আমার হাফিজিয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া পর্ব 2

A
arif567

আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু সবাই কেমন আছেন আশা করি সকলে ভালো আছেন আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে আমিও ভাল আছি আজকে আমি আমার তৃতীয় বর্ষ কিভাবে আমি লেখাপড়া করেছি সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা করব আর আমি এই লেখার নাম দিয়েছি হিফজুল কোরআন পর্ব 2 তো আমি আমার মামার বাড়ি থেকে দুই বছর পড়ার পর আমি আমার মামারবাড়ি থেকে চলে আসি অন্য একটি মাদ্রাসায় পড়ার জন্য আমার ছোট মামা বললেন আমাকে অন্য আরেকটি ভালো মাদ্রাসায় পড়াবেন কারণ ওই মাদ্রাসায় আমার তেমন পড়ালেখা হচ্ছিল না মামা একদিন পড়া জিজ্ঞেস করেছিল আমি বলতে পারি নাই এর জন্য আমার মামা বলেন তোমাকে এই জায়গায় আর পড়াবো না তোমাকে অন্য আরেকটি ভালো জায়গায় আমি ভর্তি করিয়ে দিব রমজানের পর মামা আমাকে অন্য একটি মাদ্রাসায় নিয়ে যায় মামার বন্ধুর মাদ্রাসায় আমি সেখানে যাই সেখানে গিয়ে আমাকে ভর্তি করিয়ে দেয়া হয় আমাকে হুজুর জিজ্ঞেস করেন একটু পড়তে কিন্তু আমি একটু পড়ি কিন্তু আমাকে একটি প্রশ্ন করা হয় কুরআন শরীফের একটি জায়গা থেকে যেখানে আমি পড়েছি কিন্তু আমি হুজুরকে উত্তর দিতে পারি নাই তারপর হুজুর বললেন তোমার পিছনের পড়া আগে মুখস্থ করে ভালোভাবে শোনাবে তারপরে তুমি সামনের দিকে অগ্রসর হবে আমি সেখানে ভর্তি হয়ে যায় মামা আমাকে ভর্তি করে সেখান থেকে চলে আসেন সেখানে একটি সবচাইতে বড় সমস্যা হল সেখানে বিদ্যুৎ ছিল না আর সেখানে অনেক গরম ছিল এবং মাদ্রাসার ছিল টিনের এজন্য উপরে কোন আশেপাশে কোন গাছ গাছালি ছিলনা এজন্য যখন রোদ করত তখন অনেক গরম করত দিনের বেলায় ঘুমাতে পারতাম না অনেক কষ্ট হইত আর সেখানে কোন পুকুর ছিল না গোসলের জন্য অনেক কষ্ট হইত ছাত্ররা গোসলের জন্য অনেক কষ্টকর তো অনেক ছাত্র অনেক দূরে দূরে গিয়ে পুকুরে গিয়ে গোসল করে আসতো মাদ্রাসার শুধুমাত্র একটি গোসলখানায় ছিল সেখানেই সকল ছাত্র দের গোসল করতে হইতো আমার অনেক খারাপ লাগতেছিল প্রথম এক মাসেই আমার জন্ডিস রোগ হয়ে যায় তার একমাত্র কারণ হল সেখানের প্রচণ্ড গরমের কারণে আমি কোন কিছু খেতে পারতাম না পানি অল্প করে খেতাম এজন্য আমার জন্ডিস হয়ে যায় একপর্যায়ে আমি বাড়িতে আসতে বাধ্য হয়েই বাড়ি থেকে চিকিৎসা করে পুনরায় আমি ওই মাদ্রাসায় চলে যায় এভাবে আমার দুই মাস কেটে যায় কোরবানীর আগ পর্যন্ত আমি ওই মাদ্রাসায় থাকি কোরবানির পরে হঠাৎ কোনো একটি কারণে মাদ্রাসাটি ভেঙে যায় তারপর আমার মামা বলেন তোমাকে অন্য আরেকটি মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দিব তারপর আগের মাদ্রাসার হুজুর এবং আমার মামা আমাকে অন্য আরেকটি মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেয় সেখানে আমি পড়ালেখা করতে থাকি সেখানে আমি ঐ বছরটা শেষ করে পুনরায় আমি আবার পুনরায় আমার মামার বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরে একটি মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে যায় সেখানে লজিং ব্যবস্থা হয় এবং