“একটি অসমাপ্ত ভালবাসার গল্প”
Photolink : https://images.app.goo.gl/p8VtkJJR7t98h1iq5
স্বপ্ন ছিল কারো প্রেম হয়ে তার ভেতর জন্ম নেব। খুব জলদি তা পূরণ হয়।
আমি তখন ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী। নতুন ক্লাস নতুন নতুন ছেলে মেয়ে। ভাব টাই আলাদা। বান্ধবীরা মিলে গবেষণা করতাম ছেলেদের মধ্যে কে বেশী হ্যান্ডসাম ।
রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারের মেয়ে আমি। আমার কোন ছেলে বন্ধু নেই । আমার পরিবার এটা গ্রহণ করে না।
একদিন ক্লাসে একটা ছেলের দিকে নজর পড়ল । কিছুক্ষনের জন্য ধাক্কা খেলাম। এত সুন্দর ছেলেটা। আমি বারবার তাকাচ্ছিলাম।
দম বন্ধ হয়ে আসছিল। এরপর থেকে শুধুই চোখাচোখি হত। ছেলেটার নাম আকাশ। একটু বেশী স্মার্ট ছিল অনেক ভাব নিয়ে চলত ক্লাসে।
এভাবে ২টা বছর কেটে গেল। প্রায়ই উড়ো কথা শুনতাম যে ওর অমুক মেয়ের সাথে সম্পর্ক অমুক মেয়ে ওর বান্ধবী।
আমার ভাললাগা আর ভালবাসায় পরিণত হয় নি।
এস.এস.সি রেজাল্ট দিল। আমরা দুজনই এ পেলাম। আমাদের সাথের সবাই ভাল জায়গায় ভর্তি হল। পরিবারের চাপে আমি আগের জায়গায়তেই ভর্তি হলাম।
ভর্তি হয়ে জানতে পারলাম আকাশ ও এখানেই ভর্তি।
শুরু হল নতুন অধ্যায়। এইচ.এস.সি এর ক্লাস… ক্লাস শুরু করার পর আই ডি কার্ড বানানোর জন্য ফরম দেয়া হয়। সেখানে আকাশও ছিল। আমি ফরমটা ঠিক ঠাক মত পূরণ করে দেই।
এরপর কিছুদিন পর পরীক্ষা এসে গেল। পরীক্ষার ২,৩ দিন আগে আকাশ আমাকে ফোন দিল। একটু অবাক হলাম। অপ্রত্যাশিত ছিল।
বুঝলাম ফরম থেকে নম্বর নিয়েছে। টুকটাক পড়াশোনা নিয়ে কথা হল। এরপর প্রায়ই আকাশ এর সাথে কথা হত।
ও আমাকে বন্ধুত্ব করতে বলে। না না করেও পরে রাজি হয়ে যাই। ভালই চলছিল। একদিন ভালবাসা নিয়ে কথা হল।
আকাশ আমাকে জানায় যে অন্তরা নামের একজনকে ওর খুব ভাল লাগে। কিন্তু বিয়ে সম্ভব না। ওদের পরিবার মানবে না।
কিন্ত ও নাকি অনেক ভালবাসে। এর কিছুদিন পর ও আমাকে প্রোপোজ করে। অনেক আগে থেকেই এসব ব্যাপারে সতর্ক ছিলাম।
তাই ওর ফাঁদে পা দিলাম না। কিন্তু ও দক্ষ খেলোয়াড় এর মত আমাকে কনভিন্স করতে লাগল। ক্লাস ৯ থেকেই নাকি আমাকে ওর ভাল লাগে।
এসব বলে আমাকে মুগ্ধ করতে লাগল। আমি ওকে অন্তরার কথা মনে করিয়ে দিলে বলত যে ওটা এমনি। শুধু ভাল লাগা।
ভালবাসা না। আমি তোমাকে ভালবাসি। আমি তবুও মানলাম না। এভাবে কেটে গেল ৭ মাস।
