সিপাহী বিপ্লব

A
arif567
মাওলানা মামলুক আলী থেকে এ দায়িত্ব প্রাপ্ত হন হযরত হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রাহ.। তাদের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে উত্তর ও মধ্য ভারতে ইংরেজ বিরোধী চেতনা ও আন্দোলন ব্যাপকতা লাভ করে এবং সর্বত্র ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদ বিতাড়নের জন্য যুদ্ধ ও শাহাদত বরণের তীব্র আকাংখা ও আবেগ আন্দোলিত হতে থাকে। অন্য একটি কেন্দ্র ছিল পাটনায়। এ কেন্দ্রের নেতৃত্বে ছিলেন মাওলানা এনায়েত আলী, মাওলানা বেলায়েত আলী ও মাওলানা ফারহাত আলীর ন্যায় স্বাধীনতাকামী বলিষ্ঠ প্রত্যয়ী তিন মহান ব্যক্তিত্ব। তাঁদের প্রচেষ্টার ফলে দক্ষিণ ভারতের গোটা অঞ্চলে স্বাধীনতার চেতনা সম্প্রসারিত হয়। আর একটি কেন্দ্র ছিল আফগান সীমান্ত অঞ্চলে। সাইয়্যিদ আহমদ শহীদের প্রভাবে সিত্তানা অঞ্চলে যে চেতনা সম্প্রসারিত হয়েছিল, তাই ক্রমান্বয়ে ঘনিভূত হয়ে সিত্তানাকে কেন্দ্র করে এই তৃতীয় কেন্দ্রটি গড়ে উঠেছিল। এর নেতৃত্বে ছিলেন মাওলানা বেলায়েত আলী, মাওলানা ফয়েজ আলী, ইয়াহইয়া আলী ও আকবর আলী নামের খ্যাতনামা আত্মত্যাগী মুজাহিদবৃন্দ। এদের প্রচেষ্টায় আফগানিস্তান, সীমান্ত অঞ্চল, সিন্ধু ও বেলুচ প্রভৃতি অঞ্চলে স্বাধীনতার চেতনা দানা বেঁধে উঠেছিল। এভাবেই এ সকল উলামায়ে কিরামের প্রচেষ্টায় সারা দেশের আনাচে-কানাচে কোম্পানীর দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণবিদ্রোহ চরম রূপ ধারণ করে। গোপনে গোপনে সারা দেশে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলতে থাকে । সেনাবাহিনীতেও এ চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। গোপনে গোপনে তারাও বিদ্রোহের প্রস্তুতি নিতে থাকে। দেশীয় সৈনিক ও বৃটিশ সৈনিকদের সাথে ইংরেজ সরকারের বৈষম্যমূলক আচরণও বৃটিশ সরকারের প্রতি এ দেশীয় সৈনিকদেরকে কষ্ট করে তুলে। বৃটিশ সৈনিকদের যে হারে বেতন দেওয়া হত সে তুলনায় এদেশীয় সৈনিকদের বেতনের হার ছিল খুবই কম। তাছাড়া এদেশীয় সৈনিকদেরকে বৃটিশ সরকারের ইচ্ছামত বহিঃরাষ্ট্রের যে কোন স্থানে প্রেরণের বাধ্যতামূলক আইন তাদের জন্য এক দুর্বিসহ যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। কারণ যেখানেই যুদ্ধ শুরু হত সেখানেই রণাঙ্গণে অগ্রে পাঠানো হতো ভারতীয়দেরকে, বৃটিশদেরকে রাখা হত পিছনে। ফলে হতাহত যারা হত তাদের অধিকাংশই হত ভারতীয় । তাছাড়া দূরদেশ থেকে বাড়ী আসতে যেতে বেতনের পয়সায় কুলিয়ে উঠত না। ফলে তারা চরম অর্থ সংকটের মাঝে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছিল। তদুপরি এদেশের উপর ইংরেজদের ধর্মীয় আগ্রাসন, রাজনৈতিক নির্যাতন ও সামাজিক নিপীড়নের নির্মম ও স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ডও সেনাবাহিনীকে ক্ষেপিয়ে তুলেছিল । সিপাহী জনতার এই সঞ্চিত ক্ষোভই ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের আকারে নিস্ফোরিত হয়। পূর্বথেকেই সারাদেশের সিপাহী জনতার অন্তরে ইংরেজ বিরোধী চরম ক্ষোভ সঞ্চিত ছিল, এহেন মুহুর্তে ইংরেজ সরকার এনফিল্ড রাইফেলে ব্যবহারের জন্য এক ধরনের নতুন টোটা প্রবর্তন করে। জানা হারাম, আর হিন্দুদের কাছে গরু হল দেবতা। ফলে পশ্চিম বঙ্গের বরাকপুরের যায় যে, এই টোটায় গরু ও শুকুরের চর্বি মিশ্রিত ছিল। মুসলমানদের কাছে শুকর সেনানিবাসে মুসলমান ও হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ের সৈনিকরা এই টোটা ব্যবহার করতে অসম্মতি জানায়।

Comments