জনসংখ্যার সমস্যা,
আমাদের দেশে অনেক সমস্যা রয়েছে তাদের মধ্যে কিছু বড়, কিছু ছোট, কিছু সমাধানযোগ্য এবং কিছু সমাধান যোগ্য নয় কিন্তু যাই হোক সমস্যা সমস্যাই হয় শুধুমাত্র এদেরকে কেবল পৃথক করা যায় । আমাদের দেশের কিছু বড় বড় সমস্যা হচ্ছে বাল্যবিবাহ পানির সমস্যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা খাদ্য সমস্যা আর এসব কে ছাড়িয়ে সবচাইতে বড় সমস্যা হচ্ছে জনসংখ্যা সমস্যা। বর্তমানে আমাদের দেশের জনসংখ্যা 17 কোটিরও বেশি যেখানে আমাদের দেশের আয়তন মাত্র 1 লক্ষ 47 হাজার 570 বর্গ কিলোমিটার । এত কম আয়তনের একটি দেশে এত বেশি জনসংখ্যা সত্যিই একটি চিন্তার বিষয়। জনসংখ্যা চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কারণ আমরা জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারছিনা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এটি মানা হয় যে যে দেশের জনসংখ্যা যত বেশি সেই দেশ অর্থনৈতিকভাবে কত দ্রুত এগিয়ে যাবে কিন্তু আমাদের দেশে এর পুরোটা ব্যতিক্রম বলতে গেলে আমাদের দেশে জনসংখ্যা মাথাব্যথার সবচাইতে বড় কারন।
জনসংখ্যা আমাদেরকে সকল দিক থেকে সমস্যার মধ্যে জাপ্টে ধরছে'। অতিরিক্ত জনসংখ্যা হয় আমরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি আমি তার নিচে উল্লেখ করার চেষ্টা করলাম,
*আবাদি জমির সমস্যা: প্রথমত আমরা জনসংখ্যার ফলে যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে সেটা হচ্ছে আমাদের আবাদি জমির পরিমাণ কমেছে। প্রতিবছর আমাদের আবাদি জমি ভাগাভাগি হয়ে যায় সেইসাথে অতিরিক্ত জনসংখ্যার ফলে অতিরিক্ত আবাসস্থল এর প্রয়োজন হয়। আর এই কারনেই আবাদী জমিতে অনেকে বাসস্থান বানাচ্ছে সত্যিই চিন্তার বিষয়।
*আবাসস্থল সমস্যা: অতিরিক্ত বাসস্থানের জন্য অতিরিক্ত কাঠ বাস ইত্যাদি প্রয়োজন। মূলত এ কারণেই অতিরিক্ত পরিমাণ বৃক্ষ নিধন হচ্ছে। তাছাড়া বলা যায় অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য অতিরিক্ত বাসস্থান এর প্রয়োজন হচ্ছে আর এই জন্য মানুষ যথারীতি বৃক্ষ নিধন করছে এটা সত্যি আমাদের দেশে সবচাইতে বড় চিন্তার বিষয় ।কারণ বৃক্ষ নিধনের ফলে আমরা খুব তাড়াতাড়ি অক্সিজেন সংকটে পড়বো।
*পরিবেশ দূষণ: এটি একটি জানা বিষয় যে অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য পরিবেশ দূষণ অতিরিক্তভাবে হচ্ছে আস্তে আস্তে মানুষ বস্তি তে বসবাস করতে শুরু হচ্ছে যেটা আসলে মানবেতর জীবনযাপন । আজকাল প্রত্যেকটা জায়গায় নোংরা দেখা যায় আমরা যেখানে সেখানে আমাদের অপ্রয়োজনীয় বস্তুগুলো ফেলে পরিবেশ নোংরা করি আসলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ এই সমস্যাটি আরো প্রবলভাবে দেখা দিয়েছে।
*বেকার সমস্যা :জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে আরো একটি ব্যাপক চিন্তার মত সমস্যা হচ্ছে বেকারত্ব সমস্যা। বলা হয়ে থাকে একটি দেশের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হচ্ছে সে দেশের যুবক জনসমষ্টি। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দেশে প্রচুর পরিমাণ যুবক বেকার যাদের সরকারি চাকরির ব্যবস্থা সরকার করতে পারছেন না। এই বেকারত্ব সমস্যা আমাদের দেশের যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে
*মাদকাসক্তি: আগেই বলা হয়েছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক পরিমাণে বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে আর এইসব বেকার জনগোষ্ঠীর নিজের জীবনের হতাশার কারণে বিভিন্নভাবে মাদকাসক্তির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। সত্যি বলতে কি আমাদের দেশের যুবসমাজ ব্যাপকভাবে মাদকাসক্তির সাথে সম্পৃক্ত যেটা আসলে আমাদের চিন্তার বিষয়। যে যুবসমাজকে মনে করা হচ্ছে দেশ গঠনের কারিগর তারাই যদি এইভাবে নেশা গ্রস্ত থাকে তাহলে কখনই সেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। যুবসমাজ মাদকাসক্ত হওয়ার ফলে তারা বিভিন্ন পরিমাণ অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে যার প্রভাব পড়���ে সরাসরি আমাদের সমাজের উপর আবার এরা নিজেদের পরিবারের জন্য হুমকি স্বরূপ একটি পরিবারকে শেষ করে দেওয়ার জন্য শুধুমাত্র একটি মাদকাসক্ত ব্যক্তির প্রয়োজন আমাদের এইসব ব্যাপারে আরো সতর্ক হতে হবে।