কিছুদিন পর আমার তখন মনে হল যে ও আমাকে আসলেই ভালবাসে। আস্তে আস্তে দুর্বল হতে লাগলাম। ওর প্রেমে সাড়া দিলাম।
অনেক ভালবাসা, ছোট ছোট আশা নিয়ে আমরা চলা শুরু করলাম।
অবাক করা বিষয় হল মাত্র ২০দিন পরই এই ভালবাসায় ফাটল ধরে। দুজন মানুষের মানসিকতা কখনও এক হয় না।
কিন্তু এত ভিন্ন হতে আমি দেখিনি। ওর অনেক মেয়ে বন্ধু ছিল। মেয়েদের সাথে হাত ধরে কথা বলা, ঘুরা, খেতে যাওয়া এগুলো ছিল ওর নিয়মিত ও স্বাভাবিক ব্যবহার।
আমি এগুলো মানতে পারতাম না। রাগ হত অনেক। এর কিছুদিন পরই ও আমাকে অনেক বাজে প্রস্তাব দেয়…
আমি এসবে রাজি হই না…ও বলে, বিয়ে তো আমাদের হবেই।
আমি রাজি হই নি। জমে থাকা রাগ গুলো ঘৃণায় পরিণত হল। তখন বুঝলাম প্রথম প্রেম অন্তরাকে ভুলে ক্ষণিকের পরিচয়ে যে আমাকে ভালবাসতে পারে তার দ্বারা সব সম্ভব।
এই ব্যাপার গুলো নিয়ে ও আমাকে চাপ দিতে থাকে। ও পাগল হয়ে উঠল। প্রায়ই জিজ্ঞেস করত বাসায় আমি একা নাকি।
অনেক খারাপ ব্যবহার করত আমার সাথে। ভয় দেখাত। আমি মানসিক সমস্যায় ভুগতে থাকি। হাত কাটা শুরু করলাম। উল্টা পাল্টা পিল নিতাম।
নিয়ে নেশাগ্রস্থের মত পরে থাকতাম। এরপর ওর চাপ সহ্য করতে না পেরে আমি ব্রেকাপ করি।
মুক্তি পাবার জন্য আমি ওকে ছাড়লাম। আমার মুক্তি হল না। ও আমাকে ছাড়ল না। ব্লেক মেইল করতে লাগল আমি গেলে ও নাকি আত্মহত্যা করবে।
আমিও ওকে ছাড়া থাকতে পারতাম না। ওকে আমি ভালবাসতাম এখনও বাসি। কিন্তু আমি না পারব ছাড়তে না পারব ভাঙ্গা জিনিস জোড়া লাগাতে।
পরিসমাপ্তিঃ
এখনও আমরা একসাথেই আছি। আমরা গার্ল ফ্রেন্ড বয় ফ্রেন্ড ও না আবার বন্ধুও না। আমরা কি হয়ে আছি নিজেরাও জানি না।
আমি সত্যিকারের ভালবাসতাম এখনও বাসি। আমার জন্য সম্ভব না ওকে ছাড়া থাকা। ওকে বিয়েও করতে পারব না।
ধোঁকাবাজ মানুষের সাথে ঘর করা যায় না। এটা আমার মনকে বুঝাতে পারছি না। এই বছরে আমার এইচ.এস.সি পরীক্ষা।
এখনো আমি জীবনের হিসাব মেলাতে পারছি না। এত অল্প সময়ে জীবনটা তিক্ত হয়ে যাবে বুঝিনি।
মানুষ আবেগের বশে ভালবাসার মানুষের জন্য কান্না করে। সে ভাবে এই মানুষটিকে ছাড়া সে বাঁচবে না। এটাই বুঝি সত্যিকারের ভালবাসা। কিন্তু সেটা সত্যিকারের ভালবাসা না।
এটা কিছু দিন/মাস/বছর পর সে নিজেই বুঝতে পারে। আমি এখন সেই দিন/মাস/বছর গুলো পার করার অপেক্ষায় আছি।
যেদিন ওকে ছাড়া থাকতে আমার একটুও কষ্ট হবে না…..
