স্বপ্ন নিয়ে কিছু কথা

S

প্রথমেই বলে নেই, স্বপ্ন মনে আছে আশা নিয়ে বেঁচে থাকা। একটা উদাহরণ দিয়ে স্বপ্ন নিয়ে লেখা শুরু করব। এক লোক ঘরের ভিতরে চারটি মোমবাতি জ্বালিয়ে তার কাজে চলে যায়। তারপর ওই ব্যক্তি তার কাজকর্ম শেষ করে যখন বাসায় ফিরে আসে তখন দেখে যে একটি মোমবাতি জ্বলে আছে আর বাকি তিনটি মোমবাতি নিভে গেছে। তারপর ওই ব্যক্তি প্রথম মোমবাতিটিকে জিজ্ঞাসা করলো যে, এত কষ্ট করে তোমাকে জ্বালালাম আর তুমি নিভে গেলে তখন মোমবাতিটি বলল যে আমার নাম শান্তি তাই আমি সব সময় থাকিনা। তদ্রুপ দ্বিতীয় মোমবাতিটিকে জিজ্ঞাসা করা হল, তুমি কেন নিভে গেলে তখন দ্বিতীয় মোমবাতিটি উত্তর দিল, শান্তি যেখানে নেই সেখানে ভালবাসা থাকতে পারে না। এইভাবে তৃতীয় মোমবাতিটিকে প্রশ্ন করা হলো, তুমিও কেন নিভে গেলে তখন ওই মোমবাতিটি উত্তর দিল যে, শান্তি ভালোবাসা যেখানে নেই সেখানে বিশ্বাস থাকতে পারেনা। ওই লোকটি হতাশাগ্রস্ত হয়ে, চতুর্থ মোমবাতিটিকে জিজ্ঞাসা করল সবাই যখন নিভে গেল তখন তুমি একা জ্বলে আছো কেন, ওই মোমবাতিটি উত্তর দিল শান্তি ভালোবাসা বিশ্বাস আপনাকে ছেড়ে চলে গেলেও আমি যাইনি কারণ আমার নাম হচ্ছে আশা। তাই তুমি ইচ্ছা করলেই আমার কাছ থেকে আগুন নিয়ে বাকি তিনটি মোম বাতি কে জ্বালিয়ে দিতে পারো। সামাজিক জীব হিসেবে প্রত্যেক মানুষই স্বপ্ন দেখে হোক সেটা বাস্তব অথবা অবাস্তব। প্রত্যেক মানুষই স্বপ্ন  দেখতে পছন্দ করে, তাই আমিও ব্যতিক্রম নয়। স্বপ্নের আরেক নাম হচ্ছে আশা করা, কল্পনা করা , আমি যদি এটা করতে পারতাম , ওটা করতে পারতাম। মনের গভীরে এই ধরনের চিন্তাভাবনা হচ্ছে স্বপ্ন। স্বপ্ন তো সেটাই হওয়া উচিত যে তোকে বাস্তবে রূপদান করার জন্য অবিরাম পরিশ্রম করে যাওয়া। আমার মতে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা ভাবনা করাই হচ্ছে স্বপ্ন। যদিও অনেকের স্বপ্ন পূরণ হয় আবার হয়না তারপরও মানুষ স্বপ্ন দেখে যায়। স্বপ্নের আরেকটি রূপ হচ্ছে আশা ভরসা করা কেননা আশা ভরসা করেই মানুষ বেঁচে থাকে অনন্ত কাল। স্বপ্ন সেটাই হওয়া উচিত যে স্বপ্ন দেখে কোন মানুষ প্রতারিত হবে না, নিরাশ হবে না। স্বপ্ন সেটাই হওয়া উচিত যেটা ভেঙে গেলে আর কোন কষ্ট, যাতনা থাকবে না। স্বপ্নের আরেক নাম হলো অলীক ভাবনা। আমি আমার এই সংক্ষিপ্ত জীবনে দেখেছি অনেক মানুষের স্বপ্ন প্রতি সহসায় ভেঙ্গে যেতে। তাই স্বপ্ন বা কল্পনা বা আশা হওয়া উচিত বাস্তবধর্মী ও জীবনমুখী। কিন্তু মানুষের মন কি আর সেটা মানে বা শুনে। মনের অলিতে গলিতে নানা ধরনের স্বপ্ন  ঘুরাঘুরি করে। তাই তার অবলা চোখদুটি আকাশ ছুঁতে চায় সে কি জানে তার এই অলির ভাবনা-চন্তা, কোনদিনই বাস্তবে রূপ নেবে না তারপরও মানুষ স্বপ্ন দেখে যাই অবিরাম হোক সেটা বাস্তব আর অবাস্তব প্রতিফলিত হোক মানুষের জীবনে অথবা নাই হোক। মনকে কি আর ধরে রাখা যায় সে  ছুটে চলে