কুলি-ছেলে আর তিন কন্যার গল্প আছে

M
শাহরাজাদ একটু থামলো পরে বললো কিন্তু মনে ভেবো না এর চেয়ে সুন্দর কাহিনী আর নেই। এর পর এক কুলির কাহিনী তোমাদের শোনাবো। সে কাহিনী আরও চমৎকার। আরও মজার।
এক সময়ে বাগদাদ শহরে এক প্রিয় দর্শন যুবক বাস করতো। এক সে। বিয়ে থা করেনি। কুলি-গিরি করে খায়। একদিন তার খালি ঝুডিটা সামনে রেখে রাস্তার একপাশে খদ্দেরের প্রতীক্ষা করছিলো। এমন সময় নজর পড়লো। ক্ষীণ-কটি উদ্ধত উন্নতাবক্ষণ অন্সর সদৃশ পরমা সুন্দরী এক যুবতী তারই দিকে এগিয়ে আসছে। দুধে-আলতা গায়ের রঙ। চাঁপার কলির মতো তার হাতের আঙ্গুলগুলো। কাছে এসে মুখের নাকবি ঈষৎ সরিয়ে সে বললো এই যাবে? 

ণীর মতো টানা টানা চোখ। সুরমা পরে আরও সুন্দর দেখাচ্ছে। টিকালো নাক। গোলাপের পাপড়ির মতো ঠোঁট মাথায় একরাশ ঘন কালো চুল। এমন রূপসী নারী সচরাচর চোখে পড়ে না! ও যখন ডাকলো, এই যাবে? যেন মধু ঢেলে দিলো তার কানে। কি মিষ্টি গলার স্বর।খালি ঝুডিটা তুলে নিয়ে তার পিছে পিছে চলতে থাকে সে। এক সময় এক বাডির দরজার সামনে এসে কড়া নাড়লো মেয়েটি। একটি ট্যাশ মেয়েছেলে দরজা খুলে দিলো। তার হাতে কিছু দিনার দিতে একবোতল মদ এনে দেয় সে। সরাবের বোতল ঝুডিতে তুলে দিয়ে আবার চলতে থাকে। তার পিছে পিছে চলে কুলি। এক ফলের দোকানের সামনে এসে থামে। কিছুফল কেনে। নানা দেশের সেরা সব ফল। সিরিয়ার আপেল, ওসমানী বেদনা, উমানের আখরোট, আলেপ্লোর আলুবখরা, দােমস্কাসের আঙুর, নীল-এর শশা, মিশরের পাতিলেবু, সুলতানী চাটনী, লাল রঙের জাম। ফলগুলো ঝুডিতে তুলে নিলো এবার হেনা, গোলাপ, চামেলী, যুঁই, আরও সব নানা জাতের সুন্দর সুন্দর সুগন্ধী ফুল কিনলো মেয়েটি। তারপর এল কষাই-এর দোকানে। পাঁচ সের মাংস নিলো। এর পর সে আলমন্ড কিনলো। তারপর এলো মিষ্টির দোকানে; পেস্তার বরফি, গাজরের হালওয়া, মাখন চীজ, দুধ, মধু, চিনি দিয়ে তৈরি হরেক রকম জিভে-জাল-আসা ভালো ভালো মেঠাই কিনে ঝুডিতে তুলে দিলো। তার সওদা করার বহর দেখে কুলি তো অবাক। ঝুডিতে আর অ্যাটে না। কী পোল্লাই ভারি হয়ে গেলো ঝুডিটা। একটু বিরক্ত হয়ে অথচ হাসতে হাসতে বললো, আগে যদি জানাতে মালকিন, তা হলে তোমার জন্য একটা খচ্চর ভাড়া করে। দিতাম। এতো কি মানুষ বইতে পারে।

Comments