শব্দ এটা এমন একটা জিনিস যা যে কোন ব্যক্তির মনে বিষাক্ত নিজের থেকেও বেশি বড় ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে, আবার দুই ব্যক্তির জন্য বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা হতে পারে।
মুখের শব্দ হলো ওই জিনিস যদি এটা ভেবে চিন্তে না বলা হয় তাহলে ঝামেলা সৃষ্টি করতে পারে। আবার মুখের শব্দই চূড়ান্ত ঝামেলা কেউ দিতে পারে হয়ত আপনি আমার এই কথাগুলো এখনো ভালোভাবে বুঝতে পারেননি।
এক ব্যক্তি একদিন রাতে পরিবারের সবার সঙ্গে বসে খাবার খাচ্ছিলেন তখন হঠাৎ তার চোখে পড়ে তার মা-বাবার থালাতে যে রুটি দিয়েছেন সেটি পুড়ে গেছে তা সত্ত্বেও তাঁর পিতা কিছু না বলে যত্নসহকারে শান্তভাবে দেখাচ্ছেন। তারপর যখন তার মা রুটি পুড়ে যাওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছিলেন তখন তার বাবা হাসতে হাসতে বললেন ঠিক আছে কোন অসুবিধা নেই, আর ওটাই আমার ভালো লাগে তার বাবার মুখে কথা শুনে খুবই অবাক হলেন পরে তিনি তার বাবার কাছে জিজ্ঞাসা করলেন সত্যিই কি তিনি পোড়া রুটি খেতে পছন্দ করেন। উত্তরে তাঁর বাবা বললেন একটা পোড়া রুটি কাউকে কিছুই করতে পারবে না, কিন্তু রাগের মাথায় বলা উল্টোপাল্টা কথা অনেক কিছু নষ্ট করতে পারে।
এটা সত্যি যে আমরা রাগের মাথায় এমন কিছু শব্দ বলে ফেলি যেটা সামনের জনের বুকে পেরেকের মত ফুটে যায়। যখন আমরা রেগে যায় তখন আমরা এমন কিছু কথা বলে ফেলি সেটা একদম কাটে প্রতাপের আগের মত হয় অর্থাৎ পরবর্তীতে যদি ওই পেরেকটা বের করে নেওয়া হয় তাহলেও কিন্তু তার গর্ত বা ক্ষত সবসময়ের জন্য থেকেই যায়।
মেডিকেল সাইন্স এটা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, যখন আপনি রেগে যান তখন আপনার কনট্রোল পাওয়ার অনেক কমে যায়, আর আপনার উপর একটা অ্যাডিশনাল মেন্টাল প্রেসার তৈরি হয়। এটা শুধুমাত্র আপনার শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়, এটা আপনার সম্পর্ক রিলেশনশিপ সবকিছু ওলট-পালট করে দেয় আরো একটা বিখ্যাত উদাহরণ আপনাদেরকেও আপনি শুনে থাকতে পারেন থমাস আলভা এডিসন যখন প্রাইমারি স্কুলে পড়তেন তখন একদিন তার শিক্ষক মহাশয় একটা চিঠি তার হাতে দিয়ে বললেন এটা তোমার মায়ের হাতে দিয়ে দেবে। থমাস বাড়ি এসে চিঠিটা তার মায়ের হাতে দিয়ে বললেন এটা তোমার জন্য সেট দিয়েছেন চিঠিটা খুলে তার মা পড়তে লাগলেন পড়তে পড়তে তার মায়ের চোখ দিয়ে জল পড়তে শুরু করল।
আমাকে জিজ্ঞাসা করল এটা তে এমন কি লেখা আছে যে তুমি কাঁদছ চোখের জল মুছতে মুছতে বলল এতে লেখা আছে আপনার ছেলে খুবই বুদ্ধিমান খুবই ইন্টালিজেন্ট আর আমাদের স্কুলে অত ভালো টিচার নেই যে তাকে পড়াতে পারবে সে জন্য আপনি নিজেই থমাস কে পড়ান আর ওই দিনের পর থেকে মা নিজেই তাকে পড়তে লাগলেন আর থমাস মায়ের চর্চায় পড়তে লাগল এমন ভাবে কিছু বছর পর যখন তার মা চলে গেলেন ততদিনে থমাস একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী হয়ে গিয়েছেন। তিনি ইলেকট্রিক বাল্বের মত মহান আবিষ্কার করে ফেলেছেন আর একদিন অবসর সময় তোমার যখন স্মৃতিচারণের জন্য পুরোনো জিনিস গুলো দেখছিলেন তখনই তার নজরে পড়ে আলমারির কোন এলাকা পুরনো একটা চিঠির ওপর উৎসর্গ সে চিঠিটা খুলে তিনি পড়তে লাগলেন কারণ এটা উচিত ছিল যেটা ছোটবেলায় তোমার টিচার দিয়েছিলেন চিঠিটা পড়ে তিনি স্তম্ভিত হয়ে গেলেন।

