
সম্প্রতি XYZ বিদ্যালয়ের এক ছাত্র @XYZ নামের টিকটক আইডি থেকে বিদ্যালয়ের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে একটি ভিডিও পোস্ট করে। ভিডিওটি ভাইরাল হয়, এবং এতে করে স্কুলের সম্মানহানি ঘটে। শেষ পর্যন্ত তাকে বিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কারও করা হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এই ঘটনার জন্য দায়ী কে? ছাত্র? টিকটক? নাকি তার পরিবার?
আমার মতে, এই দায় এককভাবে কাউকে দেওয়া ঠিক হবে না।
প্রথমত, টিকটক হলো একটা মাধ্যম, যেটা ভালো বা খারাপ দুভাবেই ব্যবহার করা যায়। অনেকেই টিকটকে ভালো ভালো শিক্ষামূলক বা সৃজনশীল কনটেন্ট বানায়। কিন্তু সমস্যা হয় যখন কেউ সেটা ভুলভাবে ব্যবহার করে — শুধু লাইক, কমেন্ট আর ভাইরাল হওয়ার পেছনে ছুটে গিয়ে নিজের সীমা ভুলে যায়।
দ্বিতীয়ত, পরিবারের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান মোবাইলে কী করছে, কার সঙ্গে যুক্ত, কী টাইপের ভিডিও বানাচ্ছে—এগুলো পরিবারের দেখা উচিত। এখনকার দিনে শুধু পড়ালেখা নয়, অনলাইন জীবনও সন্তানদের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক পরিবার এসব কিছু দেখেও না দেখার ভান করে, আবার অনেকেই বুঝে না।
তৃতীয়ত, ছাত্রেরও নিজের দায়িত্ব আছে। বিদ্যালয়ের নাম বা ইউনিফর্ম ব্যবহার করে এমন কিছু পোস্ট করা ঠিক না, যেটা প্রতিষ্ঠানের সম্মান নষ্ট করে। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে তার ন্যূনতম সচেতনতা থাকা উচিত—সে যা করছে তা কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে, এটা ভালো দিক। তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য স্কুলে ডিজিটাল আচরণ, অনলাইন নিরাপত্তা এসব বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা দরকার।


