সাদিয়ার ভাবনা

S

জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে সাদিয়া। একটা কপাটে মাথা ঠেকিয়ে  কী যেন ভাবছে সে। মুক্ত আকাশের দখিনা বাতাস কোমল ছোঁয়া দিয়ে যাচ্ছে তার মুখ। মানুষের ভাবনার তো আর অন্ত নেই। মানুষ কত কিছুই তো ভাবে। গরিব কৃষকের ছেলেটাও নিঝুম রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবে,হায়! আমি যদি হাজারো তারকার মাঝে উদ্ভাসিত এই চাঁদের দেশে পাড়ি জমাতে পারতাম! আবার দরিদ্র ঐ মাঝিও নদীর বুকে নৌকা হাঁকায় আর ভাবে,আমি যদি মাথার উপর দিয়ে উড়ে যাওয়া পাখির মতো ডানাবিশিস্ট সেই বাহনে আরোহণ করে মেঘের ভেতর হারিয়ে যেতে পারতাম! এভাবে মানুষ আরো কত কি স্বপ্ন দেখে। কত স্বপ্ন কাঠঠোকরা পাখির মত রুপ ধারণ  করে মানুষের মস্তিষ্কে ঠোকরাতে থাকে। প্রশ্ন হল,সাদিয়ার মাথায় কোন ভাবনার পাখি বাসা বেঁধেছে?

কে এই সাদিয়া? 

বরিশাল জেলার মুলাদী থানার লক্ষীপুর গ্রামের সাদিয়ার বাড়ি মা-বাবা আর সাদিয়া এই তিন সদস্য নিয়ে তাদের এই ক্ষুদ্র পরিবার পিতা আফজাল হোসেন এবং মাতা আমেনা বেগম, একমাত্র কন্যা সাদিয়া তার পিতা-মাতা খুব ধার্মিক তাই সাদিয়া কে তারা মাদ্রাসা লেখাপড়া করেন, পাশ্চাত্য শিক্ষা তেমন কোন বাতাস তার গায়ে লাগেনি সাদিয়ার বাবা আলেম না হলেও মুখে সুন্দর ঘন দাড়ি এবং সর্বদা টুপি পাঞ্জাবি পরিহিত থাকার কারণে একজন আলেমের মত মনে হয়, তার মা ও যথাসাধ্য পর্দা করার চেষ্টা করে, সাদিয়ার বাড়ি 80 কিলোমিটার দূরে উত্তরে তার প্রাণপ্রিয় শখি লামিয়ার বাড়ি, ছোটবেলা থেকেই দুইজন একসাথে খেলাধুলা ওঠাবসা করত মনে হত যেন একে অন্যের সৌদি আরবের আরবি শেখার মায়ের কাছে তেমন শিক্ষিত না হলেও কুরআনুল কারীম তেলাওয়াত করতে পারতেন। এদিকে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করেছেন তারা একে অপরকে দেখে নিয়ে সে তার মায়ের কাছে কোরআন শিক্ষা করতোয়া নামাজের সময় হলে তারা দুজনেই সাদিয়ার মায়ের অনুকরণ করে নামাজ আদায় করত। অতিবাহিত হয় তাদের শৈশবের কয়েকটা বছর এরপর আমি আর বাবা মাকে নিয়ে চলে যান বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা মোহাম্মদপুর এলাকায়। সেখানে তারা ফ্ল্যাট বিক্রয় করে বসবাস করতে থাকে সাদিয়ার বাবা-মাকে মাদ্রাসা ভর্তি করে দেন। এ পরিস্থিতিতে বান্ধবীকে হারিয়ে যাচ্ছে কেটে যায় সাদিয়ার কয়েকটা বছর সাদিয়া এখন কওমি মাদ্রাসায় মেশকাত জামাতের লেখাপড়া করে। সে প্রখর মেধার অধিকারী একজন মেয়ের চেহারা দেখে যেন বুদ্ধিমত্তার আলোকচ্ছটা তোকে পরে।

Comments