দিনকে দিন বাড়ছে খুন: সমাজ কোথায় যাচ্ছে?

এখনকার দিনে খুনখারাবি যেন নিত্যদিনের খবর হয়ে গেছে। সকালবেলা পত্রিকা খুললে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখলে দেখা যায়—এই এলাকায় একজনকে কুপিয়ে হত্যা, ওই এলাকায় গুলি করে মারা হয়েছে। কোথাও পারিবারিক দ্বন্দ্ব, কোথাও জমি নিয়ে ঝামেলা, আবার কোথাও প্রেমঘটিত কারণে জীবন কেড়ে নিচ্ছে মানুষে মানুষে। যেন মানুষের জীবনের দাম এখন আর কিছুই না।


একটা সময় ছিল, যখন খুন শুনলে গা কেঁপে উঠত। এখন মানুষ এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছে যে, এসব খবর আর বড় কোনো প্রতিক্রিয়া তৈরি করে না। অথচ প্রতিটা খুন মানে একটা পরিবার ধ্বংস হয়ে যাওয়া, একটার পর একটা স্বপ্ন মাটি হয়ে যাওয়া।


এই অবস্থা কেন তৈরি হচ্ছে? এর পেছনে অনেক কারণ আছে—নৈতিক শিক্ষার অভাব, মাদকাসক্তি, সামাজিক সহনশীলতার অভাব, দ্রুত বিচার না হওয়া, রাজনৈতিক দৌরাত্ম্য, বিচারহীনতার সংস্কৃতি—সব মিলিয়ে সমাজে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যার ফলে মানুষের ধৈর্য কমে গেছে, সহ্যশক্তি নেই বললেই চলে। কথায় কথায় রাগ, আর সেই রাগ গিয়ে গায়ে হাত, পরে প্রাণনাশ।


এখন সময় এসেছে আমাদের সবার সচেতন হওয়ার। শুধু পুলিশ বা প্রশাসনের ওপর ভরসা করে চললে হবে না। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ—সব জায়গায় একসাথে কাজ করতে হবে। ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের মধ্যে নৈতিকতা, সহানুভূতি আর সহনশীলতা গড়ে তুলতে হবে। বিচারব্যবস্থা আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে হবে, যেন অপরাধী মনে করে—আইনের হাত লম্বা, পালিয়ে বাঁচা যাবে না।


এই সমাজ আমাদের, এই দেশ আমাদের। এখানে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদেরই দায়িত্ব। খুন, হিংসা, বিদ্বেষ—এসব থামাতে না পারলে কেউই নিরাপদ থাকবে না। আসুন, আমরা সকলে মিলে একটি মানবিক, সহানুভূতিশীল সমাজ গড়ে তুলি। যেখানে মতের মিল না হলেও, কারো জীবন যাবে না।

Comments