নির্যাতন

A
arif567
আলেম সমাজের উপর নির্যাতন ঃ ইংরেজদের নিকট একথা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট ছিল যে, মূলতঃ আলো সমাজই মুসলমানদের শক্তি ও প্রেরণার মূল উৎস এবং ইংরেজ বিরোধী ে ছড়ানোর ক্ষেত্রে তাঁরাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। ফলে তারা আলেমদের প্রতি অত্যন্ত ক্ষেপা ছিল, বিশেষ করে ১৮০৩ সালে ইংরেজ কর্তৃক দিল্লী হওয়ার পর, শাহ আব্দুল আযীয রাহ. ভারতকে দারুল হারব (শত্রু কবলিত দেশ) বলে ঘোষণা দিলে সারাদেশে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল তাতে তারা বিচলিত হয়ে পড়ে। এরপর থেকেই তারা আলেম সমাজকে অবদমিত করার জন্য অত্যাচার ও ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেয় এবং উলামায়ে কেরামকে জব্দ করার ব্যাপারে কোন অপকৌশল অবলম্বন করতে বাদ রাখেনি। দেশীয় মীর জাফরদের যোগসাজশে আলেম সমাজের আন্দোলনকে বিভিন্ন সময় চরমভাবে ব্যাহত করেছে। তারা মাওলানা শাহ আব্দুল আযীয রহ.-এর গায়ে টিকটিকির প্রলেপ লাগিয়ে দেয়। ফলে তিনি কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন এবং তাঁর চার ভাইকে দেশান্তর করা হয়। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লবের পর আলেম ও উলামাদের উপর ইংরেজদের নির্যাতন সীমা ছাড়িয়ে যায়, কেননা তারা আলেমদেরকেই এ আন্দোলনের জন্য দায়ী মনে করত। যে কারণে আলেম উলামারাই তাদের ক্রোধানলে বেশি নিপতিত হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রপথিক, হাজী ইমদাদুল্লাহ রাহ. এবং তাঁর একান্ত শিষ্য মাওলানা কাসেম নানুতুবী রাহ এবং মাওলানা রশীদ আহমদ গাংগুহী রাহ. এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করা হয় এবং তাঁদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। ফলে হাজী সাহেব কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকেন। অতঃপর হিজরত করে মক্কা শরীফে চলে যান। মাওলানা নানুতুবী রাহ. দেশে আত্মগোপন করে থাকাকেই উত্তম মনে করেন। মাওলানা গাংগুহী রাহ. কে রামপুর থেকে বন্দী করে তিন দিন সাহারানপুরের জেলের এক অন্ধকার কুঠুরিতে রাখা হয়। তারপর তাঁকে জেন হাজতে প্রেরণ করা হয়। অতঃপর খোলা তরবারীর নিচে পায়ে হাঁটিয়ে তাঁকে মুজাফফর নগর নেওয়া হয়। সেখানে ৬ মাস বন্দী জীবন যাপন করেন। মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি ফাঁসির হাত থেকে বেঁচে যান।

Comments