Photolink : https://images.app.goo.gl/KcVU95NB9zbGyrUc7
ক্ষমা করে দিও
“আকাশ তোমার সময় হলে একটু ভেব আমার কিছু প্রশ্নের জবাব দিয়ে যেও...।”
অর্থহীনের এই জনপ্রিয় গানটি শুনতে শুনতে যাচ্ছি।। মাগুরা থেকে খুলনা । বাস এ ঊঠার পর থেকেই এই গানটি শুধু শুনতে ইচ্ছে করছে ।
অনেক স্মৃতি বিজড়িত মাগুরা শহর কে ছেড়ে যেতে হচ্ছে। যেতে ইচ্ছে করছেনা কিন্তু দুইদিন পর থেকে খুলনা ইউনিভার্সিটি এর ক্লাস শুরু হবে।
আস্তে আস্তে মেঠ পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে বাসটি। চলে যাবার সময়ে মনে হতে লাগলো মাগুরায় ফেলে আসা দিন গুলো। আমি যেন ফিরে গেলাম আমার হারানো আমিতে।
আমি তখন এস,এস,সি পাশ করে মাগুরার সরকারি কলেজে ভর্তি হলাম। নিজেকে খুব স্বাধীন মনে হত।
সারাদিন হই হুল্লর করে দিন কাটতো। কিন্তু আস্তে আস্তে জীবনটা কেমন একঘেয়েমি মনে হতে লাগলো। ধরা বাধা জীবনটা কে আর ভালো লাগছিল না।
তখনি আমার জীবনে আবির্ভাবতার। খুবিই অল্প সময়েই তার আবির্ভাব ।
কলেজ লাইফের প্রথমদিনেই আমি নিলাকে দেখি...। কিন্তু কখনো কথা বলা হয়নি। শুধু জানতাম মেয়েটা পড়ালেখায় অনেক ভালো ছিল।
একা একা সময় কাটতো না।। রুম মেট দের দেখাদেখি মিগে একটা আইডি খুললাম .। প্রথম দিনেই “মাগুরা কলেজ”নামে একটা চ্যাটরুমে ঢুকি।
ঐ খানে আমার কলেজের সব বন্ধুদের খুজে পাই।। আর পাই নিলাকে।। এতদিন একসাথে পড়ে ছি কিন্তু কোন দিন ও কথা বলি নি আমরা...। মিগ থেকেই আমাদের কথা বলা শুরু।
এদিকে টেস্ট পরিক্ষা চলে এসেছে ... পড়ালেখায় আমি ব্যস্ত। মাঝে মাঝে নিলা আমাকে পড়ালেখায় হেল্প করতো।
ওর সাথে আমার মোটামোটি একটা বন্ধুত্ব ছিল। সেটাকে ভালো বন্ধুত্তে নিয়ে যেতে চাই আমি।
আর সে জন্য নতুন একটা সিম দিয়ে ও কে এসএমএস পাঠাইলাম।। ও রেস্পন্স দিল ভালভাবেই যা আমি আশা করিনি।।
পরে জানতে পেরেছি ঐ দিন ওর মন অনেক খারাপ ছিল তাই আমাকে ঐ ভাবে গ্রহন করছে।
এভাবে আমি অর সাথে অনেক সুন্দর বন্ধুত্ব করি... কিন্তু জানত না যে এসএমএস এর ছেলেটিই ওরই ক্লাসমেট ।
এর মাঝে আমাদের মধ্যে খুবি ভালো বোঝাপড়া হয়েগেল। আমি ওকে প্রায় রাতে ফোন করে গান শুনাতাম ।
ও আমার গলার স্বর বুঝতে পারত না। অনেক কথা বলতাম... অনেক মজা করতাম।। কিন্তু একটি বার এর জন্য ও আমাকে চিনতে পারেনি...।
একদিন মনে হল আমরা অনেক গভিরে চলে যাচ্ছি। আস্তে আস্তে আমারা পরনির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছি। মনে হলে নিলাকে এখনি জানান ভালো।
ওকে সবকিছু বললাম। এসএমএস এর ছেলেটি যে ওর ক্লাস ফ্রেন্ড এইটা ভেবে ও অনেক লজ্জা পেয়েছিল সেদিন। কিন্তু আমাকে ভুল বঝেনি।
ও হয়তো এসএমএস এর ছেলেটিকে পছন্দ করে ফেলছিল, েই জন্য ও আমাকে হয়তো ভুল বুঝিনি।
আমাদের বন্ধুত্ব যেন আর বারতে লাগলো। জীবনের অনেকটি অংশ জুড়ে ছিল ও। কল্পনায় ওকে ভাবতাম আমি।
একাকি নিঃসঙ্গ সময় গুলো অপলকে কেটে যেত ওকে ভেবে। ওকে স্বপ্ন সাথি করে কল্পলকের ধ্রুবতারা ভেসে বেরাতাম আমি।
আস্তে আস্তে ওকে হৃদয়ের গভীরে অনুভব করতাম। কিন্তু ওকে বলতে ভয় হত!!
