পাসপোর্ট অফিসে দুর্নীতি – নিজের চোখে দেখা কিছু অভিজ্ঞতা

পাসপোর্ট করতে গিয়ে একটা জিনিস খুব ভালোভাবে বুঝেছি—চাইলেও সহজভাবে কাজটা করা যায় না। সব কাগজপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও, অফিসে গিয়ে দেখা যায় কেউ না কেউ বলছে, "এই কাগজটা ঠিক নাই", "এইখানে ভুল আছে", ইত্যাদি। অথচ পাশে দাঁড়ানো কেউ একজন দালালের হাত ধরে এসেছে, তার কাজ চটজলদি হয়ে যাচ্ছে।

আমি নিজে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কিন্তু দেখি যারা অফিসের কারো সঙ্গে ‘সেট’ করে এসেছে বা কিছু ‘অতিরিক্ত খরচ’ করতে রাজি, তারা কোনো ঝামেলা ছাড়াই আগায়। কেউ কেউ আবার নিজের অজান্তেই দালালের খপ্পরে পড়ে অনেক বেশি টাকা খরচ করে ফেলে।

সবচেয়ে খারাপ লাগে যখন পুলিশ ভেরিফিকেশন করতে আসে। যদি তাদের খুশি না করা যায়, তাহলে "ঠিকানা মেলে না", "লোক পাওয়া যায় না" এসব অজুহাতে রিপোর্ট আটকে রাখা হয়।

সরকার ই-পাসপোর্ট চালু করেছে ঠিকই, কিন্তু দুর্নীতির এই চক্র এখনো ভাঙেনি। আমার মনে হয়, যতক্ষণ পর্যন্ত এই দালাল চক্র আর অফিসের ভেতরের কিছু অসাধু লোক একসাথে কাজ করবে, ততক্ষণ সাধারণ মানুষ ঠিকভাবে সার্ভিস পাবে না।

আশা করি, দিন বদলাবে। কিন্তু সেটা তখনই সম্ভব হবে, যখন আমরা নিজেরা সচেতন হবো, আর প্রশাসন এই দুর্নীতিগুলোকে সত্যি সত্যি গুরুত্ব দিয়ে দমন করবে।

Comments