লজিংথেকে আমার খেয়ে পড়ালেখা করতে কিন্তু ভাগ্যক্রমে যেখানে আমার ক্লোজিং হয় সেখানে তারা আমার আত্মীয় হয়ে যায় কারণ তারা আমার সম্পর্কে খালা হয় এজন্য আমার অনেক ভাল লাগছিল তারা আমাকে অনেক ভালবাসত অনেক আদর করতো অনেক স্নেহ করতো কিন্তু তাদের বাড়ীতে কোন পুরুষ লোক ছিল না হাট-বাজার কে করে দিবে এজন্য আমাকে তারা প্রথম দিনেই বলে দেয় তোমাকে প্রতি হাটের দিন হাট করতে হবে আমি বলছি অসুবিধা নাই আমি বাজার করতে পারি তারপর যেদিন হাটের দিন হত আমাকে একটি বাজারের ব্যাগ এবং টাকা দিতেন বাজার করার জন্য আমি বাজার করে দিয়ে যেতাম আমাকে তারা বলে দিতেন তোমার যা ইচ্ছা মনে চায় তুমি তা বাজার করে নিয়ে আসবে তোমার যা খেতে মনে চায় তুমি তা বাজার করে নিয়ে আসবে আমার যা খেতে মনে চায় আমি তাই বাধা ঘরে আনতাম আমি যেখানে খেতাম সেখানে তারা দুজন ছিল মা এবং মেয়ে মেয়েটি ছোট ছিল সে মক্তবে লেখাপড়া করতো এইভাবে আমি আমার আমি ওই মাদ্রাসায় পড়ালেখা করতে থাকি এবং ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আমার দূর সম্পর্কের নানা লাগেন তিনি আমাকে অনেক ভালোবাসতেন আমাকে অনেক আদর করতেন মাঝে মাঝে কোন কিছু গুণ করলে আমাকে আবার বেশি শাস্তি দিতেন এবং আদরের সময় অনেক বেশি আদর করতেন এই এইভাবে আমি ওই মাদ্রাসায় দুই বছর লেখাপড়া করি এবং আমার ওই বছরই আমার কোরআন শরীফ মুখস্ত করা শেষ হয়ে যায় এবং আমি বাংলাদেশ বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ বোর্ডে আমি পরীক্ষা দেই এবং ভালো রেজাল্ট করি তারপর বছর শেষে শবে বরাতের দিন আমাদের অর্থাৎ আমরা যারা বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ বোর্ডে পরীক্ষা দেই তাদের সবাইকে পুরস্কৃত করা হয় এবং আমাদেরকে মাথায় টুপি পরিয়ে দেওয়া হয় তারপর আমাদেরকে বলে দেওয়া হয় যেদিন এই মাদ্রাসার মাহফিল হবে তোমাদের জন্য অগ্রিম দাওয়াত রইলো তোমাদেরকে ঐ মাহফিলে পাগড়ী দেওয়া হবে তারপর হঠাৎ করে একদিন আমার আব্বার ফোনে কল আসে বলে আজকে মাদ্রাসার মাহফিল আপনার ছেলেকে মাদ্রাসায় পাঠিয়ে দেন তাকে চাকরি দেওয়া হবে এবং আপনিও আসবেন আপনাকে সম্মানিত করা হবে তারপর আমি আর আমার বাবা মাদ্রাসায় চলে যায় মাদ্রাসায় মাদ্রাসায় প্রধান বক্তা আমাদেরকে মাথায় পাগড়ি পরিয়ে দেন এবং আমার বাবাকে টুপি পরিয়ে দেন ঐদিন আমার সবচাইতে খুশি লাগছিল এবং যেদিন আমি মাদ্রাসায় প্রথম ভর্তি হতে চাই ঐদিন আমার খুশি লেগেছিল ওই দুইটা দিন আমার সবচাইতে বেশি খুশি লাগছিল এই ভাবেই আমার কোরআন শরীফ মুখস্ত হয় এবং এই ভাবেই আমি আমার হিফজুল কোরআন মুখস্ত শেষ করি আজকের দিনে অন্য একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব আজকে এই পর্যন্তই সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে এখানেই শেষ করছি সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন আমিও সকলের জন্য দোয়া করি আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে এই মহামারী করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা করুন আমিন আসসালামুয়ালাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ

Comments