ইতিহাস-ঐতিহ্য ও আমাদের করণীয়।

mahmud50

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ,

সম্মানিত বন্ধুগণ আশাকরি সকলে ভালো আছেন?

আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভাল আছি,

 

আজকের আলোচ্য বিষয়: ইতিহাস-ঐতিহ্য ও আমাদের করণীয়।

ইতিহাস জাতির উন্নতির সোপান। ইতিহাস জাতির চলার পথের দিক নির্দেশনা। যারা নিজেদের ইতিহাস জানে না, তাদের বেঁচে থাকার অধিকার ক্ষীণ। কেননা ইতিহাসের জাতিকে পরিশুদ্ধ ও মার্জিত করে তুলে।সেই ইতিহাসের পাতায় দারুল উলুম দেওবন্দ একটি ঐতিহাসিক নাম। দেশ জাতি ও ধর্ম রক্ষার ব্যাপারে দারুল উলুম দেওবন্দের সেই আবেদনের কথা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণোজ্জ্বল হয়ে আছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়।

 

আমাদের বর্তমান প্রজন্ম দেওবন্দ ও দেওবন্দিয়াত সম্বন্ধে ন্যূনতম ধারণা রাখে না। কেবলমাত্র নাম জপ এই উত্তরসূরি হওয়ার দাবী করতে বসে। এবার আসুন দারুল উলুম দেওবন্দের প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করি।

 

সুদীর্ঘকাল মুসলিম শাসনাধীন এই উপমহাদেশে ছিল অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কাল পর্যন্ত পৃথিবীর সর্বপেক্ষা সমৃদ্ধ এলাকা। এই অঞ্চলে সুখ সমৃদ্ধির কথা ইউপিআই জাতির নিকট রূপকথার ছড়িয়েছিল, সেই অকল্পনীয় সুখ-সমৃদ্ধি ধনরত্নের আকর্ষনে এইদেশ ইউরোপীয় বণিক জলদস্যু এবং বিভিন্ন পেশার ভাজ্ঞান 1601 খ্রিস্টাব্দে ব্যবসার উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষে আগমন করে এবং 1608 খ্রিস্টাব্দে রানী এলিজাবেথের অনুমোদনক্রমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠন করে তারা ব্যবসা-বাণিজ্যের দিকে দ্রুত অগ্রসর হয়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন সম্রাটদের আস্থাভাজন হয়ে তাদের মন জয় করতে সক্ষম হয়।

 

1701 খ্রিস্টাব্দে ভারতের কয়েকটি ছোট ছোট এলাকায় দের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা লাভ করে। 1717 খ্রিস্টাব্দে ভারতের মহীশূর নামক প্রদেশের গভর্নর হয় একজন ইংরেজ। সম্রাট আলমগীরের মৃত্যুর পর দেশে শাসন ক্ষমতার বিশৃংখলা সৃষ্টি হলে মোগল সাম্রাজ্যের ভীত নড়বড়ে হয়ে পড়ে। কৌশলে কেড়ে নেয় দেশবাসীর স্বাধীনতা, ধর্মীয় সাথে গড়ে ওঠা শিক্ষাকে। এরপর তারা একে বিজাতীয় সভ্যতার শিক্ষায় রূপান্তরিত করে জাতির এহেন পরিস্থিতি ও ক্ষমতাসীন সম্রাটদের খেয়ালীপনার প্রেক্ষিতে শাহ অলিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী মাদ্রাসায়ে রহিম মিয়ার মসনদে হাদিস থেকে শিরক বিদআত উৎখাত ও ব্রিটিশকে দাও আন্দোলন রূপে আত্মপ্রকাশ করে 1762খ্রিস্টাব্দে তিনি ইহজগৎ ত্যাগ করেন।

 

1757 সালের 23 জুন পলাশীর আম্রকাননে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে ইংরেজদের সংঘর্ষ হয়। 22 ঘণ্টা যুদ্ধ করার পর সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা ফলে ইংরেজদের হাতে তিনি পরাজিত হন এবং নির্মমভাবে শহীদ হন। ইংরেজরা দিল্লির সম্পূর্ণ ক্ষমতা ছিনিয়ে নিলে। শাহ আব্দুল আজিজ মুহাদ্দিসে দেহলবী রহমতুল্লাহি ভারতবর্ষকে দারুল হরব অর্থাৎ শত্রুকবলিত এলাকা বলে ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার উপর ভিত্তি করে 1790 খ্রিস্টাব্দে ফতেয়ালি টিপু সুলতান মহীশূড়ের ইংরেজদের সাথে যুদ্ধ করেন।ইংরেজরা তার সেনাপতি সাদেককে প্রায় 900 একর জমি প্রলোভন দেখিয়ে কিনে নেয় ফলে 1789 খ্রিস্টাব্দে মহীশূর নামক স্থানে সুলতান টিপু কে নির্মমভাবে শহীদ করা হয়।

 

এরপর আঠার 1831 খ্রিস্টাব্দেসৈয়দ আহমদ শহীদ রহমাতুল্লাহ আলাইহির নেতৃত্বে বালাকোটের প্রান্তরে ইংরেজদের দালাল রাজা সিংহের বিরুদ্ধে রক্ত যোদ্ধ হয়।এতে 5 মে সৈয়দ আহমদ বেরলভী এবং নয় মেয়ে শাহ ইসমাইল শহীদ রহমতুল্লাআলাই শাহাদত বরণ করেন।

 

সম্মিলিত সাথী ও বন্ধুগণ আজকের এই ছোট আর্টিকেলটি পর্যন্তই,এই আর্টিকেলের পরবর্তী অংশ পরবর্তী পর্বে দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ, ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন আসসালামু আলাইকুম।

Comments