প্রথম টেস্টের তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে এসে ঘুরে দাড়িয়েছে বাংলাদেশ দল।
প্রথম ইনিংসে ভরাডুবির পর দ্বিতীয় ইনিংসে ও সেরকমই ইঙ্গিত দিয়েছিল বাংলাদেশ দল। ৩৭ রানে সাদমান ইসলাম সাজ ঘরে ফেরার পর তামিম ইকবালকে সঙ্গ দেওয়ার মত ছিলনা কেউ। টপ অর্ডারের একে একে সবাই ব্যার্থ। যদিও সাদমান ইসলাম ধীর গতিতে অল্প অল্প করে বড় স্কোর করার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন কিন্তু তার সে ইনিংস টি লম্বা করতে পারেন নি। ৩৭ রানেই তাকে সাজ ঘরে ফিরে যেতে হয়। ওয়্যাগনারের বলে বোল্টের তালুবন্দি হয়ে ফিরে যান তিনি।
.jpeg)
[Source](https://www.google.com/amp/s/www.thedailystar.net/sports/bangladesh-cricket/bangladesh-vs-new-zealand-test-series-only-ourselves-blame-1708534%3Famp)
তিনি যাওয়ার পর তামিম ইকবালকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়ার মত কেউ ছিলনা। মুমিনুল হক আসলেন, দুটি চার হাকালেন এবং তিনিও ফিরে গেলেন সাজ ঘরে। স্যার মিথুন তো ছিলেন আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে। তিনি কোনো রান করার ই প্রয়োজন মনে করেন নি। আসলেন এবং চলে গেলেন।
দলের যখন এমন অবস্থা তখন তামিম ইকবাল খান ব্যাতিত আর কারও উপর ভরসা করার মত ছিলনা। সবাই ইনিংস হারের লজ্জার শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিলেন। কেননা এতগুলো রান তো আর তামিমের পক্ষে একা করা সম্ভব নয়। সবাই যখন প্রথম ইনিংসের মত এবারও পরাস্ত হচ্ছেন তখন এমন শঙ্কা হওয়াটা স্বাভাবিক। তামিম ইকবাল হয়ত ডাবল সেঞ্চুরি হাকিয়ে ব্যাবধান কমাতে পারতেন কিন্তু লিড নিতে গেলে কমপক্ষে ৫০০ রান করতে হবে বাংলাদেশ দলকে। কে করবে এত রান?
সবাই যখন তাকিয়ে তামিম ইকবালের দিকে তখন তিনিও সবাইকে হতাশ করে ব্যাক্তিগত ৭৪ রান করে ফিরে গেলেন সাজঘরে। দলীয় রান তখন মাত্র ১২৬ এবং নেই ৪ টি উইকেট। সবার মুখেই চিন্তার ভাঁজ পড়ল। এবার কি তাহলে ইনিংস ব্যাবধানেই পরাজিত হতে হবে!
.jpeg)
[Source](https://www.google.com/amp/s/www.thedailystar.net/sports/bangladesh-cricket/if-i-perform-i-will-stay-soumya-sarkar-1510603%3Famp)
তবে সব শঙ্কা কিছুটা দূর করে দিলেন প্রথম ম্যাচের ভিলেন সৌম্য সরকার। প্রথম ইনিংসে লাথাম যখন ছিলেন শূন্য রানে তখন তিনি বল তুলে দিয়েছিলেন সৌম্য সরকারের হাতে কিন্তু তা তালুবন্দি করতে ব্যার্থ হন সৌম্য সরকার। সেই সুযোগের সৎ ব্যবহার করতে ভুলেন নি তিনি। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি করেছিলেন ব্যাক্তিগত ১৬৪ এবং ওপেনিং জুটিতেই করেছিলেন ২৫৪ রান যা বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের সর্বমোট রান থেকেও বেশি। এই কারণেই সৌম্য সরকার বনে গিয়েছিলেন ভিলেন। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে তিনিই হিরো। দল যখন ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কা তখন তিনিই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন দলকে। তিনি করছেন ব্যাক্তিগত ১৪৯ রান। ১৪৯ রান করতে তিনি বল খেলেছেন মাত্র ১৭১ টি যেখানে রয়েছে ৫ টি ছক্কার মার ও ২১ চারের মার। তার এই ইনিংস দলকে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। এবার ইনিংস পরাজয়ের লজ্জায় চাইলেই এড়াতে পারবে বাংলাদেশ। কেননা এবার আর নিউজিল্যান্ড খুব বেশি রানে এগিয়ে নেই। তারা মাত্র ১২০ রানের লিড নিয়ে আছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ করেছে ৫ উইকেটে ৩৬১ রান।
.jpeg)
[Source](https://www.google.com/amp/s/www.thedailystar.net/sports/bangladesh-cricket/news/riyad-finds-his-role-1660705%3Famp)
সৌম্য সরকারে সাথে খুব ভালই সঙ্গ দিচ্ছিলেন ক্যাপটেইন মাহমুদুল্লাহ। দুজনে মিলে দলকে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছেন। তাদের পার্টনারশিপ থেকে এসেছে ২৩৫ রান। সৌম্য সরকার সাজঘরে ফিরে গেলেও মাঠে রয়েছেন এখনও মাহমুল্লাহ। ব্যাক্তিগত ৯০ রান করে এখনও অপরাজিত রয়েছেন। তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন এখন লিটন কুমার দাস। সদ্য মাঠে আসা এবং নিয়মিত সুযোগকে কাজে লাগাতে ব্যার্থ হওয়া লিটন কুমার দাস কি পারবেন মাহমুদুল্লাগ যোগ্য সঙ্গ দিতে নাকি তিনিও ফিরে যাবেন সাজঘরে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

