মৃত্যুর অমোঘ বিধানকে এড়াবে কে!!

A
মরণের স্বাদ তাকে পেতেই হবে । যদিও সে দুর্গম দুর্গে থাকে । মৃত্যুর দোলনায় দুলছে মানুষ আর জ্বিন । আল্লাহ তাআলা বলেন ' হে জ্বিন ও মানুষ ' যদি আমার আদেশ মানতে তোমাদের ভালো না লাগে । তবে বের হয়ে যাও । আকাশ আর জমিনের সীমানার বাইরে । কিন্তু কখনই তোমরা পারবে না বেরিয়ে যেতে আমার রাজত্ব থেকে । ' হাসপাতলে যান । দেখুন মৃত্যু যাতনায় ধুঁকছে রোগী । শুনুন তার আর্তনাদ । মরণ যন্ত্রণায় কাতর সে । কী যে তার কষ্ট সে কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে । ডাক্তার এসে যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে উচাটন করে ফেলেছে তাকে । বড় আশা নিয়ে ঢুকেছিল সে এখানে । প্রথম ভাবতো ডাক্তারই বুঝি তাকে সারিয়ে তুলবে । কিন্তু সে হারিয়ে ফেলে বিশ্বাস । সে দেখে তার পাশের বেডে রুগী ধুঁকতে ধুঁকতে মারা গেল । একই ডাক্তারের বিকিৎসায় । সে রয়েছে বেঁচে । হয়ে উঠছে সুস্থ । বুঝতে পারে বাঁচা আর মরা আল্লাহতায়ালার হাতে । প্রতিদিন প্রতিটি হাসপাতাল আর শত শত ক্লিনিক থেকে একদিকে বের হচ্ছে লাশ । আরেকদিকে বেরিয়ে আসছে সুস্থ মানুষ । মৃত্যুকে দেখুন । যাত্রা পথে । কিভাবে ওৎ পেতে থাকে । দেশের প্রধানমন্ত্রী সাহেব আধঘন্টা আগেও জানতে পারেননি কি ভয়াবহ মৃত্যু অপেক্ষ করছিল তার জন্যে । গোসল সেরেছেন , চুল আঁচড়েছেন , নাশতা করেছেন । স্ত্রীপুত্র পরিজন বিদায় দিয়েছে হাসিমুখে । চেহারা , চলা - ফেরা কোথাও ছাপ পড়েনি মৃত্যুর । উড়োজাহাজে উঠেছেন । রানওয়ে ছেড়ে হাওয়ায় পাখা মেলে দিয়েছে বিমান । পার হয়েছে সময় । মিনিটের পর মিনিট । মেঘের রাজ্য পাড়ি দিয়ে উড়ে চলেছে বিজ্ঞানের অন্যতম অবদান । কতো কী স্বপ্ন দেখে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী । আচমকা কানফাটা আওয়াজ । কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভেঙে চুরে টুকরো টুকরো হয়ে উড়ে গেল ইস্পাতের খোল , মানুষের রক্ত , বিস্ফোরক প্রব্য মাখা হাড় গোধৃত । মরণ ! ভাই এর নাম মৃত্যু!!

