আসসালামু আলাইকুম
হ্যালো serey.io পরিবার।
আমি আপনাদের নতুন বন্ধু @mrnazrul ,বাংলাদেশ থেকে যোগ দিলাম।
আশা করি মহান আল্লাহর রহমতে সবাই সুস্থ থেকে নিজ নিজ কার্য গুলো সুচারুভাবে ভাবে পালনে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছেন।
আলহামদুলিল্লাহ
আমিও মহান আল্লাহর অপার করুণা নিয়ে ভালো আছি।
আমার নাম ও ঠিকানা-
নাম-এ জে এম নজরুল ইসলাম
ঠিকানা -রংপুর , বাংলাদেশ।
আমার পরিবার পরিচিতি-
আমি ব্যাক্তিগত ভাবে,২ ছেলে ও ২ মেয়ের জনক। বড় ছেলের বয়স ৩০ বছর ও ছোট মেয়ের বয়স ৫+।
আমি পেশায় একজন গ্রাম্য ডাক্তার। হোমিওপ্যাথি আমার চিকিৎসার মুল মন্ত্র হলেও ,তাজা গাছ-গাছড়া,লতা-পাতা ,মূল,ছাল ,বাকল কান্ড ও বিভিন্ন ভেষজ এর সাহায্যে চিকিৎসা দিয়ে থাকি।
দীর্ঘ সময় নিজ এলাকার বাহিরে, অন্যান্য জেলায় অবস্থান করলেও বর্তমানে আমার নিজ এলাকা রংপুর জেলার ,গ্রামের বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছি।
আমি একজন মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের ছেলে। ছোটবেলায় সবার মত আমিও আমার বাবা-মার অনেক আদর স্নেহে স্বাধীনভাবে বেড়ে উঠেছি।মধুময় শৈশব ও কৈশোরের সাথে , শিক্ষা ও সমাজ সেবার সাথে জীবন শুরু করেছিলাম। ছন্দের তালে তালে ছুটে চলে জীবনের গতি। কোন এক সময় শিক্ষার শেষ ছুইতে না পারলেও, যৌবন এসে হাজির হয় আমার জীবনের দোরগোড়ায়।
যৌবনের শুরুটা ছিল পুরাই অগোছালো এবং ঘরে খেয়ে বনের মহিষ তাড়ানোর মতো।
সকালটা শুরু হতো এগারোটার পর থেকে। আর দিনটা চলতো আবার রাত বারোটা-একটা পর্যন্ত। বাকি সময়টাকে আরাম-আয়েশের জন্য বেছে নেওয়া হতো। ছিল না আহার নিদ্রার কোন সারণি বা তালিকা। সমবয়সী বন্ধুদের সাথে চলত চুটিয়ে চুটিয়ে সময় পার করার একটা নিরব কৌশল।
কারণে অকারণে চলতো আড্ডাবাজি হাসাহাসি ও খেলাধুলার যাবতীয় আয়োজন।
সাথে চলত সমাজ সেবার জন্য, সমাজের অসঙ্গতি গুলো খুঁজে বেড়ানো। কোন কিছু খুঁজে পেলেই তা নিয়ে চলতো সমাধান এবং শেষ করার পায়তারা।
কখনো কখনো সমাধান পর্যায়ে পৌঁছলেও ,কখনো কখনো সমাধান কে টানা সম্ভব হয়নি ।হস্তক্ষেপ হয়ে গেছে তৃতীয় পক্ষের। তৃতীয় পক্ষের সান্নিধ্যে থেকেও তাহা ফায়সালা বা সমাধানের চেষ্টা সব সময় অব্যাহত থাকতো।
ছোটবেলা থেকেই এক আল্লাহকে ছাড়া অন্য কাউকে বা কিছুতে হয় আমাকে স্পর্শ করতে পারেনি। তবে আজও দুটি জিনিসের ভয় আমার কাছে অতীব বেশি।
পাড়া কিংবা রাস্তার মধ্যে কুকুর ঘেউ ঘেউ করলে কিংবা কুকুরের দল দেখলে কিংবা কুকুরের আড্ডাবাজি দেখলে আজও আমার মধ্যে হালকা ভয় কাজ করে। যা ছোটবেলায় আরো অনেক বেশি ছিল।
কুকুর নিয়ে আমার জীবনে মারাত্মক একটি ঘটনা ঘটেছিল।
প্রতিদিন বাজারে আসা-যাওয়ার পথে পাশের বাড়ির কুকুরটির সাথে রাস্তায় দেখা হতো ।এটা ছিল ওই বাড়ির পোষা কুকুর। কুকুরটি ছোটবেলা থেকেই আমার সামনে বেড়ে উঠেছে। আমি তাকে বেড়ে উঠতে দেখেছি ।তবে অন্যান্য কুকুরের চেয়ে কুকুরটি সাইজটি ছিল একটু উঁচু এবং লম্বা। গায়ে ছিল সাদা ও হলুদ রঙের ছোপ। কুকুরটিকে আমরা যেভাবে চিনতাম কুকুরটি ওই পথে চলাচল কারিদের মতো আমাকেও চিনে রাখত ।সে আমাকে দেখলে কখনো ডাক দিত না বরঞ্চ লেজ নেড়ে আদর করার চেষ্টা করত।
