বাবা মানে হাজার বিকেল আমার ছেলেখেলা, বাবা মানে রোজ সকালে পুতুল পুতুল খেলা
আসসালামু আলাইকুম। নমস্কার এবং আদাব। আশা করি সকলেই সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে এই করোনা ভাইরাস মহামারীর মধ্যেও সুস্থ আছেন এবং ভাল আছেন। বর্তমানের জনপ্রিয় একটি গান দিয়ে শুরু করলাম। বুঝতেই পারছেন আজ বাবা সম্পর্কে কিছু কথা লিখছে আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।
না, আজ বাবা দিবস না। তারপরেও আজ কেন যেন বাবা সম্পর্কে আমার লিখতে ইচ্ছে করছে। আমিও আজ একজনের বাবা, হয়তো সেই কারণে কিছুটা উপলব্ধি হচ্ছে। আজ আমার সন্তানের প্রতি আমার যতটুকু ভালোবাসা হচ্ছে। ঠিক আমি যখন আমার সন্তানের বয়সী ছিলাম। তখন একই ভালোবাসা এবং আবেগ অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছিল আমার বাবার হৃদয়ের মাঝেও।
সত্যি বলতে বাবা হচ্ছে আমাদের জীবনে বট বৃক্ষের মত। যিনি সারা জীবন আমাদের মাথার উপরে ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। নিজের হাজার কষ্ট হলেও সন্তানের দিকে তাকিয়ে কষ্ট ভুলে যাওয়া লোকটির নামই হচ্ছে বাবা।
বাবা সম্পর্কে লিখার মত এত বিস্তারিত নলেজ আমার ছোট মাথায় নেই। তবে আমাদের জীবনে বাবা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা কখনো লিখে শেষ করা যাবে না। তবে বাবা তার সন্তানকে কতটা আগলে রাখে কিংবা সকল প্রতিকূলতা থেকে কিভাবে রক্ষা করার প্রাণপণ চেষ্টা করে সেই সম্পর্কে একটা ছোট উদাহরণ দিচ্ছে।
একটা গ্রামে একটি কুয়া ছিল। সেখানে পানি তোলার জন্য কুয়ার ভিতরে কোন বালতি ফেললে সেটা আর ফেরত আসতো না। ফলে সবাই ধরে নিয়েছিল এই কুয়ার ভিতর জ্বীন বসবাস করে। তাই সেই জ্বীন বালতি গুলো রেখে দেয়। তারপর গ্রামের লোকেরা এক বৈঠকের আয়োজন করে। সেখানে বলা হয় কেউ যদি কুয়ার ভিতর নেমে এই রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারে তাকে পুরস্কৃত করা হবে। কিন্তু সেখানে কেউ রাজি হলো না। কেননা সকলের প্রাণের ভয় আছে।
তার কিছুক্ষণ পর দূর গ্রামের একজন বালক কুয়ায় নামতে রাজি হলো। তবে তার শর্ত হলো তাকে যে রশিতে বেঁধে কুয়ার ভিতর নামানো হবে সেই রশিতে তার বাবা ধরতে হবে। উপস্থিত সকলে বলল আমরা এত মানুষ রশিতে ধরে থাকবো, তারপরেও কেন তোমার বাবাকে সেই রশিতে ধরতে হবে? তখন বালকটি বলল আমার শর্তে রাজি হলে আমি কুয়ার গভীরে নামতে রাজি আছি।
যাইহোক গ্রামবাসী অবশেষে রাজি হল এবং তার বাবাকে নিয়ে আসলো। বালক কুয়ার গভীরে নামল এবং সকলের সাথে তার বাবাও সেই রশির মধ্যে ধরে আছে। বালকটি কুয়ার ভিতরে প্রবেশ করলো এবং দেখল যে সেখানে একটি বানর দেখা যাচ্ছে। সে বানরটিকে তার মাথার উপর রাখল এবং সবাইকে রশি ধরে টান দিতে বলল যেন সে ওপরে উঠে আসতে পারে। যখন সে আস্তে আস্তে উপরে আসা শুরু করল। তখন সকলেই বানর টিকে প্রথমে দেখতে লাগলো কিন্তু তখন বালক টিকে দেখা যাচ্ছিল না। তখন সকলেই ভাবল, জ্বীন বালকটিকে বানর বানিয়ে ফেলেছে। তাই ভয়ে সকলে রশি ছেড়ে দৌড়ে পালিয়ে গেল। কিন্তু একটি লোক ব্যতীত। সেই লোকটি হচ্ছে বালকটির বাবা। তার বাবা একা প্রাণের ভয়ে না করে তার ছেলেকে বাঁচাবার জন্য একাই রশি ধরে টেনে তাকে উপরে তুলে আনল।
তারপর ওই বালকটি এবং তার বাবা গ্রামের লোকজনের কাছে আসলো। তখন গ্রামবাসী তাদের দেখে কিছুটা লজ্জিত হল এবং সকলেই বুঝতে পারল কেন ওই বালকটি তার বাবাকে রশিতে ধরার জন্য বলেছিল! সকলেই প্রাণের ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে আসলেও, বাবা নামের প্রাণিটি প্রাণের ভয় করেন নি। তিনি তার সন্তানকে রক্ষার জন্য ভয় কে জয় করেছেন।
আসলে পৃথিবীর প্রত্যেকটা বাবাই সত্তিকারের হিরো। যিনি কখনো নিজের সুখের কথা চিন্তা করেন না কিংবা নিজেকে নিয়ে বেশি কিছু ভাবেন না। তিনি সব সময় তার সন্তানকে দুহাত দিয়ে আগলে রাখেন। আসলে বাবা আমাদের জীবনে গাছের মত। যে সব সময় দিতে শিখেছে নিতে শিখে নি। ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল বাবা। সকল বাবার প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা রইলো। যাদের বাবা নামক বটবৃক্ষ টি হারিয়ে গেছে। সেই সকল বাবারা পরকালে ভালো থাকুক এবং শান্তিতে থাকুক।


ভাই সেরি কমিউনিটি বাংলাদেশ পোর্টাল ওপেন করছে। এখন থেকে Global এর জায়গায় বাংলাদেশ সিলেক্ট করে তার পরে পোষ্ট করবেন।