কর্মের ফল বোঝার জন্য দুর্দান্ত একটি গল্প | 

B
belal
🇧🇩 Bisillahir Rahmanir Rahim 🇧🇩


আজকের গল্পটি হলো এক শিকারী কে নিয়ে। শিকারে যিনি মহরত হাসিল করেছিলেন এবং বহু বছর যাবৎ তিনি শিকার করে আসছেন। যখনই তিনি জঙ্গলে গেছেন শিকার করতে কোনোদিন খালি হাতে ফেরত আসেননি। এটা উনার একটা রেকর্ড ছিল।

তো উনার বয়স হয়ে আসছিল তাই তিনি উনার ছেলেকেও শিকার করার প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করলেন। মনে মনে উনি চিন্তা করতেন ছেলেকে উনার থেকেও ভালো শিকারী বানাবেন। ছেলেকে তিনি জঙ্গলে নিয়ে যেতেন এবং বিভিন্ন রকম ভাবে শিকার করার প্রশিক্ষণ দিতেন।

শিকারীর ছোট বাচ্চা ছেলেটি বাবার কর্মকাণ্ডে ভীষণভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। ছেলেটি জঙ্গল থেকে ফিরে এসে তার মাকে বলতো - মা, বাবা তো না দেখেও তীর চালাতে পারে। উনি অনেক বড় একজন শিকারী।




একদিন শিকারী বাচ্চা টিকে সঙ্গে না নিয়ে একা একাই জঙ্গলে গেলেন শিকার করতে। সেদিন হালকা হালকা বৃষ্টি হয়েছিল, ফলে একটা চমৎকার আবহাওয়া ছিল। এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উদ্ভাসিত হয়েছিল।

কিন্তু শিকারীর এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কিছুই যায় আসছিল না, কারণ তিনি তো শিকার করতে গেছেন। তিনি শিকার খুঁজে বেড়াচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর সেই শিকারী খুব সুন্দর একটা ছোট্ট হরিণের বাচ্চা দেখতে পেলেন। ওই পরিবেশে এই বাচ্চা হরিণটিকে এত সুন্দর লাগছিল যে, যে কেউ দেখলে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যাবে।

কিন্তু এই শিকারী মন্ত্রমুগ্ধ হওয়ার মধ্যে ছিল না। তিনি তীর চালালেন এবং ছোট্ট বাচ্চা হরিণটিকে তীর বিদ্ধ করলেন। বাচ্চা হরিণটি মুখ থুবড়ে পড়ল এবং ছটফট করতে করতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল।

পলকেই জঙ্গল ফুঁড়ে বেরিয়ে আসলো বাচ্চা হরিণটির মা, এবং এসেই বাচ্চার ক্ষত জায়গাটি চাটতে লাগলো। মা হরিণটা জানতো যে দূরে শিকারী দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু তাতে তার কিছু যায় আসছিল না, কারণ সে তখন তার বাচ্চাকে বাঁচাতে মরিয়া।

এদিকে শিকারী দেখলেন বাঃ এতো আর একটা শিকার। একই সময়ে দুটো শিকার করার সুযোগ। শিকারী খুশি হয়ে তীর চালালেন এবং যে মা হরিণটা তার বাচ্চাকে বাঁচাতে ব্যস্ত ছিল সেই হরিণটাকেও মেরে ফেললেন।

এর কিছুক্ষন পরেই শিকারী পাশের জঙ্গল থেকে আবার একটা খসখস আওয়াজ শুনতে পেলেন। তিনি ভাবলেন আরেকটা হরিণ। মনে মনে খুশি হলেন, বাঃ আজকে তো তিনটে শিকার নিয়ে বারি ফিরব।

অভ্যাস বশত সেদিকে খুব একটা মনোযোগ না দিয়েই শিকারী শব্দভেদী তীর ছুড়লেন। তীর গিয়ে নির্ভুল লক্ষ্যভেদ করল। কাতর আর্তনাদ শুনতে পাওয়া গেল। কিন্তু এই আর্তনাদ কোন জানোয়ারের ছিলনা, ছিল কোন মানুষের।

শিকারী সেই দিকে দৌড়ে গেলেন, এবং গিয়ে দেখলেন তার নিজের ছোট্ট ছেলের নিথর দেহটা তীর বিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরে আছে।

ছোট্ট বাচ্চা ছেলেটি তার বাবাকে খুঁজতে খুঁজতে জঙ্গলে চলে এসেছিল। শিকারী যে দক্ষতায় তিনি পারদর্শী ছিলেন, যেই দক্ষতার কারণে তার নিজের ছেলের জীবন নিয়ে নিলেন। শিকারী স্তব্ধ হয়ে গেলেন।

ঠিক সেই সময় শিকারী একটা আওয়াজ শুনতে পেলেন এবং সেই আওয়াজ এর সাথে ভেসে আসছিল কিছু শব্দ। কে যেন বলছে - বুঝতে পারলে, যখন নিজের আপন কেউ, নিজের চোখের সামনে মৃত্যুবরণ করে। কিছুক্ষণ আগেই এই শিকারী একটি বাচ্চা হরিণ মারার পর তার মা'কেও মেরে ফেলেছিল। আর এখন তার চোখের সামনে তার নিজের ছেলে মৃত্যুবরণ করল।

কিছুক্ষণ পরেই পাশের জঙ্গল থেকে আবার খসখস আওয়াজ শুনতে পাওয়া গেল। কিন্তু এইবার সেটা হরিণ ছিল না, ছিল একটা বাঘ। বাঘটি দুরন্ত গতিতে শিকারীর উপর ঝাপিয়ে পরল এবং পলকেই শিকারীর প্রাণ ছিনিয়ে নিল।

উনি এমন একজন মহান শিকারী ছিলেন, যিনি শব্দভেদী বান চালাতে পারতেন। মানে শুধু খসখস আওয়াজ শুনে কোথায় শিকার আছে বুঝতে পারতেন এবং না তাকিয়েই শিকারকে নির্ভুল লক্ষ্যভেদ করতেন।

🇧🇩🇧🇩Thanks for Watching🇧🇩🇧🇩

Comments