিজে আমার খুব বড় একটা ক্ষতি হয়েছে তাই আপনার ভ্রমণের ক্ষেত্রে এসব বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন ইনশা-আল্লাহ আল্লাহপাকের দোয়ায় কোন রকম সমস্যা হবে না

 

সকলেই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এবং নতুন কোন জায়গায় ভ্রমণ করবেন দেখবেন মনটা ফ্রেশ হয়ে যাবে আসল কথা হচ্ছে সব সময় কাজ করতেও ভালো লাগেনা আমাদের প্রত্যেকের উচিত আলাইকুম

Comments