বালাকোট

A
arif567
বালাকোট ও মুজাফফরাবাদের দিকে মুজাহিদ বাহিনীর গমনের নেপথ্য কাহিনী ঃ সে সময় • পিখলী ও কাগান উপত্যকার জনগণ ও নেতৃবৃন্দের রাজনৈতিক অবস্থা শিখদের উপর্যপরি আক্রমণ, সীমাহীন জুলুম ও নির্যাতনের কারণে এবং ক্ষমতা নিয়ে নিজেদের মধ্যকার আত্মকলহ ও পারস্পরিক দ্বন্দ্বের কারণে একেবারেই নাজুক ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। অনেকেই প্রতিপক্ষ দ্বারা আক্রান্ত হয়ে রাজ্যহারা অবস্থায় নির্বাসিত জীবন যাপন করছিল। এদের মাঝে সুলতান যবরদস্ত খান ছিলেন একজন। আপন চাচাত ভাই সুলতান নজফ খান শিখদের সহযোগিতা নিয়ে তাকে মুজাফ্ফরাবাদ গড় থেকে উচ্ছেদ করে তা দখল করে নেয়। নজফ খান ঘুড়িওয়ানা নামে অন্য একজন সম্রাট আপন রাজ্য হারিয়ে কুহে দিরারায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। রাজা মুজাফফর খান আপন ভ্রাতা দিরারার শাসন কর্তা মনসুর খানের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। হাববুিল্লাহ খান শিখদের ভয়েআপন গড় ছেড়ে বালাকোটে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সাইয়্যিদ সাহেবের অ এলাকায় আগমনের সংবাদ পেয়ে সকলেই তাঁর নিকট সাহায্য কামনা কর আবেদন জানায়। সাইয়্যিদ সাহেবও চিন্তা করে দেখলেন যে, এ সকল ক্ষুদ্র শক্তিগুলোকে সহযোগিতা করে আপন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারলে সকলের সমন্বয়ে একটি বিরাট সামরিক শক্তি গড়ে তোলা সম্ভব। তাছাড়া এ সক সম্রাটদের শাসিত অঞ্চল কাশ্মীর যাওয়ার পথেই পড়ে। সুতরাং এদের সাহায্য সহযোগিতা ও সান্তনা প্রদান করতে পারলে কাশ্মীরের পথ যেমন নিরাপদ হবে তেমনি তা দখল করাও সহজ হবে। এসব কিছু চিন্তা করেই তিনি তাদেরকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কিন্তু এ সকল নেতৃবৃন্দের সাথে সমঝোতা রক্ষা করা ও কাশ্মীরের পথে অভিযান পরিচালনার করার জন্য বালাকোট ছিল। একটি গুরুত্বপুর্ণ স্থান। এ কারণেই তিনি মাওঃ খায়রুদ্দীন ও মাওঃ ইসমাইল রাহ. কে বালাকোট অভিমুখে প্রেরণের সিদ্ধান্ত করেন। বালাকোট কাগান উপত্যকার দক্ষিণ প্রান্তে পাহাড়ী একটি অঞ্চল। দু'টি পাহাড় কাগান উপত্যকার উত্তর দক্ষিণে বিদ্যমান। পাহাড় দু'টি পূর্ব পশ্চিমে লম্বালম্বিভাবে সমান্তরাল দেয়ালের ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে। দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী অঞ্চল সমতল। পূর্বদিকে কালুখানের সুউচ্চ টিলা ও পশ্চিম দিকে মাটিকোট টিলা অবস্থিত। সেটিও খুব উঁচু টিলা। এ টিলার উত্তর পার্শে মাটিকোট গ্রাম। দক্ষিণের পাহাড় ও পশ্চিমের টিলার মাঝ দিয়ে একটি পুরানো সুরু পথ গিয়ে মাটিকোটে পৌঁছেছে। এপথ দিয়েই মূলতঃ কাগান উপত্যকায় প্রবেশ করা যায়। তাছাড়া দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী সমতল ভূমি দিয়ে একটি নদী বয়ে গেছে, যার নাম কুনহার নদী। এই নদীর উৎস মুখ দিয়েও এই উপত্যকায় প্রবেশ করা যায়। একারণে কাগান উপত্যকা সামরিক দিকে থেকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ও সুরক্ষিত। এই কাগান উপত্যকার দক্ষিণ প্রান্তে পাহাড় পরিবেষ্টিত একটি জনবসতিপূর্ণ টিলার নাম। বালাকোট । সামরিক দিক থেকে এ স্থানটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এই টিলার উত্তরে তিনটি সুউচ্চ টিলা রয়েছে। এই টিলাগুলো মিলে একটি প্রাচীরের আকার ধারণ করেছে, যে প্রাচীরটি তার উত্তর দিককে সুরক্ষিত করে রেখেছে। এর পশ্চিম পার্শ্বে রয়েছে সিতবন টিলা। দক্ষিণ দিকে কুনহার উপত্যকা। এই চতুঃসীমানার ঠিক মাঝখানেই বালাকোট অবস্থিত। এই টিলার উত্তর-পশ্চিম দিক ক্রমশঃ নীচের দিকে ঢালু হয়ে নেমে গেছে। তার উপর জনবসতি গড়ে উঠেছে। ফলে টিলার উপর থেকে চতুপাশের অবস্থানগুলো সহজে লক্ষ্য রাখা যায়। এ কারণেই স্থানটি যুদ্ধের জন্য যথেষ্ট সুবিধাজনক। বালাকোট অভিমুখে মাও. খায়রুদ্দীন ঃ

Comments