এখন আলোচনা করা যাক আমরা কিভাবে এই জনসংখ্যা সমস্যা সমাধান করতে পারি মূলত জনসংখ্যা সমস্যা সমাধান করার জন্য আমাদের প্রধানত সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে এবং গ্রামের মানুষজন জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত নয়। যদিও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রত্যেকটি এলাকায় এলাকায় একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেছেন তারপরেও বলা যেতে পারে পর্যাপ্ত পরিমাণ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি জ্ঞান এখনো গ্রামের জনগোষ্ঠীর মধ্যে নেই। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি টা যদি ব্যাপকভাবে প্রচার ও প্রসার করানো যায় তাহলে আমাদের দেশে জনসংখ্যা অনেকাংশে কমে আসবে। দ্বিতীয়তঃ আমাকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি পাশাপাশি করতে হবে যেন আমরা জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারে বেকারদের চাকরীর ব্যবস্থা করতে হবে এবং চাকরির ব্যবস্থা করতে না পারলে তারা যেন নিজের নিজের স্বনির্ভর হয়ে গড়ে উঠতে পারে এই সব ব্যবস্থা সরকারকে নিতে হবে। অন্যান্য দেশে যেটা দেখা যায় যে সরকার যদি কোনো বেকারকে চাকরি দিতে না পারে তাহলে সরকার তাকে ভাতা প্রদান করে আমাদের দেশে এরকম ব্যবস্থা প্রচলন করা যেতে পারে কিন্তু আমাদের দেশের যুবকদের আরো সচেতন হতে হবে তারা শুধুমাত্র সরকারি চাকরির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে যেটা মোটেও উচিত নয় একটা মানুষ মানুষের জন্য অনেক পদ্ধতি অনেক রাস্তা আছে শুধুমাত্র সরকারি চাকরির উপর নির্ভর করে নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার চাইতে নিজে নিজে কিভাবে আত্মনির্ভরশীল হওয়া যায় এই ব্যাপারে সবাইকে চিন্তা করা উচিত । দারিদ্রতা কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ কিভাবে দারিদ্র্যমুক্ত থাকা যায় এ ব্যাপারে আমাদের সচেতন হতে হবে বাংলাদেশের গ্রাম সমাজে দেখা যায় মেয়েদের ছেলে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দাও যার ফলে তারা নিজেদের শারীরিক সম্বন্ধে এবং পরিবার পরিকল্পনার ব্যাপারে কোন প্রকার জ্ঞান থাকেনা তারা অতি দ্রুত সন্তান ধারণ করেন। এবং দেখা যায় কিছু বছরের মধ্যেই তাদের কয়েকটা বাচ্চা হয়ে যায়।
আমাদের গণমাধ্যম পেপার-পত্রিকা রেডিও-টেলিভিশন যা আছে তাদের মাধ্যমে ঢালাও ভাবে উপস্থাপন করা উচিত যে দুটি সন্তানের বেশি নয় একটি হলে ভালো হয়। এছাড়াও সরকার যাতে একটি সন্তান রয়েছে তাদেরকে উপহার এবং যাতে দুটি সন্তানের বেশি হবে তাদের জরিমানার ব্যবস্থা করতে পারেন।
সবমিলিয়ে বলা যেতে পারে শুধুমাত্র দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের আর সরকারের উপর না দিয়ে আমাদের জনসমষ্টি গুলোকেও একটু দায়িত্বশীল হওয়া উচিত কারণ আমরা নিজেরাও দেখতে পারি যে সন্তান হলে আমাদের পরিবারের অবস্থা খারাপ হয়ে যায় আমরা তাদের লেখাপড়া করাতে পারি না এবং আরো নানা রকম সমস্যার মুখোমুখি হয়। আশা করা যায় যদি আমরা সবরকম ব্যবস্থা নিয়ে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তাহলে খুব তাড়াতাড়ি আমরা একটা ভালো পর্যায়ে আসতে পারবো।
ছবিসূত্রঃhttps://images.app.goo.gl/an6thxqDLVBh6nZJ6


অভিনন্দন! আপনার পোস্টটি সেরিবাংলাদেশের কমিউনিটি আইডি থেকে কিউরেশন করা হয়েছে। আপনি সেরি বাংলাদেশ ডিসকর্ড সার্ভারে get_upvote_serey চ্যানেলে আপনার পোস্ট লিঙ্ক জমা দিয়ে প্রতি 24 ঘন্টার মধ্যে একবার আমাদের কমিউনিটি থেকে ভোটের অনুরোধ করতে পারবেন, ধন্যবাদ।
Join sereyBangladesh Discord server:- Join Discord (https://discord.gg/YKPqUku8)
Join sereyBangladesh Telegram :- Join Telegram (https://t.me/SereyBangladesh)