সিপাহী বিপ্লব ২

A
arif567
এই বিদ্রোহ। ক্রমান্বয়ে সারা দেশের সেনানিবাস ও স্বাধীনতাকামীদের প্রধান প্রধান কেন্দ্র দিল্লী, মিরাঠ, পক্ষে, কানপুর, রাঘবেরলী ও বাসীসহ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। তার সাথে সারাদেশের আলেম উলামা ও স্বাধীনতাকামী মানুষ একাত্ম হলো ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। গোটা দেশের আনাচে-কানাচে দাবানল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে এই যুদ্ধ। ১৮৫৭ সালের ইংরেজ বিরোধী এই যুদ্ধের নেতৃত্বে। দেওয়া হয় মূলতঃ দু'টি কেন্দ্র থেকে। এর একটি ছিল দিল্লীর সন্নিকটে থানা ভবনে; যার নেতৃত্বে ছিলেন হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রাহ, রশীদ আহমদ গাঙ্গোহী রাহ, ও কাসেম নানুতুবী বাহ । তাঁরা ১৮৫৭ সালের যুদ্ধের সময় সে অঞ্চলে একটি স্বাধীন সরকারের ঘোষণাও দিয়ে ফেলেছিলেন। হাজী সাহেবকে আমীর, রশীদ আহমদ রাহ. কে প্রধান বিচারপতি, নানুতুবী রাহ. কে প্রধান সেনাপতি করে এ সরকারের অবকাঠামো ঘোষণা করা হয়। অবশ্য পরে ইংরেজ সরকারে বলিষ্ঠ সশস্ত্র হস্তক্ষেপের ফলে এই ইসলামী রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যায়। অপর একটি কেন্দ্র ছিল আম্বালায়; যার নেতৃত্বে ছিলেন মাওলানা জাফর থানেশ্বরী ও মাওলানা ইয়াহইয়া আলী। এছাড়াও তখন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়। কানপুরে সাইয়্যিদ আহমদ শহীদের অন্যতম খলীফা মাওলানা আযীমুল্লাহ খানের নেতৃত্বে স্বাধীন সরকারের ঘোষণা দেওয়া হয়। এই গণবিদ্রোহের সময় অযোধ্যায় আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন সাবেক অযোধ্যারাজের স্ত্রী বেগম হযরত মহল ও আমান উল্লাহ খান। বেরলীতে নেতৃত্ব দেন হাফেজ রহমত খানের বংশোদ্ভূত খান বাহাদুর খান। খান বাহাদুর খান নিজেকে দিল্লীর সম্রাটের স্থানীয় প্রতিনিধি বলে ঘোষণা করেন। স্বাধীনতা পাগল জনতা দিল্লী দখল করে দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে ভারত সম্রাট বলে ঘোষণাও দিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু ইংরেজদের বিশাল সৈন্যবাহিনী, অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র ও দেশীয় বিশ্বাস ঘাতকদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে এ অভ্যুত্থান সফল হয়নি। ক্রমান্বয়ে সব এলাকাই আবর ইংরেজ সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। গণমানুষের রক্তের বন্যার উপর দিয়ে ইংরেজ সরকার পুনঃ তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত করে নেয়। কেন এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়েছিল এবং কারা এই বিদ্রোহকে উস্কে দিয়েছিল এ সম্পর্কে ইংরেজ সরকার কোম্পানীর নিকট রিপোর্ট চাইলে ডঃ উইলিয়াম লিওর এ মর্মে রিপোর্ট দিয়েছিলেন যে, ১৮৫৭ সালের গণবিদ্রোহ মূলতঃ ছিল মুসলমানদের আন্দোলন, আর তার নেতৃত্ব দিয়েছে আলেম সমাজ। সুতরাং এ বিদ্রোহ নির্মূল করতে হলে মুসলমানদের জিহাদী চেতনাকে দমন করতে হবে। আর সে চেতনার মূলমন্ত্র আল-কুরআন ও তাঁর বাহক আলেম উলামাদেরকে নির্মূল করে ফেলতে হবে। এ রিপোর্টের ভিত্তিতে শুরু হয় আলেম উলামা নিধনের মহোৎসব। ইতিহাসের সবচেয়ে লোমহর্ষক নির্যাতনের শিকার হয় উপমহাদেশের আলেম উলামাগণ । সময় প্রায় অর্ধ লক্ষের চেয়ে বেশি আলেম উলামাকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়। আন্দমান, মালটা, সাইপ্রাস ও কালাপানিতে দ্বীপান্তর করা হয় হাজার হাজার আলেম উলামাকে।

Comments