ওয়াশরুমে টানা একঘন্টা পানীর দিকে তাকিয়ে বসে আছি,,,,,, শালা এতো শীতে কিভাবে তোরে আমি ঢালবো পানী,,,,,
গালে হাত দিয়ে ভাবছি শুধু আর পানীর দিকে তাকিয়ে,,,,,,,
আমি: এ ভাই তোর এতোটুকু মায়া হয় না, ওরে পানী তুই দেহ পাবি কিন্তু আমার মন পাবি না রে,,,,,,
ওদিকে আবার আম্মু কিচেনে থেকে ডাক দিচ্ছে....
আম্মু: নাঈমমমমমমম,,,,,,
আমি ওয়াশরুম থেকেই,,,,,,
আমি: জ্বি জ্বি জ্বি আম্মু,,,,,,
আম্মু: বলছি গোসল করলি নাকি এখনো পানীর দিকে তাকিয়ে বসে আছি জলদি কর।
-- হ্যাঁ হ্যাঁ এই তো আম্মু এই করে নিচ্ছি।
শালা কিভাবে না বলবো আজ পাক্কা সাতটা দিন গোসল করিনি শুধু বডিস্প্রে দিয়ে কাটিয়ে দিয়েছি,,,,,, তাতে কি? চল ভাই নাঈম আজও বডিস্প্রের সাহারা নিয়ে পানীকে টাটা বাই বাই বলে দে,,,,,,,
আমি এবার পানীকে টাটা বলে দিয়ে মাথায় একটু পানী মেখে নিলাম নয়তো আম্মু বুঝতে পেরে যাবে আর তাতে আমার ইজ্জতের ফালুদা হয়ে যাবে,,,,,,,
আমি এবার রুমে পৌছাতেই....
আম্মু: নাঈম তোর আজ ইন্টারভিউ জলদি কর বাবা কখন যাবি?
__শালা পড়াশোনা শেষ হতে না হয়েই জব খুজা শুরু,,,,,,,
ভেবেছিলাম স্টাডি শেষ করে একটু ফ্রেন্ডদের সাথে চিল করবো, কিন্তু না আমরা তো ছেলে আমাদের তো মাথায় উপরে দায়িত্ব এটা আমার গুণধর আব্বু বলেছে,,,,,,,
আমি: আম্মু ছেলের রোজগার করা টাকা কি এখনি বাসায় আনা দরকার, কোথায় একটু বলবা নাঈম যা একটা দুটো প্রেম কর তারপর বিয়ে কর হানিমুনে যা একটু । একটু বেশি করে হ্যান্ডমানি দিবা তা না করে ছেলেকে জবের জন্য পাঠিয়ে দিচ্ছো।
_ভাইরে ভাই সাথে সাথে শের এর আওয়াজ, শালা যেখানেই ভয় সেখানেই সন্ধা হয়। আরে আমার বাসার শের হচ্ছে আমার আব্বু।
আব্বু: হ্যাঁ তোমায় তো মুন্র হানিমুনে পাঠাবো, কুলাঙ্গার কোথায় একটা, দুপয়সা রোজগার নেই আবার এদিকে স্বপ্ন দেখো ছেলে আমার হানিমুনে বিয়ে করবে, বলি খাওয়াবি কি রে বৌকে (রেগে রেগে)
___আচ্ছা পাঠকভাইয়ারা আপনারাই বলেন আমার কি কিছু স্বপ্ন থাকতে পারে না। শালা কেউ বুঝলোই না আজ পর্যন্ত,,,,,,,,
আমি এবার ড্রেস পড়ে সারা শরীরে বডিস্প্রে লাগিয়ে ড্রয়িং রুমে গেলাম, দেখি আমার বাসার শের বসে আছে আর ওদিকে আম্মু কিচেন থেকে....
আম্মু: বস টেবিলে খেয়ে যাবি।
আমি এবার আব্বুর সামনে বসতেই....
