আসসালামুআলাইকুম বন্ধুরা, আশা করি সবাই ভালো আছেন? আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানীতে আমিও অনেক ভালো আছি।
আজকে আমি আপনাদের সাথে যে কথাগুলো শেয়ার করব তা হচ্ছে বাংলাদেশের মূল শক্তি কোন কোন বাহিনী। কিভাবে তারা নিজের জীবনকে বিপন্ন করে সকলের জীবন বাঁচায়।
সেনাবাহিনীঃ
বাংলাদেশের প্রায় সব বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। একটি দেশের মূল শক্তি হচ্ছে সে দেশের সেনাবাহিনী। দেশে যুদ্ধ লাগলে যুদ্ধ করতে সৈনিক এর প্রয়োজন হয়, আর এই সৈনিক সেনাবাহিনীর একটি অংশ। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনীতে চাকরি নিতে গেলে কি কি লাগেঃ
সেনাবাহিনীর চাকরিতে গেলে সাধারণত নিজের যোগ্যতার ওপরে হয়ে যায়। সেনাবাহিনীর চাকরি নিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা পাশাপাশি শারীরিক দক্ষতা ও থাকতে হয়। সেনাবাহিনীর মাঠে সাধারণভাবে পুশ আপ, সিট আপ, দৌড় ঝাঁপ ইত্যাদি পরীক্ষা করানো হয়।
এসব পরীক্ষায় যদি কেউ পাস করে তাহলে পরবর্তী ধাপে যেতে পারে।পরবর্তী ধাপে লিখিত পরীক্ষা হয় লিখিত পরীক্ষায় পাশ করতে পারলে, ভাইভা পরীক্ষা দেওয়া হয়। ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পেলে সাধারন একটি মেডিকেল টেস্ট করানো হয়। এগুলো মূলত প্রথম দিনেই শেষ করা হয়।এরপর কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হয় এবং চূড়ান্ত মেডিকেল করানো হয়।যেখান থেকে কেউ উত্তীর্ণ হতে পারলে তার সেনাবাহিনী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়। তবে বর্তমান সময়ে দুর্নীতি এতটা উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে এখানেও দুর্নীতি করা হয়। শারীরিক দক্ষতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও টাকার অভাবে সেনাবাহিনী হওয়ার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায় অনেকের। এখানেও বড় বড় মন্ত্রীদের লোকজন আগে নেওয়া হয় তারপর সাধারণ জনগণকে নেওয়া হয়। যে কারণে বর্তমান সময়ে কোন বাহিনীতে যোগ্য পাওয়া কষ্টকর। তবে সেনাবাহিনী লোকজন নিজে রক্তবিন্দু শেষ ফোটা দিয়ে দেশকে, দেশের মানুষকে রক্ষা করার চেষ্টা করে।
রাতের পর রাত দিনের পর দিন তারা দেশের মানুষের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে। নিজেদের আত্মীয়স্বজনের কাছে যাওয়ার সময় টুকুও অনেক সময় পায়না। একজন সৈনিকের জীবনসঙ্গিনী তার চেয়ে বড় সৈনিক হয়। কারণ প্রিয়তমাকে কাছে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা সবারই হয়, তারপরও সৈনিকের স্ত্রী ধৈর্য ধারণ করে থাকে। যে কারণে সৈনিকের স্ত্রী সৈনিক এর চেয়েও বড় সৈনিক।
সৈনিকের ট্রেনিংঃ
সৈনিকের চাকরি হওয়া যতটা কঠিন, সৈনিকে টিকে থাকা তার চেয়ে বেশি কঠিন। এখানে ট্রেনিং থেকেই অনেকে পলায়ন করে। যারা টিকে থাকতে পারে তাদের ভাগ্য অনেক ভালো। সৈনিকের একটা প্রচলিত কথা আছে,'' ভয় পেলেই তুমি শেষ, ঘুরে দাঁড়ালেই বাংলাদেশ''।
ফায়ার ফাইটারঃ
ফায়ার ফাইটার নিজের জীবনকে বাজি রেখে অন্যকে বাচানোর চেষ্টা করে। কোন জায়গায় মারাত্মকভাবে অগ্নি দুর্ঘটনা হলে সাথে সাথে ফায়ার ফাইটার সেখানে গিয়ে দমনের চেষ্টা করে। যদি ভেতরে কোনো মানুষ থাকে নিজেদের জীবনকে ঝুঁকি নিয়ে তাদের কে বাঁচানোর জন্য আগুনের ভিতর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
এই কথা বিবেচনা করে না যেখানে গেলে তাদের মৃত্যু ঘটতে পারে। নিঃস্বার্থভাবে অন্যদেরকে বাঁচানোর জন্য কাজ ক��ে যায়। আসলে এরা সম্মানের যোগ্য, কিন্তু কিছু অর্থাহংকরী মানুষ তাদের সম্মানকে কিনে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করে। অর্থাৎ টাকার গরমে তাদের নিজেদের লোককে এই পেশায় ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে সকল বাহিনীর লোকজন খুব পরিশ্রম করে থাকে।
নৌ বাহিনীঃ
নৌ বাহিনীর লোকজন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে থাকে। সমুদ্র পথে যাত্রা খুব সহজ মনে হলেও এটা খুবই মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এবার সমুদ্রের নিচে কোনো কিছু ঢুকে গেলে সেটাকে সমুদ্রের নিচ থেকে উদ্ধার করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে নৌ বাহিনী। এক ঘন্টা দুই ঘণ্টার জন্য নয় বরং দীর্ঘ সময়ের জন্য তারা পানির নিচে গিয়ে হারিয়ে যাওয়া জিনিস খুঁজে আনে।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীঃ
বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও কঠোর পরিশ্রম করে থাকে। তারা মানুষকে সুষ্ঠুভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে পৌঁছে দেয় নিজ দায়িত্বের সাথে।আকাশপথ সব সময় ভালো থাকে না অনেক সময় প্রতিকূল আবহাওয়ায থাকে, কিন্তু বাংলাদেশে কখনো থেমে থাকে না। বীরত্বের সাথে কাজ করতে থাকে তারা। ধন্যবাদ বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তোমরা এভাবেই কাজ করে যাও।
ধন্যবাদ বাংলাদেশের সকল বাহিনীকে।আপনাদের প্রতি আমাদের আশা আপনারা নিষ্ঠা এবং দায়িত্ববোধের সাথে আপনাদের কর্তব্য পালন করুন। স্যালুট করি আপনাদের।
সেইসাথে আজকের লেখা এখানে শেষ করছি। যারা এতক্ষণ কষ্ট করে পড়লেন তাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

