মিথ্যা

A
arif567
দেওবন্দ আন্দোলন ইতিহাস ঐতিহ্য অবদান- ১৫৩

নবুওয়তের মিথ্যা দাবীদার গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে ব্যবহার করে। যদিও প্রস্তাবিদদের একটি দল আগে থেকেই জিহাদের বিরুদ্ধে প্রচারণায় তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিলেন, তবুও এক্ষেত্রে গোলাম আহমদের তৎপরতাই ছিল বেশী ফলপ্রত। তার নিজের ভাষা মতে ইংরেজ সরকার আমার দ্বারা যে উপকার লাভ করেছে তা হল, প্রায় পঞ্চাশ হাজার পুস্তক-পুস্তিকা ছাপিয়ে আমি দেশ বিদেশে প্রচার করেছি। মূলত এ সমস্ত বইয়ের বিজদের স্বপক্ষে এবং জিহাদের বিপক্ষে। জিহাদের বিরুদ্ধে রচিত এই সমস্ত ইংরেজরা আরবী, উর্দু, ফার্সীসহ বিভিন্ন ভাষায় ছাপিয়ে সকল মুসলিম দেশে প্রচার করে। ফলে লাখ লাখ মানুষ জিহাদের ধারণা ত্যাগ করে- যা বেকুব মেয়াদের প্রচেষ্টায় তাদের অন্তরে বদ্ধমূল হয়েছিল। এভাবেই তারা জিত করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছিল।

ছাড়া দেড় সহস্রাব্দ যাবৎ ধর্মীয় স্বকীয়তাবোধ নিয়ে সহঅবস্থানে অভ্যস্থ হিন্দু মুসলমানদের যৌথ প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম ইংরেজ সরকারের ক্ষমতার মসনদকে চলিয়ে দিতে পারে ভেবে এ দুই বৃহৎ সম্প্রদায়ের মাঝে ধর্মীয় বিদ্বেষ উকিয়ে দিয়ে আত্মঘাতী সংঘর্ষে জড়িয়ে দেওয়ার হীন তৎপরতা চালাতে তারা তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করে। 'আত্মকলহ বাধিয়ে দাও এবং নির্বিঘ্নে শাসন কর এই এষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে বিদ্বেষ উস্কিয়ে দেওয়ার হেন পন্থা নেই যা তারা অবলম্বন করেনি।

সে ছিল এদেশের মানুষের জন্য এক চরম দুর্দিন। ১৮৫৭ এর স্বাধীনতা আন্দোলন আাপাতা ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার কারণে মুসলমানরা সামরিক দিক থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে। এক দিকে ইংরেজদের উৎপীড়নে দিশেহারা মানুষ, অপর দিকে তাদের অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রের মুখে সম্মুখ সমরে সফলতার সম্ভাবনা ছিল সুদূর পরাহত। তাছাড়া গণচেতনা সৃষ্টির জন্য চাই চেতনা সমৃদ্ধ প্রশিক্ষিত কর্মী বাহিনী। এ দিকে দেশ তখন আলেম উলামা শূন্য বললেই চলে। অথচ ব্যাপক গণ জাগরণ ছাড়া স্বাধীনতার স্বপ্ন সফল করার দুসরা কোন পথ খোলা ছিল না। তাই মুসলমানরা তাদের রণকৌশল পরিবর্তন করলেন এবং দেশ ব্যাপী গণ-জাগরণ সৃষ্টি ও আদর্শিক চেতনাকে সম্প্রসারিত করার মহৎ লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে শিক্ষা মিশনের মধ্য নিয়ে স্বাধীনতার পথ তৈরির কাজে আত্মনিয়োগ করলেন। উদ্দেশ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয় দারুল উলূম দেওবন্দ সহ অপরাপর দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ।

Comments