মৃত্যুর অমোঘ বিধানকে এড়াবে কে ? কী দিয়ে ? টাকা , রুপী , পাউন্ড , ডলার , মার্ক , ফ্রাঙ্ক আর ইয়েন ? মৃত্যুকে দেখুন । পঙ্গু হাসপাতালে । মানুষের আর্তনাদ , আর্ত চিৎকারে ভারি হয়েছে সেখানের বাতাস । কারো হাতের , কারো পায়ের কারো ঘাড়ের হাড় ভেঙে গেছে । কারো হয়েছে গ্যাংগ্রিন । পচন । একটু একটু করে কাটা পড়ছে তার পা কিংবা হাত । প্রচণ্ড যন্ত্রণায় প্রাণ তার যায় যায় । তারপর হঠাৎই একদিন ঊর্ধে চলে গেছে সে । মরণ ছুঁয়েছে তাকে । মৃত্যুকে দেখুন । কবরস্থানে । আধ্যাত্মিক সাধক আমির খসরু বলেন একবার কবরস্থানে গিয়ে আমি বিদায়ী বন্ধুর স্মরণে কেঁদে বলি , ' তোমরা কোথায় ? ' আমার আত্মার বন্ধুরা সবাই কী মধুর স্বরে শুধু বলেছিল , ' তোমরা কোথায় ? ’ যাকে ' দ্বিতীয় ওমর ' বলা হয় সেই ওমর ইবনে আজিজ রহমতুল্লাহি আলাইহি এক জানাজাতে ছিলেন । লাশ কবরস্থানে নেয়া হলো । সাথে গেলেন ওমর ইবনে আবদুল আজিজ । তিনি বিষণ্ণ । নিরালা একটা জায়গায় বসে আছেন । গভীর চিন্তায় মগ্ন । একজন মানুষ । কাছে এলেন । জিজ্ঞেস করলেন , ' হে আমাদের খলিফা ' এই জানাজার প্রধান আপনি । আর আপনি এখনে ? একাকী ? খলিফা বললেন , ' আমি কররের কথা শুনেছি । ' ‘ কবরের কথা ? ’ ' হাঁ । ' তিনি নিচু স্বরে বললেন , ' সে আমাকে বলল , “ হে ওমর ইবনে আবদুল আজিজ , হে মুসলমানদের খলিফা ! আপনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন না যে , আমার কাছে যারা আসে আমি তাদের সাথে কী ব্যবহার করি

আমি বললাম , ' বলো । ' কবর বললো , ‘ আমি তাদের কাফনের কাপড়ে পচন ধই । পরে ফেড়ে ফেলি । তাদের শরীর ছিঁড়ে ফেলি । টুকরো টুকরো করে দেই । খুন চুষে নিই । গোশত খেয়ে ফেলি । আরো শোনো , তার দেহের বাঁধন গুলো খুলে ফেলি । কাঁধ থেকে আলাদা করি হাত । কব্জি থেকে ছিঁড়ে ফেলি বাহু । রানকে হাঁটু থেকে হাঁটুকে উরু থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিই । হযরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজ চুপ করলেন । গভীর বিষাদের ছায়া পড়লো তাঁর চেহারায় । ভিজে উঠলো চোখ । গাল বেয়ে গড়িয়ে নামলো নিরব কান্না । অনেকক্ষণ কাঁদলেন তিনি । অঝোরে । তারপর কান্নাভেজা স্বরে বললেন , ' দুনিয় দু'দিনের । আর এর ছলনা অনেক বেশি । যে এখানে পেয়েছে বেশি সম্মান ওপারে তার হবে অনেক অপমান । আজ এখানে যে ধনী ওখানে দাঁড়াবে সে ফকির হয়ে । এখানের যুবক খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যায় বুড়ো । মৃত্যু লুকিয়ে থাকে এখানে কাছে । পাশেই । হানা দেয় আচমকা । লুটে সেয় প্রাণ । এখানের প্রাণ হারিয়ে যায় শীঘ্যই । এই ধোঁকাবাজের প্রতারণায় পড়ো না । তোমরা দেখছো কতো তাড়াতাড়ি সে মুখ ফিরিয়ে নেয় । সে খুবই বোকা যে তার ধোঁকায় পড়ে যায় । বলো , ওই সব নাম করা রাজা বাদশারা কোথায় ? তারা বড় বড় শহর তৈরি করেছিল । কতো মিষ্টি পানির পুকুর আর ঝর্ণা খুঁড়েছিল । ফুলে ফলে সুশোভিত বাগান আবাদ করেছিল । সুরম্য সব অট্টালিকা আর প্রাসাদ রচনা করেছিল । তার ভেতরে বাইরে সাজিয়েছিল চোখ ঝলসানো পাথর আর রঙ দিয়ে । কে বাস করে আজ সেখানে ? এর স্রষ্টারা আজ কোথায় ? এখানে বাস করে তার উত্তরাধিকার । তাদের পাপ ছুঁয়ে যায় এর মালিককে । এর স্রষ্টারা খুব অল্প ক'দিন ছিল এখানে।

পরবর্তী পোষ্টে দেখুন!

Comments