আসসালামুয়ালাইকুম। সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভাল আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমি ও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। আজকে আমি আমার শৈশবকালের কথা বলবো।শৈশবের সেই সোনালি সময়গুলো আমার জীবন থেকে বিদায় গ্রহণ করলেও শৈশবের আবেগমাখা স্মৃতিগুলো আমার হৃদয়-মাঝারে চির অম্লান। আমার শৈশব কেটেছে গ্রামে দাদার বাড়িতে। ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া থানা, গ্রামের নাম বৈদ্যবাড়ী। গ্রাম্য পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে প্রকৃতির সাথে আমার এক নিবিড় সম্পর্ক ছিল। পাখির কিচিরমিচির শব্দ আর এক চিলতে রোদের ঝলকানীতে ভোরবেলা আমার ঘুম ভাঙতো। আমাদের বাড়ির চারপাশে অনেক গাছপালা আছে। গ্রামের বাড়িতে আমরা দাদা-দাদু, চাচা-চাচী ও ফুপীসহ অন্য আত্মীয়দের সাথে থাকতাম। ছোট বেলায় আমার খেলার সাথী ছিল আমার চাচাতে ভাইবোনগুলো। ছোট বড় মিলে আমরা মোট পাঁচ জন ছিলাম। যখন বড় ফুপীর ছেলে মেয়েরা আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসতো তখন আমাদের আনন্দময় দিনগুলোতে একটা নতুন মাত্রা যোগ হতো। আমি সবার সাথে মিলেমিশে থাকতাম এবং পরিবারের সকলেই আমাকে খুব ভালোবাসতো। আমি আমার শৈশব থেকে এখন যথেষ্ট দূরে কিন্তু যখনই গ্রামে ফিরে যাই শৈশবের স্মৃতি জড়িত স্থানগুলো আমার মনকে দোলা দিয়ে যায় এবং শৈশবের স্মৃতিগুলো আমার চোখের সামনে স্পষ্টভাবে ভাসতে থাকে। শৈশবকাল সত্যিই খুব সুখের। অনেক মিস করি শৈশবের সময়টাকে।
আমার শৈশবকালীন অসংখ্য আনন্দময় স্মৃতির মধ্যে প্রথমে যেটা মনে আসে তা হলো আমার গাড়ি খেলা। বাবা আমার জন্য অনেক গাড়ি কিনে দিত।এসব কথা এখন যখন মনে আসে তখন নিজের অজান্তে একাই হেসে উঠি। আমরা যতগুলো চাচাতো ভাইবোন ছিলাম সবাই বেশির ভাগ সময় দাদুর ঘরে ঘুমাতাম বিশেষ করে ছোটরা। দাদুর ঘরে মেঝেতে ঢালাও বিছানা এবং কে কার পাশে শোবে এ নিয়ে প্রতিদিনই ঝগড়া চলতো। তবে আমি দাদুর পাশে ঘুমাতেই বেশি পছন্দ করতাম। দাদু আমাকে একটু বেশিই ভালোবাসতেন এবং তার পাশে শুয়ে থাকতে পারার সুবাদে নানা রকম রূপকথার গল্প শুনতে পারতাম। আমি সুযোগ পেলেই আমার অন্যান্য ভাইবোনদের সাথে পুকুরে নেমে দু-একটা ডুব দিয়ে আসতাম। ঝড়ের দিনে টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ শুনতে আমি খুব পছন্দ করতাম। বৃষ্টি নামলে আমাকে যে ভিজতে দিতেই হবে একথা মা খুব ভালোভাবেই জানতেন। ঝড়ের মধ্যে আম কুঁড়াতে পারাটাকে একটা বিশাল অর্জন মনে করতাম। আমি যদিও একটু দুষ্ট প্রকৃতির ছিলাম, স্কুলে পড়াশোনার দিক দিয়ে বাবা-মাকে সন্তুষ্ট রাখতে পারতাম। স্কুলের শিক্ষকদের কাছেও আমি খুব স্নেহভাজন ছিলাম। স্কুলেও আমার অন্য একটা জগৎ তৈরি হয়েছিল। আমার অনেকগুলো বন্ধু ছিল। তবে আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু ছিল জাহিদ। যদিও ওর সাথে এখন আমার আর কোনো যোগাযোগ নেই। ছোটবেলায় তখনও আমার রেল গাড়িতে ভ্রমণ করা হয়নি। এটাকে একটা রহস্যময় যানবাহন মনে করতাম। আমাদের গ্রামে ধান ক্ষেতের বুক চিরে বয়ে গেছে রেলপথ। হঠাৎ ট্রেন আসার শব্দ পেলে সব খেলা ছেড়ে ছুড়ে সবাই দৌড়ে