টেলিভিশন

S
shovon10

: সভ্যতার শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত মানুষ তার আকাক্সিক্ষত কল্পনাকে বাস্তবায়ন করে চলেছে। অন্ধকার থেকে আলোর যুগে এসেও মানুষ তার আবিষ্কারের অভিযানেই চলেছে। আজ সভ্যতার নতুন যুগে এসে মানুষ আবিষ্কার করে চলেছে নতুন নতুন জিনিস ও যান্ত্রিক কলা-কৌশল। টেলিভিশন বিজ্ঞানের তেমনই এক সংযোজন। টেলিভিশন এ যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী গণমাধ্যম। 

১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানে, পাকিস্তান টেলিভিশনের ঢাকা কেন্দ্রের উদ্বোধন হয়। পরবর্তীতে সরকারিভাবে ১৯৬৮ সালে রামপুরা টিভি সম্প্রচার কেন্দ্র চালু হয়। মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান টেলিভিশন বাংলাদেশ টেলিভিশন-এ রূপান্তরিত হয়। ১৯৭৬ সালে বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রথম ঢাকার বাইরে টিভি সম্প্রচার শুরু হয়। ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বর চট্টগ্রামে টিভি কেন্দ্র চালু হয়। প্রথম দিকে বাংলাদেশে শুধু ধনী ও উচ্চবিত্তের ঘরে টেলিভিশন দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ঘরেও টিভি দেখা যায়। প্রযুক্তির উন্নতির ফলে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিটিভি ছাড়াও এখন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন চ্যানেল-এ অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

টেলিভিশনকে আমরা বৈচিত্র্যপূর্ণ বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে ধরতে পারি। টেলিভিশনের মাধ্যমে আমরা সাহিত্য, সংগীত, নৃত্য, নাটক, চলচ্চিত্র প্রভৃতি অনুষ্ঠান দেখতে পাই। যা আমাদের চিত্ত বিনোদনের অন্যতম উপায়। মানুষ স্বাভাবতই খেলাধূলা, বিনোদন প্রভৃতির উপর আকর্ষণ অনুভব করে। আর আমরা ঘরে বসেই টেলিভিশনের মাধ্যমে সেই চাহিদা পূরণ করতে পারি। যেমন- খেলার মাঠে না গিয়েও অলিম্পিক, বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খেলা উপভোগ করতে পারি।

টেলিভিশনের সার্থকতা ও ব্যর্থতা মূলত তার ব্যবহারের উপরেই নির্ভর করে। টেলিভিশন যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারলেই এর সফলতা। বর্তমান বিশ্বকে হাতের মুঠোয় আনা সম্ভব হয়েছে এই টেলিভিশনের মাধ্যমে। জাতির উন্নতির স্বার্থে এবং জাতির নৈতিক চরিত্রের উত্তরণ ঘটানোর কাজে টেলিভিশন কার্যকর বাহন হতে পারে। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, টেলিভিশন এক কল্যাণকামী গণসংযোগ মাধ্যম এবং কোনো সচেতন ব্যক্তিরই টেলিভিশনের কার্যকরী ভূমিকা অস্বীকার করার উপায়

ছবিটি আমার ফোন দিয়ে তোলা হয়েছে। 

Comments