মুসলমানদের উপর নির্যাতন
১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে দু'লাখ মুসলমান শাহাদত বরণ করেছিল। তাদের মাঝে উলামা-ই-কিরামের সংখ্যা ছিল ৫১,৫০০। ইংরেজরা আলিমদের উপর এতই ক্ষেপা ছিল যে, তারা যেখানেই কোন দাড়ীওয়ালা, টুপি ও লম্বা জামা ওয়ালা লোক দেখতে পেত, তার উপরই পাগলা কুকুরের মত ঝাঁপিয়ে পড়ত এবং তাঁকে ফাসিতে ঝুলাত। এডওয়ার্ড টমাস বলেন, শুধু দিল্লীতেই ৫০০ আলিমকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। অনুরূপভাবে শায়খুল হিন্দ নাহ, এর রেশমী রুমাল আন্দোলন এবং বৃটিশ বিরোধী গোপন কূটনৈতিক, সামরিক এবং আন্তর্জাতিক তৎপরতা, তুর্কী প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আনোয়ার পাশার সাথে তুর্কী -ভারত গোপন চুক্তি এবং খিলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনে ইংরেজরা ছিল আতংকিত। তাই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হযরত শায়খুল হিন্দু এবং তাঁর চার সাথী, হোসাইন আহমদ মদনী, মাওলানা ওযায়ের গুল, মাওলানা হাকিম সুনরাত হুসাইন, মৌলভী ওয়াহীদ আহমদকে সাড়ে তিন বছর গাল্টায় বন্দী করে রাখা হয়। এছাড়াও বহু আলেমকে তারা মাল্টায়, আন্দামানে, সাইপ্রাসে নির্বাসন দেয়। সেই নির্বাসিত জীবনে তাঁদের উপর যে অকথ্য নির্যাতন চালানো হয় সে এক হৃদয় বিদারক করুণ কাহিনী, সে এক দীর্ঘ ইতিহাস। এভাবে আলেম সমাজকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সমূলে উৎখাত করার জন্য অত্যাচার ও নির্যাতনের বিভিন্ন কৌশল তারা অবলম্বন করে। খ. সাধারণ মুসলমানদের উপর নির্যাতন ঃ আগেই বলা হয়েছে ইংরেজরা একমাত্র মুসলমানদেরকেই তাদের মূল শত্রু মনে করত। ফলে বিভিন্ন সময় তারা মুসলমানদের উপর বিভিন্ন কৌশলে নির্যাতন চালাত। বিশেষ করে ১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ ব্যর্থ হওয়ার পর ভারতবর্ষের মানুষের উপর অত্যাচার ও নির্যাতনের যে বিভীষিকা নেমে আসে, মুসলমানগণই ছিল সে জুলুম ও অত্যাচারের মূল শিকার। কারণ স্বাধীনতা আন্দোলন মূলতঃ মুসলমানরাই করেছিল। মুলমানদের প্রতি তাদের অত্যাচার এতই নির্মম ছিল যে নিষ্পাপ শিশুরাও তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতনা। ১৮৫৭ সালের ১৮ই নভেম্বর দিল্লীর জামে মসজিদের আঙ্গিনায় এক দিনেই তারা ২৭ হাজার মুসলমানকে হত্যা করে। পাষণ্ড ইংরেজরা মুসলমানদের যখন হত্যা করত, তখন শুকরের চামড়ার মধ্যে পুরে সেলাই করে দিত এবং হত্যার পূর্বে শুকরের চর্বি গায়ে মাখিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিত। লেফটেন্যান্ট মাণ্ডাজী লিখেছেন- একজন মুসলিম সিপাহীর ইগুল সংগীনের আঘাতে ক্ষত বিক্ষত করা হয়, অতঃপর তাকে অল্প আগুনে জনা করা হয়। জ্বলন্ত মানুষের দুর্গন্ধে আমার মাথা ফেটে যাওয়ার উপক্রম পৈশাচিক নির্যাতনের ভয়ে নিজেদের কূপে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করেছে। হয়েছিল । খাজা হাসান নিজামী লিখেছেন- হাজার হাজার মুসলিম নারী ইংজেদের মানক পুরুষতো নিজের স্ত্রীকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যা করেছে।