আসতাম রেলগেটে। ওখানে দাঁড়িয়ে থেকে নানা রকমের মানুষ দেখতাম। হকাররা অন্যান্য জিনিসপত্র ও খাদ্যদ্রব্য নিয়ে ট্রেনের আশেপাশে ঘোরাফেরা করত। মাঝে মাঝে এদের হাতে খাবার দেখে লোভ লাগতো। এসব কথা এখন মনে হলে মনের অজান্তেই খুব লজ্জাবোধ করি। গ্রামে যখন কোনো মেলা হতো তখন চাচা আমাদের সব ভাইবোনকে মেলায় নিয়ে যেতেন। মেলায় গিয়ে নাগর দোলায় উঠা আর সার্কাস দেখা ছিল আমার প্রধান কাজ। মোট কথা সবার কাছ থেকে অনেক আদর পেয়েই আমি বড় হয়েছি। শৈশবের স্মৃতিগুলো আজ পর্যন্ত আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের স্মৃতি বহন করছে। আমার শৈশবকালের শেষের দিকে, যখন আমি ভালোভাবে সব কিছু বুঝতে শিখেছি, বাবা আমাকে আর মাকে নিয়ে শহরে চলে এলেন। এতদিনের মায়া মমতা ভরা স্মৃতি বিজড়িত জায়গা আর সবাইকে ছেড়ে আসার সময় আমার বুকের ভেতরটা ভীষণভাবে আহত হয়েছিল। আমার দুই চোখের বাঁধ ভাঙা জল আমি সবার মাঝখানে থেকেও আড়াল করতে পারিনি। ঐ দিনটির কথা মনে পড়লে এখনও আমার খুব কষ্ট লাগে।একটি বেদনাদায়ক ঘটনা হচ্ছে আমার এক চাচাতো ভাই মিরাজের আকস্মিক মৃত্যু। আমাদের গ্রাম থেকে বড় নদী খুব কাছেই ছিল। মিরাজ বাড়ির কাউকে না জানিয়ে ওর বন্ধুদের সাথে ঐ নদীতে গোসল করতে যায়। ভালোভাবে সাঁতার না জানার কারণে মাঝ নদীতে গিয়ে ডুবে যায় মিরাজ। অবশেষে নির্মম মৃত্যু। মিরাজের সাথে ঝগড়া আর মারামারিটা একটু বেশি হলেও সে আমার নিয়মিত খেলার সাথী ছিল, মাঝে মধ্যে প্রতিযোগীতাও হতো। আর নিজের বিষয়ে বলতে গেলে বলা যায় একদিন বৃষ্টির মধ্যে সবাই মিলে হা-ডু-ডু খেলতে খেলতে খেলাচ্ছলে পড়ে গিয়ে পা টা মচকে গেল। এ নিয়ে বাড়ির সবাই ভয়ে অস্থির। পা মচকানোর ব্যথা নিয়ে অনেক দিন ঘরে বন্দী জীবন কাটাতে হয়েছে এবং বাইরে অন্যদের সাথে খেলতে যেতে পারিনি। অন্য একদিনের ঘটনা ও বেশ মনে আছে। তখন আমি নতুন নতুন স্কুলে যেতে শুরু করেছি। একদিন একা একা স্কুল থেকে ফিরে আসতে গিয়ে ভুল পথে পাশের গ্রামে চলে এসেছিলাম। আমি তখন খুব ছোট ছিলাম বলে ভয় পেয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদতে শুরু করেছিলাম। আমার ভাগ্য ভালো যে ছোট মামা আমাকে দেখতে সেদিন ঐ পথ দিয়ে আসছিলেন। একা দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখে মামা আমাকে কোলে তোলে নিলেন। তার পর বাসায় ফিরে আসতে পারলাম। দুঃখ-সুখের সংমিশ্রণেই আমার শৈশব কেটেছে। আনন্দের স্মৃতিগুলোর পাশাপাশি দুঃখে স্মৃতি ও আমার হৃদয়ে এখনও অম্লান হয়ে রয়েছে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমিও সবার জন্য দোয়া করবো। আল্লাহ আমাদের করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত করুন। আমিন।


অভিনন্দন! আপনার পোস্টটি সেরিবাংলাদেশের কমিউনিটি আইডি থেকে কিউরেশন করা হয়েছে। আপনি সেরি বাংলাদেশ ডিসকর্ড সার্ভারে get_upvote_serey চ্যানেলে আপনার পোস্ট লিঙ্ক জমা দিয়ে প্রতি 24 ঘন্টার মধ্যে একবার আমাদের কমিউনিটি থেকে ভোটের অনুরোধ করতে পারবেন, ধন্যবাদ।
Join sereyBangladesh Discord server:- Join Discord (https://discord.gg/YKPqUku8)
Join sereyBangladesh Telegram :- Join Telegram (https://t.me/SereyBangladesh)