এক সময় কুকুরটি বার্ধককে পৌঁছলে , বয়সজনিত কারণে সে পাগলা হয়ে গিয়েছিল। আমি জানিনা সে পাগলা হয়েছে। প্রতিদিনের মতো সে একই জায়গায় রাস্তায় শুয়ে ছিল। আমি যখন তাকে পিছনে ফেলে সামনের দিকে অগ্রসর হতে ছিলাম, সে পিছন থেকে এসে আমাকে কামড় দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। এ সময় সে আমার মাংসে কামড় দিতে না পারলেও আমার পরনের লুঙ্গিটি অর্ধেক ছিড়ে নিয়ে চলে যায়। পরে আমার কাছে অনেক লোকজন দেখতে এলে তারা বলে কুকুরটি পাগলা হয়েছে। আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া গাইতে গাইতে বাড়িতে এসে প্রবেশ করলাম। ওই দিনই বিকাল বেলা কুকুরটি নাকি মারা গিয়াছে। আমি ওই পথে যাওয়ার আগেই ভাবতেছিলাম, অন্য পথে যাব। অন্য পথে যাওয়ার আগেই কয়েকজনের সাথে দেখা হলে, তারা বলল কুকুরটি পাগলা হয়েছিল। কিছুক্ষণ আগে মারা গেছে। আমি মহান আল্লাহর কাছে আবারও শুকরিয়া আদায় করে ওই পথ দিয়েই বাজারের দিকে চলে গেলাম। পরে সবাই আমাকে বলতেছিল, এই পাগলা কুকুর আমাকে কামড়ালে আমিও নাকি পাগলা হয়ে মারা যেতাম।
যাক বন্ধুরা মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় সেদিন আমি এত বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছিলাম। যা আজও আমার স্মরণে বারবার খেলা করে।
ব্যক্তিগত জীবনে সরকারি এবং বেসরকারি চাকুরী কোনটাই আমি শেষ করিনি। উপযুক্ত সময় পৌঁছানোর আগেই আমি এসব চাকুরী থেকে স্বেচ্ছা অব্যাহতি নিয়েছিলাম। যেকোনো ধরনের চাকুরী ছোটবেলা থেকেই আমাকে তাড়া করে ।ছোটবেলা থেকেই আমি স্বাধীনচেতা ছিলাম এটা আগেই বলেছি।
কৈশোর থেকেই আমার আয়ের করার প্রতি আমার একটা বিশেষ ঝোক ছিল। তবে আয়ের চেয়ে ব্যয় করার প্রবণতা আমার জীবনে অনেক বেশি। বাবার হোটেলে খাইতাম ঘুরতাম বাবার পয়সা খরচ করতাম।
তবে আয় বন্ধ করার উপায় আমার মাথায় আসেনি। আয়ের পিছনে আমি না ছুটলেও আয় আমার পিছনে ছুটে ছিল। কিন্তু ব্যয় এসে আমার আয় কে সহজে করে কুক্ষিগত করে নিতে পারত।
অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসার সারমর্ম আমি সহজ সরল ও কঠিন ভাবে ভোগ করেছি। ব্যবসা চলাকালীন সময়ে আয়ের উৎসে উপনীত হইয়া ভোগ-বিলাসে গা ভাসিয়েছি।
ডিজিটাল এই সময়ে আমারও মাথায় একসময় ডিজিটাল হওয়ার জন্য নানা কুটকৌশল এসে জমা হতে থাকে।
তারোই অংশ হিসাবে আমি গুগল মামার দারস্ত হয়ে ইউটিউবে টুকরো টুকরো ভিডিও দেওয়ার চেষ্টা করি ।জানিনা কিছূ ! নিয়ম মানবো কি করে। যা পাই তাই দিয়ে youtube পূর্ণ করার চেষ্টা করি। প্লান ছাড়াই কাজ সফলতা সেখানে আসতে পারেনা।
এক সময় ইউটিউবে জানতে পারি যে, এডসেন্স একাউন্টের জন্য ইউটিউবে ঘুরাঘুরি না করে গুগলের ফ্রি ওয়েব সাইটে ব্লগিং করা যায় এবং তা থেকে সহজে মনিটাইজেশন পাওয়া যায়। youtube এর সাথে ওয়েবসাইটে স্বাস্থ্য বিষয় লেখা শুরু করলাম।
এ থেকে আয় করা যায় সবেমাত্র ইউটিউব দেখে বুঝতে শুরু করলাম। জানিনা কাম ।ব্লগে বারবার মনিটাইজেশন এর হোঁচট খেতে লাগলাম। তারপরও হাল ছাড়লাম না।
