
সত্যি বলতে, এখন আর খবর শুনে অবাক হই না, কিন্তু মনের ভেতর একটা অস্বস্তি থেকেই যায়। পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে যেভাবে একের পর এক মেঘ বিস্ফোরণ (cloudburst) ঘটছে, সেটা আর শুধুই আবহাওয়ার ঘটনা নয়—এ যেন প্রকৃতির হঠাৎ রুদ্ররূপ।
এবারের বর্ষা মৌসুমে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ভেতর পাহাড়ি অঞ্চলে হঠাৎ এমন বৃষ্টি নেমেছে, যেন আকাশ ফেটে গেছে। মেঘ ফেটে হঠাৎ করে ১০০-১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি! এই প্রবল বর্ষণে দেখা দিচ্ছে হঠাৎ বন্যা, ভূমিধস, রাস্তা ধসে যাওয়া—আর প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। পাহাড়ি এলাকা বলে পানি নেমে আসতে একেবারেই সময় লাগে না। কিছু বুঝে উঠার আগেই নিচু গ্রামগুলো পানিতে তলিয়ে যায়।
এই ক’মাসেই (জুন থেকে আগস্ট) পাকিস্তানে প্রায় ৭০০–৭৫০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে বলে খবর আসছে। শুধু একটা জায়গা না, একাধিক প্রদেশে একসঙ্গে এই মেঘ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে—Swat, Buner, Shangla—সব জায়গায় মানুষ আতঙ্কে আছে। তাদের অনেকের ঘরবাড়ি ভেসে গেছে, রাস্তা আর যাতায়াত ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো—এত ভয়াবহ পরিস্থিতির পরেও পূর্ব সতর্কতা ছিল না বললেই চলে। অনেকেই বলছেন, আমাদের দুর্যোগ সতর্কতাব্যবস্থা, রাডার, আগাম বার্তা দেওয়ার প্রযুক্তি আরও উন্নত করতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই দুর্যোগের পেছনে কি শুধু ব্যবস্থার ত্রুটি? নাকি আমরা জলবায়ুর প্রতি যা করছি, তারই প্রতিশোধ প্রকৃতির এই আচরণ?
আবহাওয়া এখন আগের মতো আর সহজবোধ্য না। উষ্ণতা বাড়ছে, গ্লেসিয়ার গলছে, বন কাটছে—এসব মিলেই যেন পাহাড়কে বাঁচতে দিচ্ছে না। ছোট্ট একটা বৃষ্টি এখন পাহাড়ের বুক চিরে সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
আমি ভাবি, যদি এখনই আমরা সচেতন না হই, পরিবেশ নিয়ে দায়িত্বশীল না হই—তাহলে এমন ঘটনা শুধু পাকিস্তানেই না, আমাদের দেশেও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বন্যা, ভূমিধস, মেঘ বিস্ফোরণ—সবই এখন শুধু সময়ের ব্যাপার।


