ইতিহাস-ঐতিহ্য ও আমাদের করণীয় শেষ পর্ব

mahmud50

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। আসসালামু আলাইকুম অরহমাতুল্লাহ, সম্মানিত সাথী ও বন্ধুগণ আশাকরি সকলে ভালো আছেন/? আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভাল আছি.

 

আজকের আলোচ্য বিষয় হল: ইতিহাস-ঐতিহ্য ও আমাদের করণীয় দ্বিতীয় পাঠ.

 

আপনারা জানেন বালাকোটের যুদ্ধ শাহ ইসমাইল শহীদ রহমাতুল্লাহ আলাইহির উপর ইমামতির দায়িত্ব অর্পিত হয়। তার শাহাদাতের পর দায়িত্ব অর্পিত হয় শাহ মুহাম্মদ ইসহাক রহমাতুল্লাহ এর কাছে।

তিনি হাজার 1846সালে ইহজগৎ ট্যাগ করলে দায়িত্ব অর্পিত হয় হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রাহমাতুল্লাহি কাছে। এর প্রায় 11 বছর পর 1857 সালে শুরু হয় আযাদী আন্দোলন।এ আন্দোলন পরিচালনার জন্য সাহারানপুর জেলার থানা ভবন নামক স্থানে একটি ইসলামী সরকার গঠন করা হয়। এতে হাজী ইমদাদুল্লাহ সাহেব কে রাষ্ট্রপতি, মাওলানা গাঙ্গুহী রহঃ মাতুল্লাহি কে প্রধান বিচারপতি, এবং মাওলানা নানুতুবী রহমতুল্লাহি কে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়।

 

নবগঠিত সরকার 1857 সালে ইংরেজদের সাথে তুমুল যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এতে উলামায়ে কেরামের শংখ্যাছিল 500।মাওলানা আব্দুল গনি মুহাদ্দিসে দেহলবী রহমতুল্লাহি কিছুদিন আত্মগোপন করে মক্কায় হিজরত করেন। এবং মাওলানা নানুতুবী রহমতুল্লাহি নির্দেশেই আত্মগোপন করেন। অতঃপর পুরো ভারত ইংরেজদের হাতে চলে আসে। শুরু হয়ে যায় আলেমদের উপর নির্যাতনের স্টিম রোলার। 1864থেকে 1867হাজার হাজার আলেমদেরকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে, গুলি করে, আগুনে পুড়ে শহীদ করা হয়। কত নির্মম সেই হৃদয় বিদারক দৃশ্য!!

 

আমি আপনাদের অবগত করতে চাই। কথিত আছে আঠারোশো সাতান্ন সালে এর পূর্বে দিল্লি শহরে 80 হাজার মাদ্রাসা ছিল।1857 সালে কোন মাদ্রাসায় ভালো অবস্থায় ছিল না। বুলডোজার দিয়ে হযরত শাহ অলিউল্লাহ রহমতউল্লাহ এর মাদ্রাসায় রহিম মিয়াও সংস করা হয়। প্রাইস অফ মাদ্রাসা এভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়।এহেন পেক্ষাপটে আযাদী আন্দোলনের বীর সেনাপতি হযরত কাসেম রহমতুল্লাআলাই ইন্ডিয়া এবং বস্তুবাদী শিক্ষা সংস্কৃতি ও ধ্যান-ধারণার বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রাম পরিহার করে পরোক্ষ সংগ্রামের নীতি অবলম্বন করেন। এরপর রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইঙ্গিতে হযরত নানুতুবী 1816 খ্রিস্টাব্দে30 মে 1283 হিজরী 15 মহররম ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দের নামক স্থানে ঐতিহাসিক মসজিদ ঘেঁষে আনার গাছের নিচে একটি দিনই মাদ্রাসা ভিত্তি স্থাপন করেন। একে ইতিহাসে ইসলামের অপরাজয় দুর্গ দারুল উলুম নামে অবহিত করা হয়।

 

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে জানা যায়। শতাব্দীর পর শতাব্দী, আমাদের এই ভারত উপমহাদেশের শাসন ক্ষমতা ছিল বিশ্বের আলেম-ওলামা নবাব ও ইসলামিক বুদ্ধিজীবীদের হাতে। কিন্তু মুসলমানদের এ হেন শান্তি ও সুখ সমৃদ্ধি এবংবিশ্বে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদীদের লিপ্সার আগুন দাউদাউ করে জ্বলে উঠলো। তাই তারা 1601 খ্রিস্টাব্দে মুসলমানদের সুবিধা দেওয়ার নামে উড়ে এসে জুড়ে বসে।উলামা সমাজের ওপর জুলুম-নির্যাতন আরম্ভ করে।

 

 

এভাবেই জুলুম নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছিল ভারতবর্ষে আলেম-ওলামাদের কে এবং তারা এমনিভাবে হকের উপর ছিলেন কখনো তারা বাতিলের সামনে মাথা নত করেননি। এটাই ছিল উলামায়ে দেওবন্দের একটি ঐতিহাসিক নমুনা যেই নমুনায় আমরা চলি, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে তাদের মত হওয়ার তৌফিক দান করুন,

 

সম্মানিত বন্ধুগণ! আজকের ইতিহাস ঐতিহ্য ও আমাদের করণীয় এর শেষ পর্ব আলোচনা শেষ করছি, সকলে ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন সকলের জন্য শুভকামনা রইল, আসসালামু আলাইকুম।

Comments