একদিন আমার বড় ছেলে ডাক্তারি পড়াকালীন সময়ে আমাকে বলল steemit নামের একটি প্লাটফর্মে লিখে সহজেই আয় করা সম্ভব। তার কোন এক বন্ধুর কাছে বিষয়টি শুনেছে।
তবে আমাকে পরামর্শ দেয় গুগলে সার্চ দিলে এমন কিছু জানা যাবে। যেমন শুনা, তেমন কাজ শুরু করলাম ।google এ সার্চ দিয়ে পেয়ে গেলাম steemit নামের এই প্লাটফর্মটি।
কিভাবে কি করবো জানিনা ।ইউটিউব ঘাটার চেষ্টা করলাম। সেখানেও steemit সম্পর্কে কিছু জানা যায় না।
এরপর একাউন্ট খোলার সাহসী উদ্যোগ নিলাম ।কয়েকবার একাউন্ট করার পর সব বাতিল হয়ে যায়। সে সময় আজকে একাউন্ট করলে সাত দিন থেকে ১৫ দিন পর অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে জানিয়ে দেওয়া হত বা অ্যাকাউন্ট এপ্রুভ করা হতো।
আমার দুই তিনটে অ্যাকাউন্ট তৈরি হলেও কোনোটির পাসওয়ার্ড আমার সংরক্ষণে ছিল না। আর আমি জানতাম না যে এর পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করতে হয়।
তারপর আবার একটি একাউন্ট করার উদ্যোগ নিলাম ।আমার সে গুড়েও বালি। কেন না একই ইমেইল দিয়ে দুইবার এস্টিমেট একাউন্ট করা যায় না। অবশেষে এস্টিমিটে সেম নামে অর্থাৎ @mrnazrul নামে অ্যাকাউন্টটি, কোন রকমে মাস্টার পাসওয়ার্ডটি সংগ্রহ করি। পাশাপাশি যা কিছু আছে সবগুলোরই স্ক্রিনশট নিতে থাকি। হয়ে যায় অ্যাকাউন্ট আমার জানামতে ৫-৬ এসবিডি আমার একাউন্টে জমা হয়।
আমি জানতাম না এসবিডি এবং স্টিম এগুলো আমার লিকুইড আয়। এক সময় টিপতে টিপতে সেইসময়ের এসবিডি কয়টি আমি হারিয়ে ফেলি। আবারও steemit এ কাজ করা বন্ধ হয়ে যায় ।ইউটিউব ব্লগ এবং স্টিমিট, ফেসবুকে কয়েকটি একাউন্ট খুলে ফেলি। ওসব নিয়ে সারাদিন ব্যস্ত থাকি। ২০১৯ সালে আবার সবকিছুতে কাজ করার চেষ্টা করি ২০২০ সাল পরে নানান steemit প্ল্যাটফর্মে লিখতে থাকি। আজও মোটামুটি ভাবে চলে ইউটিউব এবং ব্লগের কাজ।
হঠাৎ স্টিম এবং এসবিটি মার্কেটছর দরপতন হয়ে, আসলে আমি অনেকটা লেখায় দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে যাই ।তারপরও লেখা চালিয়ে যেতে থাকি ।
মাসখানেক আগে এক পরিচিত ছোট ভাই আমাকে @serey.io এবং blurt সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করে। আমি জেনেশুনে বিভিন্ন মাধ্যমে পড়ে @serey.io একাউন্ট করার জন্য পুরোদমে তৈরি হয়ে যাই। এতদিনে steemit এবং hive সম্পর্কে কিছুই আমার জানা হলো না। তারপরও serey অ্যাকাউন্টটি আমি নিজের উদ্যোগে করে ফেললাম।
তার ঐ পথ ধরে আজ আমি serey প্ল্যাটফর্মে আমার পরিচিত মূলক পোস্টটি করিতেছি আশা করি ভালো লাগবে।
বন্ধুরা এই ছিল আমার পরিচিত মূলক পোস্ট যা হয়তো অনেকের ভালো লাগবে অনেকের ভালো লাগবে না। আশা করব নতুন হিসাবে আমাকে এখানে গ্রহণ করা হবে এবং আমার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হবে। সবাই ভাল থাকবেন মহান আল্লাহর কাছে এই কামনা করে আমি আমার পরিচিত মূলক পোস্টটি আপনাদের সাথে তুলে ধরে ,আজকের মত এখানে শেষ করলাম।



আপনার গঠনমূলক মন্তব্যে আমি অভিভূত।
Hello from Ukraine! Thank you for such a detailed story about yourself) I wish you success here on Serey!
Hi Dear
Me @mrnazrul From Bangladesh.A New Member This Community.Pry Me.