আব্বু: উহহহহহ হতরছাড়া আজও গোসল করেনি, সারা শরীরে বডিস্প্রে মেরে বের হয়েছে।
__এই রে আব্বু তাহলে বুঝতেই পেরে গেলো, শালা ইজ্জতের ফালুদা হয়ে গেলো মাইরি,,,,,,,,
আব্বু: এই শুনছো নাঈমের আম্মু, তোমার ছেলেকে গোসল করতে বলবা নাহলে কিন্তু আমি বাসা থেকে ওকে লাথি মেরে বের করে দেবো বলেই দিচ্ছি (রেগে রেগে)
আমি: আমায় যে বের করে দিবা তাহলে এই সম্পত্তিগুলো কার নামে লেখবে শুনি? তুমি কি চাও না তোমার নাতি নাতনিদের কোলে নিতে(আব্বুর দিকে তাকিয়ে আমি হাসতে হাসতে)
আব্বু আরো রেগে গিয়ে.....
আব্বু: এই তোর লজ্জা করে না এসব বলতে, এখনো বাপের টাকায় গিলছিস আবার বলছি সম্পত্তি চাই, খাওয়াচ্ছি এটাই অনেক (প্রচুর রেগে রেগে)
আমি: জ্বি জ্বি জ্বি আব্বু, আর সম্পত্তিটাও দিয়ে দিলে ভালো হয়।
আব্বু আরো রেগে কন্ট্রোল না করতে পেরে,,,,,,
আব্বু: এই নাঈমের আম্মু একে থামাও নাহলে আমি বাসা থেকে সারাজীবনের মতো চলে যাবো থাকবা তোমরা মা বেটাতে,,,,,,
আম্মু এবার হাসতে হাসতে কিচেন থেকে বেরিয়ে.....
আম্মু: আহহহ নাঈম কি হচ্ছে চুপ কর।
আমি আবারো হেসে আব্বুর দিকে তাকিয়ে....
আমি: বেশ চলে যাবে ভালো কথা, কিন্তু কিছু টাকা দিয়ে যেও বুঝতেই পারছো বাজারের জিনিসপত্র শাক-সব্জি আনতে হবে তাই না,,,,,,,
আব্বু পুরো রেগে আগুন.....
আব্বু: নাঈমের আম্মু আমি কিন্তু এবার ওকে জুতার বাড়ি দেব (রেগে রেগে)
আমি সাথে সাথে পাঁচটা আঙুল দেখিয়ে,,,,,,
আমি: একটা জুতার বাড়িতে পাঁচটা টাকা, যটা মারবা ঠিক করে টাকা দিবে কিন্তু আমি জানি তুমি খুব পাকা হিসাবি,,,,,,,
আম্মু এবার রেগে গিয়ে আমার মাথায় একটা থাপ্পড় মেরে....
আম্মু: এই চুপ কর,,,,,,
আমি এবার চুপ করে খাবার খেতে লাগলাম।
খাবার শেষ করে আম্মুর আঁচলে হাত মুখ মুছতে যাবো....
আব্বু: এই গামছায় হাত মুছে আয়,,,,,,,
....
আমি: বাব্বাহ তোমার বৌ বলে কি তুমিই হাত মুছতে পারবা নাকি আমারো আম্মু আমিও মুছতে পারি ওকে, চুপ থাকো (হাল্কা হেসে)
আব্বু: এই নাঈমের আম্মু এই ছেলেটা দিন দিন যতো বড়ো হচ্ছে ততো ফাজলামী করা শুরু করছে, সব তোমার জন্য,,,,,,
আম্মু: আমি আবার কি করলাম? আমি গেলাম তোমাদের বাপ বেটার মাঝে আমি নেই,,,,,,
এটা বলেই আম্মু কিচেনে চলে গেলো,,,,,,
আমি এবার আব্বুর দিকে তাকিয়ে....
আমি: আব্বু আজ তো আমার ইন্টার্ভিউ...
আব্বু: জ্বি জ্বি দোওয়া লাগবে তো, করে দিলাম বাবা ভালো করে দিস

