করেছে। অতএর ভবিষ্যতের সম্ভাবনা তাদের কাছে ছিল খুবই সুস্পষ্ট। তাছাড় ইংরেজ বিতাড়নের জন্য যে বৃহৎ ঐক্য গড়ে উঠেছে তা ভেঙ্গে গেলে ইংরেজ বিতাড়নের প্রশ্নই সুদূর পরাহত হয়ে পড়তে পারে। তাহলে ভবিষ্যত হবে আরও অন্ধকারাচ্ছন্ন। অপর পক্ষে বিভক্তির পর পাকিস্তানের বাইরে যে সব মুসলान থেকে যাবে তাদের করুণ পরিণতির চিন্তাও তাদেরকে অখন্ড ভারত প্রস্তাবের পক্ষে সংগ্রাম করার প্রেরণা যুগিয়েছে। দু'পক্ষেরই নেতৃত্ব দিয়েছেন শায়খুল হিন্দ রাহ.-এর দুই দিকপাল শিষ্য। এক দিকে হুসাইন আহমদ মদনী রাহ., অন্যদিকে শিব্বির আহমদ উসমানী রাহ.। উলামায়ে দেওবন্দের রাজনৈতিক তৎপরতা ঃ
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি শায়খুল ইসলাম মাও. হুসাইন আহমদ মদনী পাকিস্তানে বসবাসকারী তাঁর অনুসারীদের পাকিস্ত গানের উন্নতি, স্থায়িত্ব ও কুরআন-সুন্নাহর আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেন। অপর দিকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা আতহার আলী জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পাকিস্তানে বসবাসকারী নেতৃবৃন্দকে পাকিস্তানে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানের উভয় অঞ্চলের জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের নেতৃবৃন্দ পাকিস্তানে ইসলামী শাসন কায়েমের প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। কিন্তু মুসলিম লীগ সরকারের তালবাহানা ও গড়িমশির কারণে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভবপর হয়নি। অবশেষে মাও. শাব্বীর আহমদ উসমানীর অনেক প্রচেষ্টার ফলে ১৯৪৯ সালের জাতীয় পরিষদে শাসনতন্ত্রের আদর্শ প্রস্তাবের পক্ষে (কারারদাদে মাকাছেদ) পাশ হয়। যাকে মাও. শাব্বীর আহমদ উসমানী নিজেই ঢিলা-ঢালা প্রস্তাব বলে আখ্যায়িত করেন।
১৯৫০ সালের ১৮-২০ শে ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার মাছিহাতায় অনুষ্ঠিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের এক সম্মেলনে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি নির্বাচিত হন শর্ষীনার পীর মাওঃ নেসার উদ্দীন রাহ.। তার বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে মাওলানা আতাহার আলী প্রথমে কার্যকরী সভাপতি হিসাবে ও পরে সভাপতি হিসাবে জমিয়তের নেতৃত্ব দেন। মুসলিম লীগ শাসকদের ইসলামী শাসনতন্ত্রের ব্যাপারে উদাসীনতা জমিয়ত নেতৃবৃন্দের মাঝে দারুণ ক্ষোভের সঞ্চার করে। ফলে এই সম্মেলনে মুসলিম লীগ। থেকে জমিয়তের সমর্থন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং সারা দেশে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবীতে আন্দোলন গড়ে তোলারও সিদ্ধান্ত হয়। এসিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তারা নেজামে ইসলাম বা ইসলামী শাসনতন্ত্রের দাবীতে সারা দেশে আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং আন্দোলনের শ্লোগান হিসাবে বেছে
নেন 'নেজামে ইসলাম দিতে হবে'- 'আমরা চাই নেজামে ইসলাম'। ১৯৫১ সালে ইসলামী শাসনতন্ত্রের দাবীতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের
C


