ন্যায্য বেতন শব্দগত অর্থে মাহিনা, মাসােয়ারা, পারিশ্রমিক, মজুরি ইত্যাদি বেতন হিসেবে গণ্য। তবে সাধারণ অর্থে প্রতিষ্ঠানের বেতন কাঠামাে বা বেতন তালিকার অন্তর্ভুক্ত কর্মীদের পারিশ্রমিক হিসেবে মাসিক যে অর্থ প্রদান করা হয় তাকে বেতন বলে। বেতন বলতে এক্ষেত্রে মূল বেতনকেই বুঝায়। উচ্চ বেতন স্বভাবতই কর্মীদেরকে উদ্দীপত করে। কর্মী যদি তাকে প্রদত্ত বেতন অন্যায্য মনে করে তবে কার্যক্ষেত্রে নিরুৎসাহ বােধ করা খুবই স্বাভাবিক। আর এর ফলে তার কর্মদক্ষতা হ্রাস পায়।
মুনাফার অংশ পণ্য বা সেবা বিক্রয় থেকে যে লাভ অর্জিত হয় তাকে মুনাফা বলে। সাধারণভাবে মুনাফা মালিকের প্রাপ্য। কর্মীদের যদি মুনাফার একটি অংশ দেয়া হয় তা হলে প্রতিষ্ঠানকে নিজের ভাবতে যেমনি তারা উৎসাহিত হয় তেমনিভাবে মুনাফা বৃদ্ধির জন্যও তারা সচেষ্ট থাকে। এই বােধ সৃষ্টির জন্য আমাদের কোম্পানি আইনে অর্জিত মুনাফার ৫% বাধ্যতামূলকভাবে
শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছে। মুনাফার একটা অংশ কর্মীদের অতিরিক্ত বােনাস হিসেবে দিলে তা নিঃসন্দেহে কর্মীদের উদ্দীপ্ত করতে পারে। বােনাস প্রত্যাশার সাথে যুক্ত হয় এমন কোনাে প্রাপ্তিকেই বােনাস বলে। ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বােনাস হলাে শ্রমিক-কর্মীদের প্রদত্ত এমন কোনাে বাড়তি অর্থ যা মজুরি বা বেতনের অতিরিক্ত হিসাবে
প্রদান করা হয়। বর্তমানকালে কর্মীদের উদ্দীপনা সৃষ্টির জন্য বােনাস একটি ফলপ্রদ পদ্ধতি। একে কর্মীরা বাড়তি পাওনা মনে করে, ফলে কাজে উৎসাহিত হয়। সাধারণত বিভিন্ন পর্ব ও অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেবােনাস দেয়া হয়ে থাকে। এর বাইরেও প্রতিবছর মুনাফা করলে বা কোনাে অর্জনের প্রেক্ষিতেও কর্মীদের বােনাস দেয়া হতে পারে। য়া হতে পারে।
আর্থিক নিরাপত্তা আর্থিক নিরাপত্তা বলতে ভবিষ্যতের জন্য আর্থিক সুরক্ষাকে বুঝায়। একজন কর্মী তার নিয়ােগকারী প্রতিষ্ঠান থেকে বিপদাপদে ও অবসরের পর আর্থিক
সুরক্ষার প্রত্যাশা করে। এ লক্ষে প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচ্যুইটি, পেনশন, গ্রুপ বীমা ইত্যাদির সুযােগ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেয়া হয়।
অগ্রিম ভবিষ্যৎ পাওনা থেকে কর্মীকে অগ্রে দেয় অর্থকে অগ্রিম বলে। বর্তমানকালে আমাদের মতাে দেশে কর্মীদের বিভিন্ন প্রয়ােজনে প্রভিডেন্ড ফান্ড থেকে বা কর্মী ভবিষ্যতে পাবে এমন
পাওনা থেকে পরবর্তী সময়ে মাসে মাসে কর্তন করা হবে-এ শর্তে অগ্রিম প্রদান করা হয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্মীদের উদ্দীপ্ত করার জন্য বাড়ি তৈরি, ফ্ল্যাট ক্রয়, গাড়ি ক্রয় ইত্যাদি খাতে সহজ শর্তে কর্মীদের ঋণ দেয়। ফলে এরূপ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে অনেকেই উৎসাহী হয় । বাসস্থান ভাতা কর্মী পরিবার নিয়ে যাতে বাস করতে পারে সেজন্য মূল বেতনের ওপর একটা থােক বা নির্দিষ্ট হারে ভাতা প্রদান করা হলে তাকে বাসস্থান ভাতা বলে। বাসস্থান মানুষের মৌলিক অভাবের অন্তর্ভুক্ত। তাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্মীদের প্রেষণা দানের উদ্দেশ্যে এ মৌলিক অভাব পূরণে বাসস্থান ভাতা বা বাসস্থান সুবিধা প্রদান করে থাকে। শহরালে বাড়ি ভাড়া অনেক বেশি হওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করতে কর্মীদের অনেক
অর্থ ব্যয় করতে হয়। তাই বাসস্থান সুবিধা দিলে তা তাদের আর্থিকভাবে লাভবান করে। ভাতা দিলে তা সরাসরি বেতনের সাথে যুক্ত করে প্রদান করা হয়।
যাতায়াত ভাতা কর্মীদের কর্মস্থলে আসতে যে ব্যয় হয় তার বিপক্ষে মাসিক নির্দিষ্ট হারে ভাতা প্রদান করা হলে তাকে যাতায়াত ভাতা বলে। শহরাঞ্চলে ক্মীরা অধিকাংশই দূর হতে কার্যক্ষেত্রে আগমন করে। ফলে যাতায়াতে তাদের সমস্যায় পড়তে হয়। তাই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হতে পরিবহন ভাতা প্রদান করা হলে কর্মীরা উৎসাহিত হয়। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে
কর্মীদের যাতায়াত সুবিধার জন্য অনেকক্ষেত্রেই পরিবহনের ব্যবস্থা করতে দেখা যায়। বড় প্রতিষ্ঠানে উৎধ্বতনদের জন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গাড়ি দেওয়া হয়ে থাকে। যা কার্যত আর্থিক সুবিধার সৃষ্টি
করে।
Photo credits:

