দেখব মেশিনের সেলাইয়ের মতো সেলাই হয়েছ
বখেয়া ফোঁড় সোজা দিকে মেশিনের সেলাই-এর মতো দেখতে হয়। এই ফোঁড় তুলতে হলে, রানিং ফোঁড়ের মতো নিচ থেকে ওপরে সুই চালিয়ে ফোঁড় তুলতে হয়। পরে সামান্য একটু সামনে আবার ওপরে সুই দিয়ে ফোঁড় তুলে আনি। সুই এর মুখটি আবার আগের ফোঁড়ের কাছে ফিরিয়ে আনি। পুনরায় ওপর থেকে নিচে ফোড় তুলি। এভাবে বার বার ফোঁড় দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাই। দেখব মেশিনের সেলাইয়ের মতো সেলাই হয়েছে। এই ফোঁড় সাধারণত জামা-কাপড়ের জোড়া লাগাতে প্রয়োজন হয়। বখেয়া ফোঁড়ের জোড়া খুব শক্ত হয়। তাছাড়া এই ফোঁড় দিয়ে নানা রকম নকশাও করা যায়। যেমন-২৫ সেমি. চওড়া ও ২৫ সেমি. লম্বা কাপড়ে প্রথমে পেনসিলে একটি মাছের ছবি এঁকে রেখা অনুযায়ী বখেয়া ফোঁড় তুলে মাছের ছবিটি ফুটিয়ে তুলতে পারি। অন্যান্য যেকোনো নকশাও বখেয়া ফোঁড় দিয়ে করতে বখেয়া ফোঁড় ও বখেয়া ফোঁড়ের নকশাডাল ফোঁড় সাধারণত গাছের ডাল, ফুল ও পাতার ডাল, লতা ইত্যাদি নকশা সেলাই করবার জন্যে ব্যবহার করা হয়। এই ফোঁড় দিয়ে রেখার আকারে সেলাই করে গেলে, রেখাটি দড়ির মতো প্যাঁচানো প্যাঁচানো দেখা যায়।।ডাল ফোঁড় দিয়ে সেলাই করবার সময় ফোঁড়গুলো পর পর সামনে থেকে পেছনের দিকে আসবে। সুচে সুতা পরিয়ে সুতার মাথায় গিঁট দিই। সুচের মাথা কাপড়ের নিচ দিক দিয়ে ওপরে তুলি। সুচের মাথা যেখানে উঠল তার থেকে সামান্য পেছনে বাঁ দিকে একটু সরিয়ে, সুই ঢুকিয়ে, ফোঁড় দুটির মাঝামাঝি জায়গায়, ডানদিকে একটু সরিয়ে সুচের মাথা উঠাই। এবার সুচের মাথা যেখানে উঠল তার পেছনে বাঁ দিকে একটু সরিয়ে আবার সুচের মাথা ঢোকাই এবং শেষ দুই ফোঁড়ের মাঝামাঝি জায়গায় একটু ডানে সরিয়ে সুচের মাথা ওঠাই। এভাবে একের পর এক ফোঁড় দিয়ে সামনে থেকে পেছনের দিকে আসতে থাকি। দেখি সেলাই কেমন সুন্দর দেখাচ্ছে! জনে অপেক্ষাকৃত একটু মোটা সুতা নিই। সুতার শেষ মাথায় নকশাটি ডাল ফোঁড় দিয়ে করি এই ফোঁড় দেখতে অনেকটা শেকলের মতো। চেইন ফোঁড়ের শক্ত বরে গিট দিই। অথবা শক্ত করে একটি ফোঁড় তুলি। সুই, -সুতা টনে ওপরে তুলি। এবার সুচের মাথায় ডান হাত বাঁয়ে সুতা ঘুরিয়ে একটি ফোঁড় তুলি। দেখব ফোঁড়টি একটি িেড়র মতো হয়েছে (হাত ঘুরাবার সময় সুতা কিছুটা ঢিলে রাখবে)। সুচটিকে এবার আগের ফোঁড়ের পাশ দিয়ে ঢুকিয় নিচ থেকে ওপরে তুলি। ফোঁড় তোলার সময় সুচ, সুতার ওপর সবসময় রাখতে হবে। সুতা আবার ডান থেকেবাঁয়ে ঘুরিয়ে ফোঁড় তুলি। এভাবে ফোঁড়ের পাশ দিয়ে সুই ঢুকিয়ে নিচ থেকে ওপরে সুতা আনি।চেইন ফোঁড় দিয়ে যেকোনো পোশাকে নকশা করা যায়। বিশেষ করে জামা, শাড়ি, রুমাল, টেবিলের কাপড় ইত্যাদিতে ল, লতাপাতা করা যায় । ভরাট কাজেও এই ফোঁড় ব্যবহার করতে পারব। চিত্রকলায় বৈচিত্র্য আনতে এই লোই ব্যবহার করতে পারব।

