
দেশের উন্নয়ন ও সেবা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সমন্বয়কদের দুর্নীতি এখন এক গভীর সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে প্রশাসন ও উন্নয়ন প্রকল্পের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার জন্য সমন্বয়কারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়, সেখানে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, তারা নিজেদের অবস্থানকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য লুটপাটের পথ বেছে নিচ্ছেন।
সমন্বয়কদের হাতে থাকা তহবিল ও সম্পদের অপব্যবহার, অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের টাকা হরণ, দরপত্র ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অবৈধ সুযোগ সুবিধা গ্রহণ—এসব দায়িত্বহীনতা এবং অবিচারের চিত্র দিন দিন বাড়ছে। এই অবস্থা শুধু উন্নয়ন কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে না, বরং সাধারণ মানুষের ওপর সরকারের বিশ্বাস ও আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।
বিশেষ করে এখনকার দিনে দেখা যাচ্ছে, লুটপাটের মাত্রা ক্রমশ বেড়েই চলছে। আগে যেখানে সীমিত সংখ্যক ক্ষেত্রেই দুর্নীতি ঘটত, এখন তা অনেক বেশি পরিসরে, বড় ধরনের প্রকল্প ও তহবিলের ক্ষেত্রে নিয়মিত হয়ে উঠেছে। এই প্রবণতা বন্ধ না করা হলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ব্যাহত হবে, আর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অন্যায়ের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে।
সমস্যার মোকাবিলায় সরকারের কঠোর নিয়ম, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন ও সজাগ থাকতে হবে। একমাত্র সর্বস্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টাই এই নিকৃষ্ট অভ্যাস দূর করতে সক্ষম হবে।
শেষ কথা, সমন্বয়কদের লুটপাটের সীমানা যতই বাড়ুক না কেন, যদি তা নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, তাহলে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের বিশ্বাস দুটোই ধ্বংসের মুখে পড়বে।


