সেনা ও পুলিশের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক

বাংলাদেশে সেনাবাহিনী এবং পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে ‘রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে গণ্য হলেও, সময়ের সাথে সাথে এই দুই বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়েও নানা বিতর্ক উঠেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক উত্তাপ ও নির্বাচনী সময়গুলোতে এসব প্রতিষ্ঠান কতটা নিরপেক্ষভাবে কাজ করে, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।


সেনাবাহিনীর ব্যাপারে সাধারণত মানুষ কিছুটা আস্থা রাখে, কারণ তারা জাতীয় দুর্যোগ, শান্তিরক্ষা মিশন এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু কর্মকর্তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আবার, বর্তমান সেনাপ্রধানের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। যদিও বাহিনীর পক্ষ থেকে সব সময় নিরপেক্ষতার কথা বলা হয়, বাস্তবে কিছু ব্যতিক্রম তৈরি করেছে সন্দেহ।


পুলিশ বাহিনী নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো। দলীয় সরকারের অধীনে পুলিশ অনেক সময় দলীয় কর্মীদের মতো ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। বিরোধী দলের মিছিল বা সভা বন্ধ, নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, মামলায় পক্ষপাতিত্ব — এসব ঘটনা মানুষের কাছে পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে।


যদি কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনী সরাসরি রাজনৈতিক পক্ষ নেয়, তাহলে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে সেনা ও পুলিশ বাহিনীকে কঠোরভাবে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী পরিচালিত হতে হবে। নয়তো জনগণের আস্থা হারানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়বে।

Comments