
বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সুশাসনের পথে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতাগুলোর একটি হলো ঘুষ ও দুর্নীতি। বিশেষ করে সরকারি অফিসগুলোতে ঘুষ লেনদেন এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সাধারণ মানুষ ন্যায্য সেবা পাওয়ার জন্যও ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছে। ভূমি অফিস, পাসপোর্ট অফিস, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতসহ বহু দপ্তরে ঘুষ যেন একটি "নিয়মিত রীতি" হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ অবস্থার কারণে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হচ্ছে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে এবং সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ জনগণ। অনেক সময় দরিদ্র মানুষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা সেবা পেতে গিয়ে বারবার হয়রানির শিকার হন, শুধু ঘুষ না দেওয়ার কারণে। অন্যদিকে যারা ঘুষ দেয়, তারা নিয়ম ভেঙেও সুবিধা পেয়ে যায়—ফলে সমাজে বৈষম্য বাড়ছে।
এই পরিস্থিতি রোধে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা। দুর্নীতিবিরোধী কমিশনের (দুদক) কার্যকারিতা বাড়াতে হবে, এবং যারা ঘুষ নেন বা দেন—তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিজিটাল সেবা বৃদ্ধি করলে, অফিসে সরাসরি যোগাযোগ কমবে এবং ঘুষ দেওয়ার সুযোগও কমে আসবে।
জনগণকেও সচেতন হতে হবে এবং অধিকার সম্পর্কে জানতে হবে। ঘুষকে ‘সামান্য নিয়ম’ বলে মেনে নেওয়ার মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। মনে রাখতে হবে—ঘুষ শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, এটি জাতীয় উন্নয়নের পথকে রুদ্ধ করে দেয়।


