বাংলার স্বাধীনতা একদিনে আসেনি

H
১৯৪৮ সালের ১৯শে মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলীর জন্য ঢাকায় আসেন। একুশে মার্চের স্কোর ময়দানে বর্তমান সভাপতি ঘোষণা করেন ঊর্ধ্বে এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষ এটা আসলে বাঙ্গালীদের জন্য ছিল একটি খুবই দুঃখজনক ঘটনা। যখনই বাংলার দামাল ছেলেরা বাংলার দামাল সন্তানেরা শুনতে পারে তাদের মাতৃভাষা তাদের জন্ম থেকে যে বাংলা ভাষায় তারা কথা বলে সেই বাংলা ভাষাকে বাদ দিয়ে তাদের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।

২৪ শে মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তনে তিনি অনুরূপ ঘোষণা দিলে ছাত্রসমাজ প্রতিবাদ মুখোপাধ্যায় এবং নানা বলে তার উক্তির প্রতিবাদ জানাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা জিন্নাহর রেসকোর্স ময়দানের ঘোষণা ও তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এক পর্যায়ে বাকিচার সরকার আরবি হরফে বাংলা পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছিল এবং বাঙালিরাও এই অপপ্রচার তীব্র খুব প্রতিবাদ জ্ঞাপন করে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার উপর কয়েক মাসের মধ্যে পূর্ব বাংলায় ভাষা কেন্দ্রিক যে আন্দোলন শুরু হয় তা ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রতি আস্থার একটি বহিঃপ্রকাশ। হাতিমারা বাংলাকে রক্ষার মাধ্যমে পূর্ব বাংলার জনগণ জাতীয়ভাবে নিজেদের বিকাশের গুরুত্ব উপলব্ধি করে এবং এ ভূখণ্ডের বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো রাষ্ট্রভাষা উর্দু নয় বরং বাংলাকে সমর্থন করে কারণ এদেশের অধিকাংশ মানুষের মুখের ভাষায় ছিল বাংলা। 

১৯১২ সালের ২৬ শে জানুয়ারি ঢাকায় পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন জিন্দাবাদ পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার নতুন ঘোষণা প্রদান করেন এবং এর প্রতিবাদে ছাত্র সমাজ ৩০ শে জানুয়ারি ধর্মঘট পালন করে। আব্দুল মাতিনকে অবাক করে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় এবং ৩১ শে জানুয়ারি কাজী গোলাম মাহবুবে আহবান করে নতুনভাবে সর্বদলীয় স্বাস্থ্য ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয় এবং যার ফলে আন্দোলন আরো বেগবান হয়। এ সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোও যুক্ত হয় যার জন্য চৌঠা ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্রবৃক্ষ প্রদর্শিত হয় এবং একুশে ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট ঐদিন রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।


বাসায় যাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া সংকল্প ঘোষণা করা হয় আশিক মুজিবুর রহমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় একুশে ফেব্রুয়ারি কর্মসূচি আন্দোলনের জন্য শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ফরিদপুর জেলা স্থানান্তর করা হয়। সেখানে মহিউদ্দিন আহমেদকে সঙ্গে রহমান রাজবন্দীদের মুক্তি ও রাষ্ট্রভাষা বাংলা দাবি করলে উঠতে থাকে। ২০ শে ফেব্রুয়ারি সরকারি এক ঘোষণা একুশে ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা সমাবেশ মিছিল এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।


বাংলাদেশের স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধ বিশ্ব ইতিহাসে একটি বিড়াল ঘটনা যেটি অন্য কোন দেশে স্বাধীনতার ক্ষেত্রে দেখা যায় না। এবং শুধুমাত্র দীর্ঘ নয় মাস রক্তকে যুদ্ধের মাধ্যমে যে বাংলাদেশ বা আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি এটা কিন্তু এখানেই শেষ নয়, আসলে এই স্বাধীনতার শোরগোল বা আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনা অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে যার জন্য এত আন্দোলন এত রক্তক্ষরণ।

Comments