আমার প্রথম রক্তদান 🩸🩸

A
arif567

🩸হাসবে রোগী বাঁচবে প্রাণ, স্বেচ্ছায় করি রক্তদান 🩸

 

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু ‌।সবাই কেমন আছেন আশা করি ভাল আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে আপনাদের দোয়ায় আমিও ভালো আছি।

 

 

আজকে আমি যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব সে বিষয়টি হলো সর্বপ্রথম আমি কিভাবে রক্ত দান করতে গিয়েছিলাম এবং আমাকে যে উৎসাহিত করেছিল রক্তদান করার জন্য। সেই সম্পর্কে কিছু কথা বলব ।আল্লাহ তাআলা আমাকে বলার তৌফিক দান করুন আমিন।

 

সুপ্রিয় বন্ধুরা আমি যখন সর্বপ্রথম ঢাকায় কিতাব বিভাগে পড়াই তখন আমি সাইনবোর্ডে ভর্তি হয় ।সেখানে আমি ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করতেছি এরই মাঝে আমাদের সাথে একজন লেখাপড়া করতো তার বাড়ি ছিল নেত্রকোনা ।সে আমার সাথে লেখাপড়া করতো তার নাম ছিল উসামা মাহমুদ। আমরা একই জামাতে লেখাপড়া করতাম।

 

তো উসামা ভাই আমাদের মাদ্রাসার পাশে একটি ফাউন্ডেশন আছে সেখানে রক্তদান, ইসলামিক বই পত্র বিতরণ ,বিভিন্ন মানব সেবা নিয়ে কাজ করে সেই ফাউন্ডেশন। সেখানে তিনি আসা-যাওয়া করতেন তিনি সেখানকার একজন সদস্য ছিলেন। আমাদের মাদ্রাসার ছাত্ররা অনেকে সেখানে সদস্য ছিলেন।

 

আমি প্রায় প্রায়ই উসামা ভাইয়ের কাছে শুনতাম তিনি রক্ত দিয়েছেন ।আমার কাছে প্রথম আশ্চর্য লাগতো কিভাবে একজনের রক্ত অন্যজনকে দেয় একজনের রক্ত অন্যজনকে কি দেওয়া যায়। এটা নিয়ে আমার অনেক ভাবনা চিন্তা হতে লাগল ।একদিন তো ওসামা বাইকে বললাম আচ্ছা আপনি শেখান কি কাজ করেন তিনি আমাকে বললেন চল ।আমার সাথে যাবে সেখানে গিয়ে সব কিছু বুঝতে পারবে।

 

তারপর আমি ওসামা ভাইকে বললাম যে আমার রক্ত পরীক্ষা করাবো এবং আমিও রক্ত দিতে চাই ।কিভাবে কি করলে ভালো হয় ।তিনি আমাকে বললেন চল আজকে তোমাকে নিয়ে যাব আমাদের অফিসে ।তারপর বিকেলবেলায় আমি ওসামা ভাইয়ের সাথে তাদের ফাউন্ডেশনে গেলাম তাদের ফাউন্ডেশন এর নাম হলো আল কমার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ।সেখানে আমাকে নিয়ে গেল তারপর আমি ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান এর সাথে কথাবার্তা বললাম তাদের কাজকর্ম কি সেই সম্পর্কে কথাবার্তা বললাম।

 

তারপর আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম রক্তদান করলে কি কি ফায়দা হয় এবং কি কি ক্ষতি হয়। তিনি আমাকে কিছু ফায়দার কথা বললেন তার মধ্যে ছিল সর্বপ্রথম যে ফায়দাটি হবে তোমার রক্তের ধারা কারো জীবন বেঁচে যাবে। তোমার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। তুমি সুস্থ থাকবে ।তারপর আমার আরও উৎসাহ বেড়ে গেল তখন আমি বললাম আমি রক্ত পরীক্ষা করাবো। তারপর ওসামা ভাই আমার রক্ত নিয়ে পরীক্ষা করল এবং আমার রক্তের গ্রুপ জানিয়ে দিল যে এবি পজেটিভ🩸🩸

 

তখন আমি রক্তের গ্রুপের জানার পর ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান কে বলে আসলাম ।যদি কারো রক্তের প্রয়োজন হয় আমাকে জানাবেন আমি রক্ত দিব ।তারপর দুইদিন পর আমাকে উসামা ভাই অফিসে নিয়ে আসেন এবং আমাকে বললেন যে আজকে তুমি কি রক্তদান করতে পারবে ?আমি বললাম হ্যাঁ আমি পারবো ।যার স্ত্রীর রক্তের প্রয়োজন তিনি আসছিলেন আমাদের সেই অফিসে তারপর আমাকে দেখে অনেক খুশি হইল এ।বং বলল আমার স্ত্রী এর সিজার হবে এ জন্য এক ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন।

 

তারপর আমি ওনার সাথে নারায়ণগঞ্জে চলে গেলাম একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ।সেখানে গিয়ে সর্বপ্রথম আমার রক্ত টেস্ট করলো তারপর কিছুক্ষণ পর বলল-আপনার রক্ত নেওয়া হবে ।তারপর আমাকে যার রক্তের প্রয়োজন তার কাছে নিয়ে গেল এবং বলল যে উনি রক্ত দান করবেন মহিলাটি অনেক খুশি হলো ।আমার জন্য অনেক দোয়া করল। তার দুটি ছেলে মেয়ে যাকে রক্তদান করবো ।তারপর কিছুক্ষণ পরে আমার কাছে একজন ডাক্তার আসলো আমাকে বলল সিটের ওপর শুয়ে যেতে।

 

আমি সিটের উপর শুয়ে পড়লাম তারপর একজন ডাক্তার আসলো আমার থেকে শুই ঢুকিয়ে রক্ত নিল 1 ব্যাগ। রক্ত দিলাম তারপর আমি মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম তিনি আমাকে রক্তদানের পর একটি ঢাব এবং কিছু নাস্তা করেন এবং আমাকে আসা-যাওয়ার হাত খরচ দিয়ে দেন।

 

সেদিন আমার অনেক খুশি লাগতেছিল কারন আমি একজন রক্তদাতা হয়ে গেলাম ।তারপর থেকে এখন পর্যন্ত আমি পাঁচবার রক্ত দান করেছি ।ইনশাআল্লাহ আর কিছুদিন পরে আমি আবার রক্ত দান করব ।সবাই রক্ত দান করবেন তাহলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাবে আপনি সুস্থ থাকবেন। 40 দিন পর পর মানুষের যে বাড়তি রক্ত টা থাকে সেটা নষ্ট হয়ে যায় ।সেটা যদি আমরা কাউকে দান করে দেই তাহলে আমাদের কোন অসুখ-বিসুখ হবে না আর যদি না দেই তাহলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন প্রকারের রোগ দেখা দেয়।

 

তো বন্ধুরা আজকে এখানেই শেষ করছি সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতু।

 

🩸হাসবে রোগী বাঁচবে প্রাণ ,স্বেচ্ছায় করি রক্তদান 🩸🩸

Comments