শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় অতি দয়ালু। আসসালামুয়ালাইকুম আশা করি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবানীতে আপনারা সকলেই ভাল আছেন।
বন্ধুরা,
বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘতম সেতু বানালো মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশ কুয়েত। শেখ জাবের আল কসওয়ে নামের এই সেতুটি আরব সাগরের উপর নির্মিত হয়েছে। এই সেতুটি কুয়েত সিটি থেকে আরব সাগরের উপর দিয়ে যুক্ত হয়েছে বুবিয়ান ও সুবিয়াত দীপের সঙ্গে। সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ৪৮.৫৩ কিলোমিটার এবং ৩১ মিটার প্রশস্ত। সেতুটি কায়ডাওয়ে হাইওয়ান ব্রিজ থেকে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ। সেতুর প্রায় ৮০% রয়েছে পানির উপরে।২০১৯ সালের পহেলা মে এর উদ্বোধন করা হয়। এ প্রকল্পটি কুয়েত ন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট প্লান্ট ২০১৪ ফাইভ এর অংশ। কুয়েতের অন্যতম আমিরের অবদানকে স্মরণ রাখতে তার নামেই সেতুর নামকরণ করা হয়েছে। সেতুটি ইন্টেলিজেন্স ট্রান্সপোর্ট মনিটরিং সিস্টেম দিয়ে সজ্জিত।এটি যানবাহনগুলোকে ট্রাকিং করার পাশাপাশি ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ ট্রাকিং লঙ্ঘনের প্রতিবেদন এবং ভ্রমণের সময়কাল রেকর্ড রাখতে সক্ষম। এই সব তথ্য নজরদারি ও বিশ্লেষণের জন্য কুয়েতি ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই সেতুটি কুয়েত সিটি গ্রুপের যে সুবিয়াত সঙ্গে সংযুক্ত করেছে সেখানে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মেগাসিটি নির্মিত হচ্ছে। সেতুটি কুয়েতের বৃহত্তম দ্বীপ থেকে উপসাগরীয় রাজ্যের রাজধানী থেকে ৩০ মিনিটের দূরত্বে পরিণত করে যা এর আগে প্রায় দুই ঘণ্টার পথ ছিল।
বিশ্বের দীর্ঘতম সেতু নির্মাণে খরচ হয়েছে ২.৬ বিলিয়ন ডলার। সেতুর দুই পাশের দুই বন্দর প্রশাসন ভবন পর্যটনকেন্দ্র সব মিলে ১৫ লাখ বর্গমিটার জমির উপর নির্মিত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্ডাই ইএন্ডসিও স্থানীয় কনসোর্টিয়াম কম্বাইন্ড কনস্ট্রাকশন কম্পানি ২০১৩ সালে প্রকল্পটি হাতে নিয়েছিল আর এর নির্মাণে তাদের সময় লেগেছে প্রায় ছয় বছর। প্রতিদিন স্থানীয় কুয়েতি নাগরিকদের পাশাপাশি দেশটিতে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা ও তাদের পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব মিলে দীর্ঘতম সেতুর একনজর দেখতে আসেন।প্রবাশীরা বছরজুড়ে কর্মব্যস্ততার মাঝে ছুটির এই দিনটিকে মাথাতে চলে আসেন এখানে। এখনো সেখানে প্রতিদিন কয়েক শতাধিক লোকের সমাগম ঘটে। আস্তে আস্তে বাড়তে থাকলে পর্যটক এর সংখ্যা আরো বাড়ে। দুইপাশের জলরাশির খেলা হিমেল ঠান্ডা হাওয়া দিয়ে আসে দুই পাশ থেকে। ব্রিজ থেকে কুয়েত সিটি দেখলে মনে হয় আরব সাগরের ছোট দ্বীপের মাঝে কুয়েত সিটি। দিনের আলোর সৌন্দর্য একরকম ও সন্ধ্যার পর আলোকসজ্জায় ব্রিজের সৌন্দর্য দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়।
শেখ জাবের আল কসওয়ে সেতুতে গাড়ি পার্কিং নিষেধ হলেও পর্যটকরা চলার পথে গাড়ী থামিয়ে স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখতে ছবি ও সেলফি তুলে ব্যস্ত থাকে। কেউ বা আবার ভিডিও কলও ফেসবুক লাইভ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। সেতুর দুই পাশের বন্দর প্রশাসনিক ভবন পর্যটনকেন্দ্র সব মিলিয়ে ১৫ লাখ বর্গ মিটার জায়গার উপর এটি নির্মিত। সেতুর মাঝখানে প্রতি চারটি পিলার পরপর দুটি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। কিছুদুর পর ইংরেজি ও আরবি লেখা দিকনির্দেশনা বোর্ড আছে। যাতে সবাই সহজে বুঝতে পারে। এছাড়া এখানে গাড়ির গতি ৮০ থেকে ১০০ রাখার নির্দেশিকা রয়েছে। ভ্রমণে আসা প্রবাসীরা বলেন, খুবই সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন একটি জায়গা। বিশ্বের দীর্ঘতম সেতু সমুদ্রের মাঝে বিশাল মরুভূমির সবকিছু মিলিয়ে অসাধারণ চমৎকার। কুয়েতের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে এটি পর্যটকদের বেশ নজর কাড়ে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সংযুক্ত সমুদ্র বন্দর দ্বীপের মাঝে তৈরি হচ্ছে রেস্ট হাউস, সুপার মার্কেট, বিনোদনের জন্য পার্ক। ধীরে ধীরে বিনোদনের জন্য পর্যটকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পাশাপাশি কুয়েতের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে কুয়েতের জাবের আলী সেতু।


