মোবাইলের তথ্য চুরি....................................

শুভেচ্ছা এবং ভালোবাসা সকল বন্ধুদের প্রতি। আপনাদের ভালো এবং সুস্থ্য থাকার জন্য সব সময় দোয়া করি। আমার জন্য দোয়া করবেন যেন সুস্থ্য ও ভালো থাকতে পারি। 

বন্ধুরা,

যখন আমরা বিনামূল্যের কোন অ্যাপ ডাউনলোড করি আর সেটিতে নানা শর্তে সম্মতি দেয়। তখন কি আমরা একবারও ভেবে দেখেছি এসব অ্যাপ আমাদের সম্পর্কে কোন তথ্য জানতে পারছে। কোন অ্যাপ ডাউনলোড করা সময়ে অনেকগুলো শর্ত আসে বা সম্মতি দেওয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এগুলো না পড়েই ওকে করে দেই। তার মানে অ্যাপ্লিকেশনে প্রবেশাধিকার দিয়ে দেয়া হলো। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে বন্ধুদের সঙ্গে আমরা কি কথা বলি, কি বার্তা পাঠায়, পরিবারের সদস্যের ফোন নাম্বার, মোবাইলের ছবি, ভিডিও, এমনকি আমাদের আর্থিক তথ্য। মূলত বিভিন্ন থার্ডপার্টি কোম্পানি এসব তথ্য ব্যবহার করে থাকে। হয়তো কোন সাম্প্রতিক মেডিকেল টেস্টের জন্য বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানি কে বিক্রি করা হয়।

source

যা দেখে তারা এসব গ্রাহকের কাছে তাদের ওষুধের তথ্য পাঠাবে অথবা সাম্প্রতিক কোন বিদেশ ভ্রমণের তথ্য চলে যাবে বিমান কোম্পানি বা ট্রাভেল কোম্পানির কাছে।তথ্য সুরক্ষা নিয়ে কাজ করে এরকম একজন ভারতীয় আইনজীবীরা বলেছেন, এখনকার বিশ্বের কোন কিছুই নয়। বিনামূল্যে এই সব অ্যাপ ডাউনলোড করে আসলে আপনি আপনার নিজের পরিবারের বা বন্ধুদের তথ্য বিনিময় করলেন। আরো বলেছেন, ফোনের এসব তথ্য নিয়ে বিভিন্ন অ্যাপ একেকজন ব্যক্তির ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করে যার ফলে তার পছন্দ-অপছন্দ

অনুযায়ী বিভিন্ন পণ্য প্রস্তাব করা হয়। বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি টাকার বিনিময়ে এসব অ্যাপ নির্মাতা কম্পানী থেকে তথ্য কিনেন।তারপর গ্রাহক অনুযায়ী তাদের চাহিদা পণ্য অফার করা হয়। ধরা যাক আপনি হয়তো ইলেকট্রনিক পণ্য পছন্দ করেন। তখন বিভিন্ন ইলেকট্রনিক কোম্পানির পক্ষ থেকে আপনার কাছে অফার আসবে অথবা আপনি বেড়াতে ভালোবাসেন তখন বিভিন্ন ট্রাভেল কম্পানি বা এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে নানা আকর্ষণের প্রস্তাব পেতে পারেন। আরো বলেছেন যখন আমরা মোবাইলে একা কাজ করি ফেসবুক বা টুইটারে লিখি তখন আমরা নিজেদের মতো করেই সেখানে কাজ করি। ফলে সেখানে প্রত্যেকের একেবারে নিজস্ব ছাপ থেকে যায়। আর এর ফলে আমাদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেয়ে যায় এসব অ্যাপস। ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গেই অ্যালগোরিদমের ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

source

ভারতের মতো বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই এখন এসব ক্ষেত্রে কোন প্রকার সুরক্ষা আইন তৈরি হয়নি। কেউ জানেও না এসব তথ্য কোথায় কার কাছে কিভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারতে এখন এ ধরনের কোম্পানী গুলোর বিরুদ্ধে আইন করার দাবি উঠেছে। অনেকে বলেছেন যেহেতু এসব কোম্পানির সাধারণ নাগরিক তথ্য বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আয় করে এসব টাকার ভাগ এই নাগরিকত্ব পাওয়া উচিত, তবে এর সবচেয়ে বড় সমাধান হলো যখনই কোন অ্যাপ ব্যবহার করা হবে তখনই খুব ভালো করে দেখে নেয়া যে সেটি ব্যক্তিগত তথ্যের মধ্যে কতটা নাক গলাতে চাই। আপনি এসব অ্যাপকে আপনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কতটা অনুমতি নিতে চান সেটা আপনার উপর নির্ভর করছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ পৃথ্বীরাজ সিং বলেছেন, মোবাইলে অ্যাপ বা ইন্টারনেট আপনি আপনার নিজের সম্পর্কে যত কম তথ্য দেবেন ততো নিরাপদ থাকবেন কারণ আমাদের কারো জানা নেই আজ থেকে 10 থেকে 20 বছর পরে এসব তথ্যের কি হবে।

 

বন্ধুরা, আশা করি আপনারা এই পোস্টের মাধ্যমে অনেক তথ্য জানতে পেরেছেন। আমি চেষ্টা করবো আপনাদের জন্য ভিবিন্ন তথ্য দিয়ে জীবন মান চলার গতিকে সহজ করতে।

Comments