নন্দিনীর পতিদেবতার বদলির চাকরি। সরকারি কলেজের অধ্যাপকের চাকরি। বহরমপুরে। বিয়ের পরেই কিছুদিনের মধ্যেই তাই বরের সাথে তার কর্মস্থলে বহরমপুরে যেতে হয়েছিলো নন্দিনীকে। সরকারি কোয়ার্টারে নিজেদের "আনি-টুনির সংসার" সাজাতে গুছোতেই দিন কাবার হতো। দুজনের সংসারে একজন গৃহসহায়িকা মাসী। ভারী কাজ বলতে সারাদিনে তেমনকিছুই নেই নন্দিনীর। অঢেল সময়ে গল্পের বই পড়ে, ম্যাগাজিন থেকে দেখে নতুন নতুন রেসিপির এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই বাসনপত্র পুড়িয়ে কালো ঝামা করে ফেলে, লম্বা লম্বা মোটা মোটা কাঁটায় বরের জন্য সোয়েটার বুনে বুনে দিন কাটছিলো ওর। আর দু-তিনমাস বাদেবাদে কলকাতার কোলে সোদপুরে শ্বশুরবাড়ীতে ও বাপেরবাড়ীতে আসা... এই রুটিনে চলতে চলতে বেশ হাঁফিয়ে উঠেছিলো নন্দিনী। আলাদা নিজের সংসারের মাসছয়েকের মাথায় ও নিজের উদ্যোগেই শুরু করলো চাকরির জন্য তৈরি হওয়া। বর তো সকালে দশটার মধ্যেই খেয়েদেয়ে কলেজে চলে যায়। তারপর নন্দিনী বসে লেখাপড়া নিয়ে। দুপুরে খেয়ে উঠে ঘুমোতে ঘুমোতে বেশ গোলগাল হয়ে উঠলো কিছুদিনেই। বিকেলে বর ফিরলে দুজনে বসে একসাথে চা-জলখাবার খেয়ে একটু ঘুরতে বেরোনো। কোনোদিন রবীন্দ্রভবনে কোনো অনুষ্ঠান, কোনোদিন সিনেমা, কোনোদিন কোনো কলিগের বাড়ীতে আড্ডা দিতে যাওয়া, আবার কখনো দুজনে মিলে রাস্তায় বা গঙ্গার ধারে হেঁটে বেড়ানো। চলছিলো বেশ... ধীরেসুস্থে


5120
5