ভ্রমণ প্রেমী ও বাইকাররা এতক্ষণে নড়েচড়ে বসলেন।
ওকে,,
বলছি,,,,
বান্দরবান জেলার থানচি-আলিকদম সড়কটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু ও পূর্বের সড়ক। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নির্মিত সড়কটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় আড়াই হাজার ফুট উচ্চতায় নির্মিত।
সাঙ্গু নদ ও মাতামুহুরী নদী উপত্যকা বিভাজনকারী চিম্বুক পাহাড়শ্রেণির ডিম পাহাড় এলাকার ওপর দিয়ে আঁকাবাঁকা সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে। ১২ ফুট চওড়া ও ৩৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য সড়কটি এঁকেবেঁকে চলে গেছে থানচি উপজেলা থেকে আলীকদম উপজেলায়। সড়কটি চালু হওয়ার পর থেকে আস্তে আস্তে ভ্রমণ প্রিয় লোকদের কাছে মেঘ ছুঁয়ে যাওয়া জায়গাটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে।
এক সময় এই জনপ্রিয় জায়গাটি গহীন অরণ্য ছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও প্রয়োজনের তাগিদে যাওয়া লোকজন পাহাড়ি পথে হাটতে হাটতে আলীকদম থেকে থানচি বা চাকরির প্রয়োজনে এক/দুই দিন পায়ে হেঁটে সেনা ক্যাম্পে দেশ রক্ষায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা যেতেন। এখন সেই এলাকার ফসল সকালে ক্ষেত থেকে তুলে দুপুরে বাজারে বিক্রি করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পাহাড়ি মুরুং বা মার্মাদের জুম চাষ আপনাকে আরো আনন্দিত করতে। এখানকার নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা প্রায় ভিড় জমান। এতে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রেখে যাচ্ছে আলীকদম-থানচি সড়কটি।
৩৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য সড়কের জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থিত আশ্চর্যে ঘেরা ‘ডিমপাহাড়’।
যা ভ্রমণপিয়াসী মানুষের কাছে এখন অন্যতম পছন্দের একটি স্থান। সড়কটি নির্মাণের ফলে বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তবর্তী কিছু এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও সহজ হয়েছে।
যে সব সতর্কতা অবলম্বন করবেনঃ
বাইক নিয়ে এই রাস্তায় ভ্রমণ করতে গেলে অবশ্যই বেশ কিছু জিনিস মাথায় রেখে বাইক রাইড করতে হবে। কারন আপনার ছোট্ট একটি ভুল বড় ধরনের দূর্ঘটনার কারন হতে পারে।
০১-পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা তাই নিজের লেন বাদ দিয়ে অন্য লেনে গাড়ি চালাবেন না।
০২- রাস্তা ফাকা বলে অতিরিক্ত গতিতে বাইক চালাবেন না।
০৩-নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের ৪ টা ফটোকপি সাথে রাখুন।
০৪-পরিচয় পত্রের কপি সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে জমা করতে হবে।
০৫-সকাল ০৬ টা থেকে বিকেল ০৫ টা পর্যন্ত এই রাস্তায় ভ্রমণ করতে পারবেন।
০৬-স্থানীয় মানুষের সাথে গ্যাঞ্জামে জড়াবেন না। এখানে বসবাস করা প্রায় উপজাতিই বিভিন্ন গোষ্ঠীর সাথে জড়িত।
কিভাবে যাবেন??
-আপনি বাংলাদেশের যে কোন জেলা বা উপজেলা থেকে দুই পথে থানচি-আলীকদম বা আলীকদম-থানচি রোডে ভ্রমণ করতে পারবেন।
আপনি চাইলে বান্দরবান সদর দিয়ে থানচি হয়ে সড়কপথে আলীকদম যেতে পারবেন।তখন আপনি এই রোড ব্যবহার করেই যাবেন।
আবার কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার বাস টার্মিনালে নেমে ওখান থেকে চাঁদের গাড়ি করে আলীকদম-থানচি রোডে ভ্রমণ করতে পারবেন।
তুলনামূলক ভাবে চকরিয়া হয়ে গেলেই সহজে আপনি ভ্রমণ করে আসতে পারবেন।
আজ এতটুকু,,, পরবর্তীতে আরো কিছু নিয়ে আপনাদের কাছে আসব।
ধন্যবাদ

