এক বিকেলের গল্প — ভাই, আড্ডা ও ভালোবাসা

jakaria

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ

দীর্ঘ কয়েকটি বছর পর খালাতো ভাইয়ের সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে বের হয়েছি আমি অফিসের পর। আজকের অনুভূতি তুলে ধরছি—বুকভরা ভালবাসা আর দেখা করার দৃঢ় অপেক্ষা।


আমাদের মাঝে ফোনে কথা হয়, কিন্তু দেখা-সাক্ষাৎ তেমন হয় না। খালাতো ভাইয়ের বাসা জামালপুর তারাকান্দি। যদিও তার শ্বশুরবাড়িতেও গিয়েছিলাম আজ থেকে প্রায় আড়াই-তিন বছর আগে।


ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ির ছবি


দুপুরে আমাকে একবার কল দিয়ে বলল:


"খালাতো ভাই আমি কিন্তু তোমার অফিসের আশেপাশেই আছি।"


আমি বললাম কোথায় আছো? বলল, "ধামরাই ইসলামপুর"। অফিস থেকে মাত্র ১০ টাকার ভাড়ার দূরত্ব।


আমি বললাম,


"তুমি অপেক্ষা কর, আমি অফিস করে বের হচ্ছি।"


অফিস করে বের হলাম সাড়ে পাঁচটার দিকে।


অফিস শেষে


ইসলামপুরে পৌঁছে হালকা চা-নাস্তা করলাম। সাথে ছিলেন রোকন ভাই ও রেজাউল ভাই। এরপর লিমন ভাইয়ের সাথে দেখা।


আমাদের আড্ডার মূল কেন্দ্রই ইসলামপুর। এখানে চা খাওয়া, গল্প করা, ক্লান্তি দূর করাসহ সবকিছুতেই একরকম প্রশান্তি মেলে।


আড্ডার পরিবেশ


এরপর ভাইদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে খালাতো ভাই সাজিদের সাথে দেখা করতে বের হলাম।


সাজিদ একের পর এক ফোন দিচ্ছিল। ইসলামপুর থেকে হেঁটে গেলে মাত্র ১০ মিনিটের পথ, তবে আমি অটো নিয়ে গেলাম।


"আমি লাল গেঞ্জি পড়ে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি" – বলেছিল ফোনে।


আমি গিয়ে দেখি, ঠিকই লাল গেঞ্জিতে দাঁড়িয়ে আছে। অটো থেকে নামতেই সে আমাকে জড়িয়ে ধরল। যেন ভাইয়ের ভালোবাসার বন্ধন আরও গভীর হলো।


স্মৃতির মুহূর্ত


এরপর আমরা স্মৃতিচারণ শুরু করলাম…


"মনে আছে খালাতো মারুফ মামার বিয়ের সময় লটারি খেলার কথা?"


সেই ঘটনা! সাজিদ বলল,


"১০০ টাকা দিলে ২০০ টাকা পাওয়া যাবে"

তাই সে বাবার কাছে ১০০ টাকা চাইলে, বাবা বলেছিলেন,

"ওই ২০০ টাকার দরকার নাই, আমি তোমাকে ২০০-ই দিচ্ছি, তবে লটারি ধরবা না।"


এইরকম অনেক স্মৃতি আমাদের মনে পড়ছে। আমরা একসাথে ফ্যাক্টরির এদিক-ওদিক হেঁটে ঘুরছি আর গল্প করছি।


হাঁটার মুহূর্ত


পরবর্তী গন্তব্য: এক রেস্টুরেন্ট।

হালকা নাস্তা আর শেষে কফি খেলাম।


খালাতো ভাই বলল,


"আরেকটু থাকো..."

কিন্তু বললাম,

"রাত দশটা বাজলে গেটে ঢুকতে সমস্যা হবে।"


শেষ পর্যন্ত রাত ৯টার দিকে বিদায় নিয়ে ফিরে এলাম।


ফিরে আসার পথে রেজাউল ভাই-এর সঙ্গ পেলাম। তিনি তখনো ইসলামপুরে ছিলেন। আমরা আবার একসাথে অফিসের পথে রওনা হলাম।


এই ছোট্ট সফরে রেজাউল ভাই, শরিফুল, লিমন ভাই, রোকন ভাই সহ আরো বড় ভাইদের বন্ধুদের সাথে ভালো আড্ডা হলো ইসলামপুরে।


আলহামদুলিল্লাহ!

আজকের দিনটা ছিল স্মৃতিময়, ভালবাসায় পূর্ণ, এবং পুরনো সম্পর্কগুলোকে নতুন করে আবিষ্কারের এক অসাধারণ উপলক্ষ।

Comments