ভয়ংকর এক ঝরের রাত

S
sohel5454
আসসালামু আলাইকুম সবাই কেমন আছেন আশা করি ভাল আছেন আমি আজকে আপনাদের সাথে কথা বলবো একটি ঝড়ের রাতের অভিজ্ঞতা 

 আমার এই সংক্ষিপ্ত জীবনে ‘শিহরন' শব্দটার সঙ্গে আমার খুব বেশি পরিচয় হয়নি। কিন্তু ২৭ জুলছি ২০১৬ এক ঝড়ের রাত আমাকে শিহরিত করে তুলেছিল—হয়তো প্রথমবারের জন্য এ জীবনে। একলা আমি: সচরাচর যা ঘটে না, সেদিন তেমনটাই ঘটেছিল। আমি ছিলাম একলা বাড়িতে। মা আর বাবা জরুরি কাজে বেরিয়েছিলেন। তারপর বাবা আমাকে ফোন করল আমি যেন দরজা জানলা বন্ধ করে চুপ করে ঘরে বসে থাকি| ঝড় আসছে। কৌতূহলী হয়ে টিভিটা খুললাম। দেখলাম বঙ্গোপসাগরে যে নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে তা ঘূর্ণাবর্তের চেহারা নিয়ে প্রায় ৮০ কিমি গতিতে উত্তর দিকে উপর দিয়ে বয়ে যাবে। কলকাতাও এই ঝড়ের আওতায় থাকবে। ঝড়ের সময় বলা হচ্ছিল রাত বারোটা নাগাদ। মা-কে ফোন করি তাড়াতাড়ি চলে আসার জন্য। এদিকে বাইরে জোরালো বাতাস বইতে শুরু করেছে। কোথাও দরজা-জানলার ধাক্কা খাওয়ার আওয়াজ হচ্ছে। সকাল থেকেই টিপটিপ করে আজ বৃষ্টি হচ্ছিল, সেই বৃষ্টির দাপটও বাড়ছে। ভয়ে আমার হাত-পা অসাড় হয়ে যেতে থাকে। ঝড়ের তান্ডব: রাত ন-টার আলেপাশে অল্পসময়ের ব্যবধানে মা বাবা → দুজনেই চলে আসেন। আমি নিশ্চিন্ত হই। ঘরে ঢুকেই মা আমাকে জড়িয়ে ধরেন। বুঝতে পারি, আমাকে নিয়ে মা কতটা দুশ্চিন্তা করছিলেন। এদিকে ঝড়ের দাপট ক্রমশই বাড়ছে। যা দ্রুত খিচুড়ির ব্যবস্থা করতে লাগলেন। কোথাও একটা টিনের কিছু ভেঙে পড়ার আওয়াজ হল। বাবা দেশের বাড়িতে ঠাকুরমাদের ফোন করলেন। সেখানেও ঝড়ের তাণ্ডব চলছে। আমার মনে হচ্ছিল কোনো দুই শক্তিশালী দানবের যেন লড়াই চলছে। বজ্ৰ বিদ্যুতে তার চুংকার আর উল্লাসের প্রকাশ ঘটছে। বাবা একবার টিভিটা চালালেন। সেখানে তখন রাতের কলকাতার বিপর্যয় আর জনজীবন স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার খবর। অন্তত দশ জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে। উত্তর কলকাতায় একটি পুরোনো বাড়ি ভেঙে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। শুয়ে পড়েও ঘুম আসছিল না। ঝড়ের এই আওয়াজ আমি কোনোদিন শুনিনি।

Comments