অর্থনৈতিক আগ্রাসন
অর্থনৈতিক আগ্রাসন : যেহেতু বৃটিশ সরকার একমাত্র মুসলমানদেরকেই তাদের প্রতিপক্ষ বলে ধে নিয়েছিল এবং স্বাধীনতার ইন্ধন তারাই যুগাচ্ছে বলে মনে করত, এ কারণে বৃটিশ চিন্তাবিদরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিল যে, ভারতে তাদের সাম্রাজ্য চিরস্থায়ী। করতে হলে স্বাধীনতাকামী মুসলমানদেরকে আর্থিক দিক থেকে পঙ্গু করে রাখতে হবে। সুতরাং তারা মুসলমানদেরকে কাঙ্গালে পরিণত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। একদিকে তারা সাধারণ মানুষ থেকে কঠোর শ্রম আদায় করে বিনিময়ে নামে মাত্র পারিশ্রমিক দিত, অন্যদিকে তাদের ঘাড়ে করের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে লুটপাট করার পথ প্রশস্ত করেছিল । লুটপাট ও দস্যুবৃত্তি ছিল তাদের নেশা। তাই এজনা তারা নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করত। এক্ষেত্রে তারা যে জঘন্যতম কৌশল অবলম্বন করেছিল তা ছিল দেশীয় রাজ্যে নতুন নতুন নবাব নিয়োগ করা। অভিলাষী নতুন নবাবরা ইংরেজদের মনঃতুষ্টির জন্য তার ধন ভাণ্ডার উন্মুক্ত করে দিত, যখন ইংরেজরা বুঝতে পারে যে, তাদের ধনভাণ্ডার তারা সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করে ফেলতে পেরেছে তখন তাদেরকে পদচ্যুত করে নতুন নবাব নিয়োগ করত। এভাবে তারা নবাবদের নিকট থেকে এত পরিমাণে অর্থ আদায় করত যে, সেই অর্থের চাপ গিয়ে পড়ত সাধারণ মানুষের উপর। নবাবরা সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের উপর অধিক হারে করের বোঝা চাপিয়ে দিত। এভাবে দেশ সম্পূর্ণরূপ দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিল। পলাশীর যুদ্ধের পর মীর জাফরকে নবাব বানিয়ে তার নিকট থেকে ১ কোটি ২৩ লাখ ৮ হাজার ৫শত ৭৫ পাউন্ড গ্রহণ করে। অতঃপর তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে মীর কাশিমকে নিয়োগ করে তার নিকট থেকে ২ লাখ ২ শত ৬৯ পাউন্ড আদায় করে। এভাবে মাত্র ৯ বছরে শুধুমাত্র বাংলার নবাবদের নিকট হতে ২ কোটি ৭১ লাখ ৬৯ হাজার ৬শত ৬৫ পাউন্ড লুট করে। তাছাড়া অন্যভাবে যে সম্পদ তারা আহরণ করেছিল তার পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ২৮ লাখ ৭০ হাজার ৮শত ৩৩ পাউন্ড। ১৭৭২ সালে হাউস অফ কমনস-এর এক অধিবেশনে তারা এ অর্থ প্রাপ্তির স্বীকৃতি প্রদান করে। সুতরাং দুই শত বৎসরে তারা সারা ভারতবর্ষ থেকে কি পরিমাণ সম্পদ লুট করেছিল তা অনুমান করা যায়।

