
বাংলাদেশে ঘুষ-দুর্নীতির সবচেয়ে বড় ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠান হলো ভূমি অফিস। জমির খতিয়ান, নামজারি, মিউটেশন, দখলপত্র বা রেকর্ড সংশোধনের মতো সাধারণ নাগরিকসেবা নিতে গেলেই অধিকাংশ মানুষকে ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয়। এই ঘুষ চাহিদা সরাসরি না হলেও, “চা-পানির খরচ”, “ভাইদের কিছু দিতে হবে”—এই রকম ঢেঁকুরে চাপা ভাষায় হয়রানি চালানো হয়।
অনেক সময় সঠিক কাগজপত্র থাকলেও ফাইল “হারিয়ে যায়” অথবা “বাকি আছে” বলে দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা হয়, যতক্ষণ না ঘুষ দেওয়া হয়। ভূমি অফিসের কর্মচারী থেকে শুরু করে দালালচক্র—সবাই মিলে এক ধরনের অদৃশ্য সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলছে প্রতিনিয়ত।
এই পরিস্থিতি শুধু ব্যক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও আস্থার বিরাট ক্ষতি করে। ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা, অনলাইন নামজারি, হেল্পডেস্ক প্রবর্তন ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও মাঠপর্যায়ে এখনও বাস্তবায়ন দুর্বল।
ভূমি অফিসে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা না আনলে, ভূমি সেবা সাধারণ মানুষের অধরাই থেকে যাবে। তাই ঘুষমুক্ত ভূমি অফিস গঠনে প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।