সব ভয়কে জয় করে একদিন বলে ফেললাম আমি...। জানিনা ও কতটা অবাক হয়েছিল। কিছুক্ষণ পরই ওর এসএমএস পেলাম। জানতে পারলাম ও আমাকে ভালবাসে।।
এভাবেই আমাদের কাছে আসা। এরপরের সময়টা স্বপ্নের মত। এদিকে ওদিকে ঘুরা ঘুরি।
ক্লাস,ব্যাচ ফাকি দিয়ে বিভিন্ন কফিশপে। দেখা করা।ওকে রিকশাতে তুলে দেয়া, ওর ভাললাগার গান শোনান, অপলকে তাকিয়ে থাকা ওর দিকে। আর কত কি...!!!
আমদের বিচরনে মুখরিত হয়ে উঠত চারপাশ। অনেক ভালবাসতাম ওকে।
এইচ এস সি এর পর ঢাকায় আসলাম কোচিং এ। তখনও ঘুরে বেরাতাম একসাথে।
কিন্তু হটাত কি যেন হল। বাসা থেকে যেনে গেল। আপুর কাছে ধরা খেলাম। অনেক বকা দিল আমায়।
মাগুরাতে আমার বাসায় ফোনে জানান হল। আমাকে সবায় মিলে অনেক উত্যক্ত করতে লাগলো।
অনেক কেঁদেছিলাম...। সমস্ত রাগ গিয়ে নিলার উপরে ঝারলাম। বেচারি আমাকে অনেক ভালোবাসতো।
আমার আচমকা আক্রমণে ও অবাক হয়েছিল। ওর প্রতিটি অশ্রু জলের সাক্ষী আমি ছিলাম, আমি কিন্তু ওর সাথে শেয়ার করে সব কিছু আগের মত করে নিতে পারতাম।
কিন্তু থার্ড পারসন রুপে একজন এসে আবার এলোমেল করে দিল আমায়। আমাকে নিলা থেকে দূরে ঠেলে দিল।
আর বাবা মাকে অনেক ভয় পেতাম, ভাই বোন দের কেও... । আমার এই কথা গুল কাউ কে বলতে পারতাম না।
নিলার সাথে কথা বলার চেস্টা করেও পারতাম না। পারিনি আমি, ভালবাসার সেই কাঙ্ক্ষিত প্রতিশ্রুতি রাখতে।
ও এদিন অনেক কেঁদেছিল। কিন্তু কই করবো আমি। আমার সাথে থাকলে যে আর কাদতে হত ওকে। তাই নিজেকে ওর থেকে সরিয়ে নিলাম কাপুরুষের মতই।
সেদিনের পর থেকে আর আমাদের ভালবাসা টেকেনি। আমি বারবার ফিরে আসতে চেয়েছি, কিন্তু পারিনি।
আবার নিলাকে ভুলতেও পারিনি। ও আমাকে অনেকটা ভালবাসত। কিন্তু আমি কিছুই করতে পারিনি।
এই ছিল আমার জীবনের নিলা অধ্যায়। এখনে মাঝে মাঝে ওর সাথে দেখা হয়। কিন্তু ও নিজেকে অনেকটা গুছিয়ে নিয়েছে বলে আর কস্ট দিতে ইচ্ছে হয় না।
ক্ষমা করে দিয় আমাকে তুমি। কেও বুঝেনি আমাকে, জানিনা তুমি বুঝেছ কিনা......