তার আপন গতিতে কোন কিছুতেই অবলম্বন কি স্তিমিত করা যায় না তাকে বলে বোঝানো যায় না যে এটা কোনদিনই সম্ভব নয়। তাইতো মন ছুটে চলে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে উন্মাদের মত। আসলে আমরা মানুষ যত পায় ততোই চাই। তাইতো আশা ভরসা যখন শেষ হয়ে যায় তখন মানুষ ওলিক ভাবনা থেকে বাস্তব রুঢ় কঠিন জীবনে ফিরে আসে। স্বপ্ন দেখার সার্থকতা অপরিসীম। মানুষের দৃষ্টিশক্তি যদি ঈগলের মত হত তাহলে নাকি দশ তলা ভবনের ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা পিপড়া কেউ মানুষ দেখতে পেত। অদৃষ্ট সেই দৃষ্টি আমাদের দেয়নি কিন্তু দিয়েছে অন্তর্দৃষ্টি যে স্বপ্ন দেখার সক্ষমতা। তাই অবলা মনকে কোন ভাবেই বোঝানো যায় না। তাই মানুষের মন কে উদার করে তুলতে হবে। অধিকাংশ মানুষেরই স্বপ্ন থাকে বাড়ি গাড়ি করা । বিচিত্র মানুষের বিচিত্র ধরনের চিন্তাভাবনা প্রকৃতপক্ষে মানুষকে সেটাই চিন্তা করা উচিত যাতে করে সমাজের কোন মানুষের উপকার সাধিত হয় এবং যাতে করে ফিরে পায় তা স্বাভাবিক জীবন। আমার মতে স্বপ্ন হওয়া উচিত বা মানুষের চিন্তা-ভাবনা হওয়া উচিত সমাজের এবং দেশের প্রত্যেকটা নিপীড়িত নিগৃহীত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। প্রত্যেক মানুষই চিন্তাভাবনা করলেই রবীন্দ্রনাথ কাজী নজরুল ইসলাম ইত্যাদি ধরনের হতে পারবে না সে যত চিন্তা ভাবনা করুন হয়তো তার চেয়ে বেশি হতে পারবে অথবা কাছাকাছি মাঝামাঝি হতে পারবে। তাই বলে থেমে থাকা উচিত নয় স্বপ্ন দেখা অনেক স্বর্গীয় একটা বিষয়। আমাদের চর্মচক্ষু শুধু মাত্র দেখতে পারে ৮ লক্ষ কিলোমিটার যদি এইখানে একটা কথা থেকেই যায় সেটা হচ্ছে কোন ধরনের ভাদা বিপত্তি থাকতে পারবে না তবেই তা চর্মচক্ষু দেখতে পারবে ৮ লক্ষ কিলোমিটার। কিন্তু একটা খুশির কথা হল যে আমাদের অন্তর চক্ষু রয়েছে সেটারই সঠিক ব্যবহার করতে হবে। আমারও যদি আমাদের অন্তর চক্ষু সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে পারে তাহলে কিন্তু অনেক ধরনের সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। মানুষের অন্তর অন্তর দৃষ্টি কিন্তু সীমিত নয় এর গভীরতা হচ্ছে অনেক গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত। স্বপ্নপূরণ হয়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে দশ তলা ভবন থেকে মানুষকে ক্ষুদ্র পিপড়ার মত দেখা। আমরা যখন ছোটবেলায় ঈদ করতাম তখন বাবা তার নিজের জন্য কোন কিছু না কিনে ছেড়া জুতা পায়ে দিয়ে তার ছেলের জন্য নতুন জুতা কিনে আনত, স্বপ্ন মনে হয় সেটাই ছিল। আমার মতে স্বপ্নময় পৃথিবীতে স্বপ্ন দেখাটাই উত্তম বা শ্রেয়। আমার মনে হয় সংকীর্ণ মনের অধিকারীরাই স্বপ্ন দেখতে জানে না। স্বপ্ন সেটাই হওয়া উচিত, যদি কোনো মানুষের স্বপ্ন দেখে বাস্তবে রূপ না নিলে কোনভাবেই কষ্ট পাওয়া যাবে না।

Comments