অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথের সারাটা সময় জুড়ে সুবাসের শুধু অদ্রিজের কথাই মাথায় ঘোরাফেরা করছে। আজ এতোগুলো বছর পর পুরানো পাড়ার, পুরানো স্কুলের, পুরানো খেলার সঙ্গীকে নতুন করে পেয়ে যে আনন্দটা হওয়া উচিৎ ছিল, সেটা কিন্তু সুবাসের ঠিক হচ্ছে না। আজ সকালে ডি এল এফ অফিস চত্বরে যখন অদ্রিজ সুবাসকে দেখতে পেয়ে সমুদ্রের আছড়ে পড়া ঢেউয়ের মতো আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছিল ওকে, তখনও সুবাসের মধ্যে কী যেন একটা অস্বস্তিদায়ক অনুভূতি কাজ করছিল। কিন্তু বাইরে থেকে বুঝতে দেয় নি তা। যতটা পেরেছে স্বাভাবিকই থেকেছে। অফিস ঢোকার তাড়াকে কিছুক্ষণের জন্য অবজ্ঞা করে দাঁড়িয়েছিল দুই বাল্যকালের বন্ধু। সামান্য সময়ের কথাবার্তায় উঠে এসেছে ওদের বর্তমান পরিস্থিতি, টুকরোটুকরো অতীতের ঘ্রাণ আর ভবিষ্যৎ যোগাযোগের প্রতিশ্রুতি। সেইসূত্রে সুবাস জানতে পেরেছে, অদ্রিজ আগের সপ্তাহেই একটা ক্যাপটিভ ইউনিটে চাকরি পেয়ে গুরগাঁও এসেছে। তার আগে একবছর নাকি নয়ডাতে ছিল। ও একাই থাকে এখন এখানে। বাকি সবাই কলকাতায় আছে। কলকাতার নামটা উঠতেই এখনো সুবাসের ভেতরে কেমন একটা শিহরণ হয়। সে শিহরণ ওকে এক ঝটকায় মনে করিয়ে দেয় অনেকগুলো অনুভূতি ঘেরা দিনের কথা। স্মৃতির বুলডোজারে ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েও সেই টুকরোগুলো কখনোকখনো ওর জীবনপথে চলতে গিয়ে পায়ে কাটার মতো বেঁধে। ও চেষ্টা করেও পারে না, সেই পথগুলোকে এড়িয়ে চলতে। এক একটা সময়ের একাকীত্ব ওকে বশীভূত করে অজান্তেই নিয়ে চলে যায় সেই পথে।
অদ্রিজের মুখে ওর মা বাবা বৌ মেয়ের কথা শোনার পর, হঠাতই সুবাসের মনে পড়ে যায় ওর মায়ের কথা। বিগত নয় বছর ধরে যে মা ওকে অক্লান্তভাবে বুঝিয়েই চলেছেন, 'বাবু তোর বিয়ের বয়স পেড়িয়ে যাচ্ছে। আর কবে করবি?' মায়ের এসমস্ত প্রশ্নের উত্তর অতীতের যে গিটে জড়িয়ে আছে, তাকে খোলা বা খুলতে গিয়ে আরো জট পাকানোর ইচ্ছা ... কোনোটাই যে সুবাসের আর নেই। তাই এসব প্রসঙ্গ উঠলে একটাই গাঝাড়া কমন অজুহাত দিয়ে চলে সে ঘরে ও বাইরে 'আরেকটু শক্ত করেনি নিজের পা দুটোকে, তারপর'।
কিন্তু সুবাস মনে মনে এটা আপ্রাণ জানে যে সেই শক্তি সঞ্চয় আসলে হয়তো অন্যকাউকে আজীবন ভঙ্গুর অবস্থায় ফেলে আসার পাপবোধ হতে মুক্ত হওয়ার অজুহাত। এসব ভাবতে ভাবতে সুবাস আবার নিজেই যুক্তি খোঁজে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য। তবে যে মোহন সেই ঘটনার কমাস পর সুবাসকে বিদেশে ফোন করে জানিয়েছিল যে, অদ্রিজই এখন ওই বাড়ির হর্তাকর্তা হয়ে উঠেছে। তাহলে আর সুবাসের কী দরকার ছিল ওখানে। ভাবনার মাঝে মনের দ্বিধাগুলো এসে সুবাসকে ধাক্কাধাক্কি করে। কর্ণকুহরে যেন ফিসফিসিয়ে বলে,
এতো বড় একটা ঘটনা শোনার পরও কি একবার ফোন করে খবর নেওয়া উচিৎ ছিল না সুবাসের?
নেবে কীকরে, ফোন নাম্বারটা যে টানা সুইচড অফ বলছিল। তার মানে নিশাও চায় নি আর যোগাযোগ রাখতে। এমনিতেই ওর সুবাসের বিদেশ যাওয়া নিয়ে হাজাররকমের আপত্তি ছিল। ঝগড়াঝাঁটি করে আসার আগের দিনটাকেও পুরো মাটি করে দিয়েছিল নিশা। বড্ড জেদি মেয়ে। নিজের মত মতো না চললেই মাথা গরম থাকত ওর। এমনকি ফ্লাইট ছাড়ার আগে একবার ফোন পর্যন্ত করেনি সেদিন। এরকম আগেও হত। ঝগড়া হলেই সাতদিন কথা বন্ধ থাকত ওর। তারপর রাগ ভাঙাতে হত সুবাসকে। কিন্তু তাই বলে, যেদিন ও এক বছরের জন্য বিদেশ যাচ্ছিল, সেদিনও? রাগ যেন ওর পৈতৃক সম্পত্তি।
পকেটে বাজতে থাকা ফোনের রিংটোনে চিন্তার তারগুলো ছিঁড়ে বেরিয়ে এলো সুবাস। ফোনটা হাতে নিয়ে দেখল স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে মায়ের নম্বর। হাত ঘড়ির দুটো কাটার দিকে চেয়ে দেখে সুবাস বুঝল স্মৃতির কাটাকুটিতে বড্ড দেরি হয়ে যাচ্ছে বাড়ি ফিরতে। তাই হয়তো মা চিন্তায় ফোন করেছেন।


Hi rina220
I have noticed that your post is plagiarised. Therefore I have downvoted your post. Please consider writing unique/personal content to receive upvotes from the community.
Source of plagiarised content:
https://storymirror.com/read/bengali/story/rjniigndhaa/08j4bhza
Tips to improve:
1. Don’t copy and paste
2. Don’t use tools to rewrite other people's content.
3. Write unique or personal content instead.
Good luck!!