বিভিন্ন কাঁচামালের কতিপয় অপদ্রব (Different impurities in raw materials ) :

jakaria

 

বর্তমান বিজ্ঞানের যুগে শিল্প জগতের বিভিন্ন শাখায় চলছে প্রতিযোগীতা। আবিষ্কার হচ্ছে প্রতি নিয়তই নুতন নুতন শিল্প । এ প্রতিযোগীতায় সিরামিক শিল্প ও পিছিয়ে নেই। বরং পৃথিবীর এ প্রাচীনতম শিল্পটিও স্থান করে নিয়েছে বর্তমান এ আধুনিক শিল্প জগতে।

বাছাইকরণ

 

বিজ্ঞানীরা গবেষণার কাজ মূলত: বিশুদ্ধ উপাদান নিয়ে করে থাকেন। অর্থাৎ তাদের কার্যক্রম চলে মূলত: আদর্শ অবস্থায়। কিন্তু যখন তাদের গবেষণা লব্ধ জ্ঞানকে শিল্প জগতে প্রয়োগের পদক্ষেপ নিতে যান তখন কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এদের মধ্যে অন্যতম সমস্যা হল প্রকৃতি প্রদত্ত কাঁচামালের বিশুদ্ধতা নিয়ে। কারণ গবেষণা কাজে যেমন বিশুদ্ধ উপাদান নিয়ে কাজ করা হয়েছে, প্রকৃতিতে সেরূপ বিশুদ্ধ কাঁচামাল পাওয়া দুরহ। আর প্রকৃতি পদত্ত অপদ্রব্য যুক্ত কাঁচামাল বিশোধন করে সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ অবস্থায় আনা গেলেও তা খুবই ব্যায় সাপেক্ষ। এতে প্রতিযোগী শিল্প বাজারে টিকে থাকা কঠিন হবে। তবে কাঁচামাল থেকে যতদূর সম্ভব অপদ্রব্য দূর করতে হবে অর্থনৈতিক দিক বিচার বিশ্লেষন করে। যাতে শিল্পের পণ্য মান সম্পন্ন এবং মূল্য ও গ্রহণ যোগ্যতার মধ্যে থাকে।

 

অপদ্রব্য দূর করার পূর্বে প্রকৃতি প্রদত্ত কাঁচামালের মধ্যে কি কি অপদ্রব্য থাকাতে পারে সে সম্পর্কে জানা আবশ্যক। কারণ কাঁচামাল থেকে বিভিন্ন অপদ্রব্য দূর করার জন্য বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করা হয়। সঠিক পদ্ধতিতে অপদ্রব্য দূর করার জন্য কি কি অপদ্রব্য আছে তা অবশ্যই জানতে হবে। তাছাড়া উৎকৃষ্ট মান সম্পন্ন শিল্প তৈরি করতে হলেও উক্ত শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের অপদ্রব্যগুলো জানা দরকার। একই খনিজ পদার্থ কোন সময় অপদ্রব্য হয়ে যায় আবার কোন সময় উহা শিল্পের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়। যেমন আয়রন, চায়না কে সাথে অপদ্রব্য হিসাবে থাকে। আবার এই আয়রন-ই যখন খনিতে আকরিক আকারে পাওয়া যায় তখন ইহা হয় লৌহ শিল্পের কাঁচামাল। একইভাবে টিটানিয়া (TiO,) যখন ক্লের সাথে খুব অল্প পরিমাণে থাকে তখন এই টিটানিয়াকে অপদ্রব্য হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। আর যখন এই টিটানিয়া খনিজ আকারে পাওয়া যায় তখন ইহা হয় ��াটাইল (Rutile) বড়ির কাঁচামাল। আবার লাইম (CaO) যখন কে বা ফেল্ডসপারের সাথে থাকে তখন লাইমকে আমরা বলি অপদ্রব্য। কিন্তু যখন আমরা একে লাইম স্টোন (CaCO.) আকারে খনিতে পাই তখন ইহা হয়ে যায় সিমেন্ট, গ্লেজ ও গ্লাসের কাঁচামাল। এ রকম আরো অনেক উপাদান আছে যেগুলো ক্ষেত্র ও অবস্থা ভেদে কখনো অপদবা আবার কখনো বা হয় খনিজ।

 

এবার আমরা অপদ্রব্য কি এ সম্পর্কে আলোচনা করব। কোন সুনির্দিষ্ট গুন সম্পন্ন শিল্প সামগ্রী তৈরি করার • জন্য যে সব কাঁচামাল ব্যবহার করা হয় যদি এদের সাথে এমন কোন উপাদান থাকে, যেগুলো দ্রব্যের উৎপাদন পদ্ধতিতে বা দ্রব্যের গুণগত মানের উপর প্রভাব বিস্তার করে যার ফলে কাঙ্খিত মানের দ্রব্য বা পণ্য সামগ্রী পাওয়া যায় না। উক্ত উপাদানগুলোকে ব্যবহৃত কাঁচামালের বা শিল্পের অপদ্রব্য বলে। যেমন পোরসিলিন বড়ির প্রধান কাঁচামাল চায়না কে, কোয়ার্জ, ফেন্ডসগার। এই কাঁচামালগুলো বিশুদ্ধ হলে উক্ত বড়িতে NaO, K2O, ALLO, এবং SiO, অক্সাইড থাকার কথা। কিন্তু ব্যবহারিক। উক্ত অক্সাইডগুলো ছাড়াও FejO, TiO, Ca) ইত্যাদি অক্সাইডগুলো ব্যবহৃত কাঁচামাল থেকে বডিতে যুক্ত হয়ে থাকে। এ উপাদানগুলোর উপস্থিতির কারণে সঠিক মানের দ্রব্য পাওয়া দূরহ হয়ে দাড়ায়। এ উপাদানগুলো হল পোরসিলিন বডিতে ব্যবহৃত কাঁচামালের অপদ্রব্য।

 

 

 

My.NOT.3rd.Sub-ce_body_pe.P_37

Comments