লোকসাহিত্য

H

 

লোকসাহিত্য

লোকসাহিত্য বলতে জনসাধারণের মুখে মুখে প্রচলিত কাটা কাহিনী গান ছাড়া প্রবাদ ইত্যাদি কে বোঝানো হয়। সাধারণত কোন সম্প্রদায় জনগোষ্ঠীর অলিখিত সাহিত্যই লোকসাহিত্য। ডাক ও খনার বচন কে লোকসাহিত্যের আদর্শ বা আদি নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন লোকসাহিত্য সংগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এছাড়া লোকসাহিত্য গবেষণায় ডক্টর মাজহারুল ইসলামের পাণ্ডিত্য সমগ্র বিশ্ব স্বীকৃত। ফোকলোর পরিচিত এবং লোকসাহিত্য পঠন-পাঠন গ্রন্থে পাবনা অঞ্চলের সংস্কৃতি নিয়ে ডঃ মযহারুল ইসলাম যে মৌলিক গবেষণা করেছেন তাতে পাবনার লোকসংস্কৃতি সমগ্র বিশ্বের কাছে পরিচিতি লাভ করেছে।

 

ছড়া

লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি ছড়া।

 

ধাঁধা

ধাঁধার বক্তব্য সাধারণত সঙ্গতিপূর্ণ থাকে না। যেমন বন থেকে বেরোল টিয়া টোপর মাথায় দিয়ে এর উত্তর হবে =আনারস।

 

লোকগীতি

লোকসমাজের মুখে মুখে যে গীত চলে এসেছে তাকে বলা হয় লোকগীতি। এতে কোন কাহিনী থাকেনা বিশেষ বিশেষ ভাব অবলম্বনে শ্রেণীর গান রচিত। প্রাচীন বিখ্যাত লোকগীতি সংকলন "হারামণি"। মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন ছিলেন এর প্রধান সম্পাদক।

 

তরজা

তরজা প্রচলিত পল্লী সংগীত। প্রশ্নোত্তর মূলক একপ্রকার লোকগীতি। পরিবেশনার পদ্ধতি কবি গানের অনুরোধ। তবে এর বিষয়েও ব্যাক্তি কবিগান এর চেয়ে সহজ ও সংক্ষিপ্ত। বাংলায় তরজা গানের প্রচলন ছিল প্রাচীন কাল থেকেই তবে হাজার ১৯ শতকের প্রথমার্ধে মধু ঠাকুর ও তার নামে দুই কবিয়াল গানকে জনপ্রিয় করে তোলেন।

 

গীতিকা

গীতিকা একশ্রেণীর আখ্যানমূলক লোকগীতি যা সাহিত্যে গীতিকার নামে পরিচিত। ইউরোপে প্রাচীনকালে নাচের সাথে যে কবিতা গীত হয় তাকেই গীতিকা বলা হত। বাংলাদেশ থেকে সংগৃহীত লোকগীতির গুলো কে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে যথা।

ক) নাথ গীতিকা

১৮৭৮ সালে ভাষা বিজ্ঞানী স্যার জর্জ গ্রিয়ারসন রংপুর জেলার মুসলমান কৃষকদের কাছ হতে ময়নামতি গোপীচন্দ্রের প্রতি সংগ্রহ করে মানিক চন্দ্র রাজার গান নামে প্রকাশ করেন। ১৯২২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গভীর চন্দ্রের গান প্রথম খন্ড এবং ১৯২৪ সালে দ্বিতীয় খন্ড প্রকাশিত হয়। প্রথম খন্ডের গাঁথা লোকসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত দ্বিতীয় খন্ডের আক্রান্ত ৩ জন কবির রচনা।

খ) মৈমনসিংহ গীতিকা

বৃহত্তর ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বাংশে নেত্রকোনা কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর-বিল নদনদী অঞ্চলের গীতিকা। ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন গীতিকাগুলো সংগ্রহ করে মৈমনসিংহ গীতিকা নামে প্রকাশ করেন।

গ) পূর্ববঙ্গ গীতিকা

পূর্ব বাংলা লোকসাহিত্যের একটি সংকলন কে বলা হয় পূর্ববঙ্গ গীতিকা। মুখে মুখে রচিত লোক সমাজে প্রচলিত এর পালা গুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা চট্টগ্রাম নোয়াখালী ফরিদপুর সিলেট ত্রিপুরা প্রতিটি অঞ্চল থেকে পালাগুলো সংগ্রহীত। এ গুলোর প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসিম উদ্দিন, নগেন্দ্র চন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায় প্রমুখ। ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন গীতিকাগুলো সংগ্রহ করে পূর্ববঙ্গ গীতিকা নামে প্রকাশ করেন। উল্লেখযোগ্য গীতিকার মধ্যে রয়েছে নিজাম ডাকাতের পালা, কাফন চোরা, কমল সওদাগর প্রভৃতি।

 

ধন্যবাদ সকলকে আমার এই লেখাটি পরিদর্শন করার জন্য।

Comments